কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া শাখার বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

গত ১৭ নভেম্বর (রোববার) কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া শাখা সিডনির স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে তাদের বার্ষিক সাধারণ সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া শাখার সভাপতি কৃষিবিদ ডঃ আব্দুস সাদেক। সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ পরমেশ ভট্টাচার্য’র সঞ্চালনায় সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ কৃষিবিদ এম আমিনুল ইসলাম।

সভার শুরুতেই প্রয়াত কৃষিবিদদের স্মরণে শোক প্রস্তাব পাঠ করে তাঁদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সম্প্রতি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ এর  সভাপতি কৃষিবিদ এম, এম সালেহ এবং কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ এর সাবেক মহাসচিব কৃষিবিদ জাভেদ ইকবাল এর স্মরনে স্মৃতিচারণ করা হয়। কৃষিবিদ সালেহ এর সতীর্থ বন্ধু কৃষিবিদ মাহবুবুর রহমান পাটোয়ারী, কৃষিবিদ ডঃ মঞ্জুর হামিদ কচি বিস্তারিত ভাবে আলোচনায় তুলে ধরেন।

সফররত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত কোষাধ্যক্ষ কৃষিবিদ এম আমিনুল ইসলাম আনন্দের সাথে জানান যে, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যালয়ের সভা কক্ষটি  প্রয়াত কৃষিবিদ সালেহ এর স্মৃতি রক্ষার্থে তাঁর নামে নামকরন করা হয়েছে। উপস্থিত সকলেই এই উদ্যোগ কে সাধুবাদ ও স্বাগত জানিয়ে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় কমিটি কে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে।

শরীয়তপুর জেলাবাসী অষ্ট্রেলিয়া’র বার্ষিক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উদযাপিত

গত ১৭ নভেম্বর (রবিবার) সন্ধ্যায় লাকেম্বা পাবলিক লাইব্রেরী হলে স্থানীয় শরীয়তপুর বাসীদের উপস্হিতিতে আনন্দ ও উল্লাসের মধ্য দিয়ে প্রথম বারের মত বাৎসরিক নৈশ ভোজ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উদযাপিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলোওয়াত, বাংলাদেশ ও অষ্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর সদ্য প্রয়াত স্বপন দেওয়ানের  বাবা, কেয়া নুরের মা এবং নিরুপমার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মাসুম দেওয়ান, পলাশ হক, আসমা আলম ও সিরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে ফারিয়া আহমেদ, রুনু রফিক, সুলতানা নুর ও সুজন মনমুগ্ধকর গান পরিবেশন করে। ছোট্ট সোনামনিদের জন্য ফেইস পেন্টিং, ফেয়ারী ডান্স, কবিতা আবৃতি ও লোকগীতি সহ আধুনিক গান পরিবেশিত হয়। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্হ ‘শরীয়তপুর জেলা সমিতি’র সভাপতি আনিস উদ্দিন মিয়া। প্রধান অতিথ তার বক্তব্যে শরীয়তপুর জেলার কৃষ্টি ও ঐতিহ্য বিশদভাবে তুলে ধরে ১৯৮৪ সালে ইতিহাস খ্যাত ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়ত উল্লাহর নামে ৬ টি উপজেলার সমন্বয়ে নুতন জেলা শরীয়তপুর স্থাপনের প্রেক্ষাপট ও বর্ননা করেন। সুদুর প্রবাস অষ্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত শরীয়তপুর বাসীদের এক্যবদ্ধ্য হয়ে পারস্পরিক কল্যানে অত্র সংগঠন গড়ে তোলায় উপস্হিত শরীয়তপুর জেলাবাসীদের তিনি অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। 

সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার সার্বিক সহযোগীতায় ছিলেন বেলায়েত হোসেন, মোঃ আলী সিকদার, নুরুল হক মিলন, মাসুম দেওয়ান, আবু বক্কর, পলাশ হক, সিরাজুল ইসলাম, শরীফ আহমেদ, স্বপন দেওয়ান, শফিক সেখ, আসমা আলম প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্বাবধায়ন ও পরিকল্পনায় ছিলেন অত্র সংগঠনের কো-অর্ডিনেটর রফিক উদ্দিন।

এএমডব্লিওসি সানডে ইসলামিক স্কুলের বার্ষিক শিক্ষা প্রতিযোগিতা ২০১৯

অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার (এএমডব্লিওসি) কর্তৃক পরিচালিত এএমডব্লিওসি সানডে ইসলামিক স্কুলের বার্ষিক শিক্ষা প্রতিযোগিতা ২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়। বার্ষিক এ প্রতিযোগিতায় স্কুলের বিপুল ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহন করেন। সানডে মাদ্রাসা প্রতি রবিবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কুরআন ও ইসলামিয়াত অত্যন্ত অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকা দ্বারা পরিচালিত হয়। এএমডব্লিওসি এর এডুকেশন ও ইয়ূথ এফেয়ার সম্পাদক জনাব গোলাম মোস্তফা দায়িত্ব দেয়ার পরই নতুন আঙ্গিকে স্কুল পরিচালনার পরিকল্পনা নেন। সে অনুযায়ী অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকা নেয়া হয়েছে।  এ বৎসর ছাত্র-ছাত্রীর বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক। ক্লাশ বা লেবেল ভিত্তিক অনুযায়ী কুরআন তেলওয়াত, ইসলামিক ষ্টাডিস ও তাজওহীদ বিষয়ে বার্ষিক প্রতিযোগিতা হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন মিন্টো মসজিদের পেশ ইমাম শেখ শহীদ, এএমডব্লিওসি এর সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, স্কুলের প্রিন্সিপাল গোলাম মোস্তফা, স্কুলের শিক্ষক রফিক ভূঞা ও মো. ফকরুল ইসলাম।

