পবিত্র কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান

পবিত্র কুরআন ও হাদিসের সাথে আধুনিক বিজ্ঞানের মিল দেখলে অনেক নাস্তিকের গাত্রদাহ শুরু হয়। তারা কুরআন ও হাদিসের সাথে বিজ্ঞানের অমিল খোঁজার আপ্রাণ চেস্টা অব্যাহত রাখে। এক নাস্তিক ব্লগে লিখেছে আধুনিক এটমিক (পরমাণু) তত্ত্বের জনক গ্রীক দার্শনিক না কি স্বয়ং আল্লাহ? (নাউযুবিল্লাহ)

তিনি আরো লিখেছেন, আজকের বিজ্ঞান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কোন আবিষ্কার বা কোন জ্ঞানের কাছাকাছি কিছূ বা অংশত কিছু সরাসরি বা ঘুরিয়ে পেচিয়ে যদি কোন ধর্মগ্রন্থে মিলেও যায়- তারপরেও তাকে আজকের বিজ্ঞানের সাথে মেলানো যাবে না, কারণ বিজ্ঞান হতে গেলে একটা সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি লাগে। কোন ধর্মগ্রন্থের ঐ সব মিলকে বিজ্ঞান বলা যাবে না। (নাউযুবিল্লা)

পবিত্র আল কুরআনের ৩৪ নম্বর সূরা ‘সাবা’ এর তৃতীয় আয়াতে আল্লাহ্ তা’আলা পরিস্কারভাবে অণু-পরমাণুর কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন যে- : وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَا تَأْتِينَا السَّاعَةُ ۖ قُلْ بَلَىٰ وَرَبِّي لَتَأْتِيَنَّكُمْ عَالِمِ الْغَيْبِ ۖ لَا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَلَا أَصْغَرُ مِنْ ذَٰلِكَ وَلَا أَكْبَرُ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِين আর কাফিররা বলে, ‘কিয়ামত আমাদের কাছে আসবে না।’ বল, ‘অবশ্যই, আমার রবের কসম! যিনি গায়েব সম্পর্কে অবগত, তা তোমাদের কাছে আসবেই। আসমানসমূহ ও যমীনে অণু পরিমাণ কিংবা তদপেক্ষা ছোট অথবা বড় কিছুই তাঁর অগোচরে নেই, বরং সবই সুস্পষ্ট কিতাবে রয়েছে,এই আয়াতের ভুল ধরতে যেয়ে ওই নাস্তিক (ইউছুফ আলী, পিকথাল ও শাকির) এর ইংরেজী অনুবাদ খুঁজতে গিয়ে দেখেন যে, তিনজনের অনুবাদেই দেখা যায় “atom” শব্দটি বিদ্যমান।

YUSUFALI: The Unbelievers say, “Never to us will come the Hour”: Say, “Nay! but most surely, by my Lord, it will come upon you;- by Him Who knows the unseen,- from Whom is not hidden the least little atom in the heavens or on earth: Nor is there anything less than that, or greater, but is in the Record Perspicuous:

PICKTHAL: Those who disbelieve say: The Hour will never come unto us. Say: Nay, by my Lord, but it is coming unto you surely. (He is) the Knower of the Unseen. Not an atom‘s weight, or less than that or greater, escapeth Him in the heavens or in the earth, but it is in a clear Record,

SHAKIR: And those who disbelieve say: The hour shall not come upon us. Say: Yea! by my Lord, the Knower of the unseen, it shall certainly come upon you; not the weight of an atom becomes absent from Him, in the heavens or in the earth, and neither less than that nor greater, but (all) is in a clear book.

এবারে কি করা যায়? আবারো ইউছুফ আলী, পিকথাল ও শাকির এর সূরা ‘আল-যিলযাল’ অনুবাদে দেখেন:099.007YUSUFALI: Then shall anyone who has done an atom‘s weight of good, see it!
PICKTHAL: And whoso doeth good an atom‘s weight will see it then,SHAKIR: So. he who has done an atom‘s weight of good shall see it099.008YUSUFALI: And anyone who has done an atom‘s weight of evil, shall see it.PICKTHAL: And whoso doeth ill an atom‘s weight will see it then.SHAKIR: And he who has done an atom‘s weight of evil shall see it.

