সিডনিতে তিনদিন ব্যাপি অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ ট্রেড কনফারেন্স শুরু

আজ ১৩ নভেম্বর (বুধবার) থেকে সিডনির ১১৭ ম্যাকুরি স্ট্রিটস্থ ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলে বাংলাদেশ হাইকমিশন অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ ট্রেড কনফারেন্স শুরু হয়েছে। বিকেল সাড়ে ছয়টায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার ভূমি মালিক আদিবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফার্স্ট সেক্রেটারি মিসেস তাহলীল দেলোয়ার মুন। অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মান্যবর হাইকমিশনার সুফিউর রহমান স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে তিনদিন ব্যাপি এই ট্রেড কনফারেন্স শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী জনাব টিপু মুন্সী।

হাইকমিশনার অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের বর্তমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক, উন্নয়ন পরিকল্পনা, ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১ এর উপর বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন। পাশাপাশি ট্রেড কনফারেন্সের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসহ বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া’র দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্কের ইতিহাস তুলে ধরে ট্রেড কনফারেন্সটি এযাবৎ কালের সর্ববৃহৎ এবং বর্তমান সরকার প্রধান শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক কুটনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই সময় বাংলাদেশ সরকারের অধীনে ব্যাপক উন্নয়নের উপর পাঁচ মিনিটের একটি ভিডিও চিত্র দেখানো হয়।

এই ট্রেড কনফারেন্সে ৩৯ সদস্যের বাংলাদেশের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলও অংশগ্রহণ করছেন। অনুষ্ঠানে নিউ সাউথ ওয়েলস প্রিমিয়ারের প্রতিনিধি মার্ক কুরী এমপি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অস্ট্রেলিয়ায় বাঙলাদেশী কমুনিটির ভূয়সী প্রশংসা করেন ও অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধিতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সদিচ্ছার কথা ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে রাতের খাবার পরিবেশন করা হয়।

এই ট্রেড কনফারেন্সটি অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় রুপান্তরিত করবে বলে স্থানীয় বাংলাদেশী প্রবাসীরা আশা প্রকাশ করছেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী সিডনি এসে পৌঁছেছেন

গতকাল ১২ নভেম্বর (মঙ্গলবার) রাতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ ট্রেড কনফারেন্স এবং নিউ জিল্যান্ডের বাণিজ্য ও রফতানি প্রবৃদ্ধি বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সভায় যোগ দিতে সিডনি এসে পৌঁছেছেন। মন্ত্রীর সাথে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ ট্রেড কনফারেন্সে যোগদানের জন্য ৩৯ সদস্যের বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলও রয়েছেন। সিডনি বিমানবন্দরে আওয়ামীলীগ অস্ট্রেলিয়া, অঙ্গসংগঠন ও ট্রেড কনফারেন্সর নেতৃবৃন্দ মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

সিডনিতে আজ ১৩ নভেম্বর থেকে এই ট্রেড কনফারেন্স শুরু হয়ে আগামী ১৬ নভেম্বর শেষ হবে। এছাড়াও সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী আগামী ১৭ থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্য ও রফতানি প্রবৃদ্ধি বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতের উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আমদানি-রফতানির সম্প্রসারনে অনুষ্ঠিতব্য অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ ট্রেড কনফারেন্স এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ ৮শ’ চার দশমিক ৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে। একই সময়ে ৫শ’ ছিয়ানব্বই দশমিক ৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বাজারে বাংলাদেশের আরও অনেক বেশি পণ্য রফতানির সুযোগ রয়েছে। সূত্রটি আরও জানায়, নিউজিল্যান্ডেও বাংলাদেশের পণ্য রফতারির প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। গত অর্থবছরে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশ ৯১ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে। এই সময়ে ২৪১ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে।

তাই বাংলাদেশের সামগ্রিক আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রীর এ সফরের মাধ্যমে উভয় দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সুযোগ ও মাত্রা যোগ হবে।