বিচারকদের সহায়তা করেন ষ্কুলের শিক্ষক- শিক্ষিকাবৃন্দ শাইয়ার শাহ শাহেদ, শালিনী শাহ, আবরার চৌধুরী, মেহনাজ ইকবাল, নাইম মোস্তফা, সাদাব হোসেন ও সাজেদুর প্রান্ত।  বার্ষিক প্রতিযোগিতায় স্কুলের অভিভাবক সহ সংগঠনের কার্যকরী পরিষদের সদস্যসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিল জনাব মাসুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।  পুরষ্কার বিতরন করেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক ড. আনিছুল আফছার, মিন্টো মসজিদের পেশ ইমাম শেখ শহীদ, স্কুলের প্রিন্সিপাল গোলাম মোস্তফা।  প্রতিযোগিতার তত্বাবধানে ছিলেন মহিউদ্দিন উল হক ও এ কে এম জামান। দুপুরের নামাজের পর বারবিকিউ  এর মাধ্যমে শিক্ষাথী ও অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়।

বিজয়ীরা হলেন -কুরআন তেলওয়াত (লেবেল-ওয়ান ১) প্রথম- নওয়া ভূঞা, দ্বিতীয়-সুমাইতা খান তৃতীয়-সাইয়ান। কুরআন তেলওয়াত (লেবেল-টু) প্রথম-আয়েশা ইমরান, দ্বিতীয়-জুনাইয়াহ জামান, তৃতীয়-নাডিড রহমান। কুরআন তেলওয়াত (লেবেল-থ্রি) প্রথম-সাফির হুসেন, দ্বিতীয়-আয়াত ভূঞা, তৃতীয়-সুহানা মুকিব। কুরআন তেলওয়াত (লেবেল-ফোর) প্রথম-আরিশা হক দ্বিতীয়-অদ্রিতা ভূঞা, তৃতীয়-আইমন হক। ইসলামিক ষ্টাডিস (লেবেল ওয়ান) প্রথম-রায়িড মোরশেদ, দ্বিতীয়-জাকারিয়া হুদা, তৃতীয়-সুমাইতা খানক।  ইসলামিক ষ্টাডিস (লেবেল টু) প্রথম-সাবরিন ইসলাম, দ্বিতীয়-আইডিন ভূঞা, তৃতীয়-রাজিয়া জেবিন। ইসলামিক ষ্টাডিস (লেবেল থ্রি) প্রথম-আরিশা হক ও সাকিব রশিদ, দ্বিতীয়-মাহিন মান্নান, তৃতীয়-তাসনিম হুশেন। তাজওহীদ (লেবেল ফোর) প্রথম-আরিশা হক,  দ্বিতীয়-আইয়েনা রহমান, লাবিব, সাফিন, তৃতীয়-অদ্রিতা ও সাবরিন।

উল্লেখ্য যে, সাউথ ইষ্ট এর ক্যাম্নেলটাউন সিটি কাউন্সিলস্থ মিন্টোতে মাল্টিপারপাস ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার তৈরীর জন্য জমি ক্রয় করা হয়েছে। সম্প্রতি কমিউনিটি সেন্টার গড়ে তোলার জন্য সিটি কাউন্সিলের অনুমোদন নেয়া হয়েছে। যা শীঘ্রই প্রজেক্টের কাজ শুরু হবে।

অষ্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার এর কোন ভেরিফাইড ফেসবুক নেই

সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আতিকুর রহমান জানান যে, অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টারের এখনও কোন ভেরিফাইড ফেসবুক একাউন্ট নেই। সম্প্রতি কেহ কেহ বেনামে সংগঠনের নামে ফেসবুক আইডি খুলে বিভিন্ন প্রচারের কাজ করে যাচ্ছে যা সম্পূন বেআেইনী। এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে প্রচার সম্পাদক।

সবুজ বাংলা বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী শুরু হয়েছে

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টারের নিজস্ব জায়গায় সবুজ বাংলা বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী নেয়া হয়েছে। সংগঠনের যুগ্ন সম্পাদক সাদেকুর রহমান মুন ও কোষাক্ষ্য জাহিরুল ইসলামের তত্বাবধানে এ বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জাতের আম, কাঠাল, ফিক, দেশী জাম ও জামবুরা, লাউ, চকু, মিষ্টি কুমড়াসহ বৃক্ষ রোপন করা হয়েছে। কমিউনিটির অনেক সদস্য এ ধরনের প্রকল্পকে প্রসংশা করেছে এবং সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। যে কেহ এ প্রকল্পে সহায়তা করতে পারেন এবং সাদেকুর রহমান মুন ও জাহিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।