ভালো মুশকিলেই পড়ে গেল! অণু পরিমাণ, পরমাণু বা এটমের ওজনের সমান, রেণু পরিমাণ, ধুলিকণার সমান- কোনটা ঠিক? নাকি সবই? সবগুলো আয়াত ভালো করে পড়ার চেস্টা করলেন। পড়ে মনে হলো- সব অনুবাদই সঠিক। সবগুলোকে সঠিক অবশ্য কেবল তখনই বলা যাবে যখন مِثْقَالُ ذَرَّةٍ শব্দটিকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বা সামান্য পরিমাণে এরকম অর্থে ধরা হবে। অর্থাৎ আয়াতসমূহে উল্লেখিত ‘পরমাণু’ বা ‘অণু’ পরিমাণ মানে পদার্থের গঠন উপাদান “অণু” বা “পরমাণু” বা ‘ধুলি কণা সম’ মানে রাস্তাঘাটের ধুলাবালিও নয়- এটা মানে একদম ক্ষুদ্র পরিমাণ।

এভাবে ধরলে কোন সমস্যাই থাকে না।তাই ভাবলো অভিধানে مِثْقَالُ ذَرَّةٍ শব্দটির কি অর্থ করা হয়েছে? হাতের কাছে ছিল ড. মুহাম্মদ ফজলুর রহমান এর “আধুনিক আরবী-বাংলা অভিধান” বইটা, সেখানে দেখলেন مِثْقَالُ শব্দের অর্থ করা হয়েছে: পরিমাণ বা ওজন, বাটখারা, সামান্য পরিমাণ, বিন্দুমাত্র, রত্তি। আর, ذَرَّة এর অর্থ করা হয়েছে- বিন্দু (ডট), অতি ক্ষুদ্র, শস্যদানা, ক্ষুদ্র কণিকা, বালি কণা। এবং এই ذَرَّة শব্দের অর্থ কখনো কখনো পরমাণুও করা হয়েছে। এত প্রমাণের পরেও ওই নাস্তিক লিখেছেন- যদি ধরে নিই যে- সুরা সাবা’র ৩ নং আয়াতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরমাণুর কথাই বলা হয়েছে, তাহলেও কিছু কথা থেকে যায়:

গ্রীক দর্শনে এটম এর আবির্ভাব। গ্রীক দার্শনিক Leucippus, তার ছাত্র Democritus জানান – বস্তুজগৎ মাত্রই ক্ষুদ্রতম কণিকার সমন্বয়ে গঠিত এবং সবচেয়ে ক্ষুদ্র কণিকার নাম এটম বা পরমাণু বা অবিভাজ্য কণিকা।
ওই সকল নাস্তিকদের উদ্দেশ্যে বলছি; গ্রীক দার্শনিককে সৃষ্টি করেছেন কে? আল্লাহ্! পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন কে? আল্লাহ্! সেই আল্লাহ্ তা’আলাই পবিত্র কুরআনের ৩৬ নম্বর সুরা ‘ইয়া-সীন’ এর দ্বিতীয় আয়াতে বলেন, وَالْقُرْآنِ الْحَكِيم বিজ্ঞানময় কুরআনের শপথ। পবিত্র কুরআনকে তিনি বিজ্ঞানময় কুরআন বলেছেন এবং পরমাণু বিজ্ঞান, মহাকাশবিজ্ঞান, ভ্রুণতত্ত্ব, চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ সমস্ত উদ্ভাবন ও সৃষ্টি রহস্য পবিত্র কুআনে। নিহিত রয়েছে।

