সিডনিতে অস্ট্রেলিয়া যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠিত

গত ১৬ নভেম্বর (শনিবার) সন্ধ্যায় অস্ট্রেলিয়া যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয় একটি ফাংশন সেন্টারে শুভানুধ্যায়ী মিলন মেলার আয়োজন করা হয়। মিলন মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বানিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সী এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সুফিউর রহমান।

অস্ট্রেলিয়া যুবলীগের সভাপতি মোস্তাক মেরাজের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারন সম্পাদক অপু সরোয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বানিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সী এমপি বলেন, ভারত হঠাৎ করে পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধ করে দেয়ায় দাম অতিরিক্ত বেড়ে গেছে। আমাদের পেঁয়াজের চাহিদা ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ মেট্রিক টন। যার মধ্যে ২২ লক্ষ মেট্রিক টন দেশেই উৎপাদন হয়। কিন্তু যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে ২ থেকে ৫ লক্ষ মেট্রিক টন নষ্ট হয়ে যায়। ফলে প্রায় সাত লক্ষ মেট্রিক টন ঘাটতি থেকে যায়। অতীতে সেই পেঁয়াজের জন্য আমরা কেবলমাত্র ভারতের উপর নির্ভরশীল ছিলাম। তারা হঠাৎ করেই রপ্তানি বন্ধ করে দেয়।

মন্ত্রী আরও জানান, পেয়াজ রপ্তানীর সিদ্ধান্তের সময় তিনি ও প্রধানমন্ত্রী দুজনই দিল্লীতে ছিলেন। তারা ভারত সরকারকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ না করার জন্যও বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলেন। তারা আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছিল আপাতত যেগুলো এলসি খোলা হয়েছে তা রপ্তানী হবে এবং পরে মহারাষ্ট্রের নির্বাচনের পরে রপ্তানী বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে। কিন্তু সেটা না করায় দেশে পেঁয়াজের সঙ্কট দেখা দেয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সুফিউর রহমান, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ডাঃ আবুল হাসনাত মিলটন, যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আল নোমান শামীম, অস্ট্রেলিয়া যুবলীগের সহ সভাপতি নিম তালুকদার, এমদাদ হোসেন প্রমুখ। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা এনাতুর রহমান বেলাল, এলিজা আক্তার টুম্পা, মহিউদ্দিন মুহি, আলি আশরাফ হিমেল, ওবায়দুর রহমান , বীর খান সহ অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। মিলন মেলা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশ ভোজের মাধ্যমে শেষ হয়।

জেলহত্যা দিবসের আলোচনা সভা করেছে আওয়ামীলীগ অস্ট্রেলিয়া

গত ১৬ নভেম্বর (শনিবার) দুপুরে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ অস্ট্রেলিয়া জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে সিডনির একটি ফাংশন সেন্টারে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। এই সভায় সফররত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি, এমপি প্রধান অতিথি এবং অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সুফিউর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়া’র সভাপতি সিরাজুল হক এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক পিএস চুন্নুর সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠানে ৩ নভেম্বরে শহীদ মহান চার জাতীয় নেতার প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় এই সম্মানিত চার নেতা বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছেন এবং দেশের প্রতি ছিলো তাদের সীমাহীন ভালোবাসা। তিনি আরো বলেন, ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের ঘাতকরা একই সুঁতোয় গাঁথা, তারা চেয়েছিলো মহান নেতাদের হত্যা করলে তাঁদের আদর্শও হত্যা করা যাবে। কিন্তু এটা প্রমাণিত হয়েছে মহান আদর্শ কখনও হত্যা করা যায় না।

বিশেষ অতিথি হিসাবে রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন সারা দুনিয়ায় একটি জোয়ার আনতে পেরেছে। চার নেতার হত্যা বঙ্গবন্ধু হত্যার ধারাবাহিকতা এবং স্বাধীনতার চেতনাকে মুছে ফেলাই ছিল এই হত্যার মূল উদ্দেশ্য।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিরাজুল হক বলেন, হত্যা করে সব সময় মেরে ফেলা যায় না। তার প্রমাণ আজকের এই দিনটি।এই মহান চার নেতার প্রতি আমাদের এই শ্রদ্ধা নিবদেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়া, সিডনি শাখার সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান চার নেতার জীবন ও আদর্শ ছিলো এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে অটুট। তাঁদের আত্মত্যাগের মহিমায় জাতি হিসেবে আমরা মহিমান্বিত এবং তাদের আদর্শায়িত পথে আওয়ামী লীগের রাজনীতি। আজকের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক আমরা যেনো তাঁদের আদর্শ থেকে সরে না যাই।

ম্যাকুইরি ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ডক্টর রফিকুল ইসলাম জাতীয় চার নেতার প্রতি সন্মান জানান এবং প্রয়াত জাতীয় নেতা কামরুজ্জামানের পরিবারের সাথে সখ্যতার কথা তুলে ধরে আরও বলেন, দুর্নীতি এড়াতে পারলে সরকারের উন্নয়ন আরো টেকসই হতো। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মোল্লা, বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের পারভীন খায়ের প্রমুখ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়া’র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান কচি, মোহাম্মদ আলী সিকদার, একেএম হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোসলেউর রহমান খুসবু, এসএম দিদার হোসেন, আইন সম্পাদক রিজভী শাওন, কোষাধক্ষ্য মোহাম্মদ আশরাফুল আলম লাবু, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক আবুল বাশার রিপন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, সিডনি শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্মল কস্তা, সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন লাল্টু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক  মুশফিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রোহান, সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম, মো. জাহিদ হোসেন, জুয়েল হাওলাদার, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক বকুল খান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ অস্ট্রেলিয়া’র সভাপতি জাকারিয়া আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।