এত কিছুর পরেও যদি পরিষ্কার না হয়- তাহলে আর কিছুই করার নেই। চোখের ঠুলি সরাতে এবং অন্তরের কালিমা গুছাতে যদি কেউ না চায় – অন্যের কি সাধ্য?যারা বিবেক ব্যবহার করে আর যারা বিবেক ব্যবহার করে না তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে বলছেন :‎‪…قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَ الْبَصِيْرُ…‬…‘বল, ‘অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান?’.‎إِنَّ شَرَّ الدَّوَابِّ عِنْدَ اللهِ الصُّمُّ الْبُكْمُ الَّذِيْنَ لَا يَعْقِلُوْنَ‘আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম জীব সেই বধির ও মূক যারা কিছুই উপলব্ধি করে না।’আরও বলা হয়েছে :‎وَ مَنْ كَانَ فِيْ هٰذِه أَعْمَى فَهُوَ فِى الْآخِرَةِ أَعْمَى وَ أَضَلُّ سَبِيْلًا‘আর যে ব্যক্তি এখানে অন্ধ সে আখিরাতেও অন্ধ এবং অধিকতর পথভ্রষ্ট।এমনকি তাদের পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট বলা হয়েছে :‎‪…لَهُمْ قُلُوْبٌ لَّا يَفْقَهُوْنَ بِهَا وَ لَهُمْ أَعْيُنٌ لَّا يُبْصِرُوْنَ بِهَا وَ لَهُمْ آذَانٌ لَّا يَسْمَعُوْنَ بِهَا أُولَائِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَائِكَ هُمُ الْغَافِلُوْنَ‬…‘তাদের হৃদয় আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ আছে, তা দিয়ে দেখে না এবং তাদের কান আছে, তা দিয়ে শোনে না, এরাই পশুর ন্যায়, বরং তারা তার চেয়েও নিকৃষ্ট। তারাই গাফেল।মহান আল্লাহ্ বলছেন :‎‪…فَإِنَّهَا لَا تَعْمَى الْأَبْصَارُ وَ لكِنْ تَعْمَى الْقُلُوْبُ الَّتِيْ فِي الصُّدُوْرِ‬…‘বস্তুত চোখ তো অন্ধ নয়, বরং অন্ধ হচ্ছে বক্ষস্থিত হৃদয়।’

মোহাম্মাদ আবদুল মতিন

সিডনি, অস্ট্রেলিয়া

মাল্টিকালচারাল সোসাইটি ক্যাম্বেলটাউনের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষনা

মাল্টিকালচারাল সোসাইটি অব ক্যাম্বেলটাউনের (ইনক)-এর বার্ষিক সাধারণ সভা এনাম হকের সভাপতিত্বে ১২ জানুয়ারি (রবিবার) সিডনির মিন্টোতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতির অনুমোদনক্রমে মো: সফিকুল আলম সফিক বার্ষিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এবং সৈয়দ আকরাম উল্লাহ আর্থিক আয় আয় ব্যয় বিবরণী উপস্থাপন করেন। আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে প্রতিবেদন দুটি গৃহীত হয়।

সভাপতির অনুমোদনক্রমে মো: সফিকুল আলম সফিক কর্তৃক আনীত সংবিধান সংশোধনী সংক্রান্ত মোশন বিস্তারিত আলোচনা শেষে  ড: হায়দার আলী এবং পারভেজ খান আনিত সংযোজন এবং বিয়োজন প্রস্তাব রেখে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। সভায় অস্ট্রেলিয়ার বুশফায়ার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তহবিল সংগ্রহের ব্যাপারে এক্সিকিউটিভ কমিটির সভায় পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভার সভাপতি  এনাম হক আহবায়ক কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করেন কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচনের জন্য রিটার্নিং অফিসার ফয়েজ আহমেদকে অনুরোধ করে দায়িত্ব অর্পণ করেন। নির্বাচন কমিশনার সংবিধান অনুসরণ করে দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচনী কার্যক্রম শেষ করে আগামী চার বছরের জন্য মাল্টিকালচারাল সোসাইটি অব ক্যাম্বেলটাউনে (ইনক) এর নিম্নলিখিত কার্যনির্বাহী কমিটি  ঘোষণা করেন:

সভাপতি: এনাম হক
সিনিয়র সহ-সভাপতি: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম(বাংলাদেশ কমিউনিটি)
সহ-সভাপতি: পারভেজ খান(পাকিস্তান কমিউনিটি)
সহ-সভাপতি: টুঙ্গানাথ খারেল(নেপালী কমিউনিটি)
সহ-সভাপতি: করমজিত সিং(ইন্ডিয়ান কমিউনিটি)
জেনারেল সেক্রেটারী: মো: সফিকুল আলম সফিক
জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারী: আসমা আলম কাশফি 
অরগানাইজিং সেক্রেটারী: আশিকুর রহমান এ্যাশ
ট্রেজারার: সৈয়দ আকরাম উল্লাহ
পাবলিক রিলেশন্স, প্রেস এন্ড পাবলিকেশনস্ সেক্রেটারী: আউয়াল খান
সোস্যাল ওয়েল ফেয়ার সেক্রেটারী: সেলিম কবির
এক্সিকিউটিভ কমিটি মেম্বারস্:
* মাসুদ চৌধুরী
* ড: হায়দার আলী
* এম এ সোবহান
* শিবলি আব্দুল্লাহ

দাবানলে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তায় সিডনিতে তহবিল সংগ্রহের উদ্দোগ

সাম্প্রতিককালে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অংগ রাজ্যে ভয়াবহ দাবানলের তান্ডব প্রভাবে ক্রান্তিকালের এক জাতীয় সংকট সৃষ্টি হয়েছে। দাবানলের ভয়াবহতায় অসংখ্য প্রাণ সহ বাড়ীঘড় এবং প্রায় এক বিলিয়নের উপরে পশু পাখীর প্রান হারিয়েছে।

এই  ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তার জন্য সাউথ ওয়েষ্ট সিডনির বাংলাদেশী কমিউনিটি একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্দোগ গ্রহন করেছে। গত ৫ জানুয়ারী (রবিবার) মিন্টুস্থ নওয়াব রেস্তোরায় একসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে ডঃ নিজাম উদ্দিন আহমেদকে আহবায়ক করে বিভিন্ন সাবার্বের নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় তহবিল সংগ্রহের আকুল আবেদন জানানো হয়।

এই ধারাবাহিকতায় গত ১২ জানুয়ারী (রবিবার) বিকেল ৬ টায় নওয়াব রেস্তোরায় এর অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপত্বিত করেন ডঃ নিজাম উদ্দিন আহমেদ। সভার শুরুতে আবুল সরকার বিগত এক সপ্তাহের অগ্রগতি তুলে ধরে উপস্থিত সকলকে তাদের মতামত ও পরামর্শ প্রদানের অনুরোধ করেন। বক্তব্য রাখেন রফিক উদ্দিন, ডঃ খাইরুল চৌধুরী, আমীর আজম সরদার, সাদিকুর খান মুন,  খালিদ শুভ, আশফাকুর রাহমান, ইকবাল জুয়েল, ইসমাইল মিয়া, সিরাজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। 

 সবার আলোচনার প্রেক্ষিতে  সিন্ধান্ত সুমুহের মধ্যে রয়েছে, উত্তোলিত তহবিল আরএফএস ( Rural Fire Service) তহবিলে প্রদান করা হবে। আবুল সরকারকে একটি গো ফান্ড আ্যকাউন্ট করার অনুমতি প্রদান করা হয়। ডঃ খাইরুল চৌধুরীকে একটি ফেসবুক ইভেন্ট অ্যাকাউন্ট তৈরি করে প্রচার করার জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সর্বসন্মতিক্রমে আবুল সরকারকে  তহবিলের মানি রিসিপ্ট এবং তহবিল হিসাব রাখার দায়িত্ব প্রদান করা হয়। রফিক উদ্দিন এবং শাহাদাৎ হোসেনকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তহবিল সংগ্রহের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার দায়িত্ব প্রদান করা হয়। আবুল সরকার উপস্থিত সকলকে বিনীতভাবে সাহায্যের আহবান জানালে তাৎক্ষিকভাবে ২,৬০০ ডলার উত্তোলন করা হয়।

সবশেষে ডঃ নিজাম সকলকে সার্বিকভাবে সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি সভায় তাদের মূল্যবান সময় ব্যয় করে আসার জন্য উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।