মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সাথে মেলবোর্ন প্রবাসী গবেষক ও শিক্ষাবিদদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মোঃ আশরাফ আলী খান খসরু এমপি মহোদয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গত ৩০অক্টোবর থেকে ২নভেম্বর ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত মেলবোর্ন সফরকালে গত পহেলা নভেম্বর ২০১৯ মেলবোর্ন আওয়ামীলীগের উদ্যোগে বেশ কয়েকজন গবেষক ও শিক্ষাবিদ মাননীয়প্রতিমন্ত্রীর সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

পরিবেশ ও মৎস্য বিশেষজ্ঞ এবং  মেলবোর্ন পলিটেকনিকের শিক্ষক ও গবেষক ড. সাদিক আওয়াল তার মত প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন যে অস্ট্রেলিয়াসহ সারা বিশ্বে লবনাক্ততা বৃদ্ধির কারণে ভূমি ও মাটির উর্বরতা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এর জন্যে মুলত মানুষের কর্মকান্ডই দায়ী। বাংলাদেশে ম্যানগ্রোভ ধ্বংসের চিহ্ন আরো ব্যাপক। তার প্রমাণ সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার জেলাগুলোর চিংড়ি চাষের এলাকাগুলোয় সুস্পষ্ট।লবনাক্ততা মাটির নিজস্ব উর্বরতা চিরতরে শেষ করে ফেলেছে। কোনো কারণে যদি এই ভূমিগুলোতে চিংড়িচাষ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে এই ভূমিগুলোতে ধান, পাট বা আবাদী ফসলসহ কোনো কিছুই জন্মানো সম্ভব হবে না।

ড.সাদিকুল আওয়াল লবনাক্ততা বৃদ্ধির কারণে মির নিজস্ব উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাওয়ার একটা সহজ সমাধান গবেষণা করে বের করেছেন। তার বেশকিছু গবেষণার ভিতর উল্লেখযোগ্য একটি গবেষণা হল “Reclamation of salt affected lands and changing the unproductive lands into highly productive resources” । তিনি বলছেন,  অনেক কিছুতেই ব্যাপক পরিবেশ সমস্যা সংক্রান্ত সমাধান “Algal Technology” দিয়ে সম্ভব। Algal Technology দিয়েই অত্যন্ত সাধারনভাবে তিনি দেখিয়েছেন উচ্চ লবনাক্তর মাটির লবনাক্ততা ও শুন্যের কাছাকাছি নিয়ে আনা সম্ভব। সেইসাথে মাটি তার নিজস্ব উর্বরতা ও উদপাদনশীলতা ফিরে পাবে । মাটির পুষ্টিমান কোনোরকম সার বা কেমিক্যাল প্রয়োগ ছাড়াই অনেক উচ্চস্তরে পৌছে যাবে। মাটি হবে অত্যন্ত উর্বর যেমন ছিল বহূবছর আগে।প্রতিমন্ত্রী মহোদয় ড.সাদিকুল আওয়ালের গবেষণার প্রতি উৎসাহের সাথে আগ্রহ প্রকাশ করেন ও তার গবেষণার উপর একটি প্রেজেন্টেশন বাংলাদেশ গিয়ে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই গবেষণা দেশের কল্যাণে অবদান রাখবে।

মেলবোর্ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. মাহবুবুল আলম একজন ভৌগলিক তথ্যপ্রযুক্তি (Geographic Information Systems-GIS)-বিদ ও গবেষক হিসেবে অস্ট্রেলিয়াতে তার প্রায় দুই দশক কাজের  অভিজ্ঞতা  উল্লেখ করে বলেন অস্ট্রেলিয়া সহ পৃথিবীর প্রায় সব উন্নত দেশ ভৌগলিক তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে জমি ডিজিটাইজেশন ও ডাটাবেজ  তৈরি করে থাকে  যেখানে জমির সমস্ত তথ্য  ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।  যার ফলে  সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ জমি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য ও নকশা  ডিজিটাল পদ্ধতিতে উদঘাটন করতে পারে।তিনি বলেন, এভাবে ভৌগলিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভূমি সংক্রান্ত অনেক জটিল সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।শুধু তাই নয়, এতে জমিজমা-সংক্রান্ত  জটিলতা ও  দুর্নীতি অনেকাংশে হ্রাস পাবে  বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আলোচনা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও শিক্ষকবিশিষ্টপ্রান-পরিসংখ্যানবিদ এবং মেলবোর্ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্জ মোল্লা মোঃ রাশিদুল হক।তিনি বাংলাদেশের মৎস্য গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলের সমকক্ষ করার লক্ষ্যে সর্বাধুনিক পরিসংখ্যান পদ্ধতি ব্যাবহারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন ও এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

প্রতিমন্ত্রী প্রবাসে কর্মব্যস্ততার মাঝেও বাংলাদেশের রাজনীতিও সংস্কৃতি ধরে রাখার জন্য তিনি মেলবোর্ন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ দেন।  তিনি প্রবাসী গবেষক ও শিক্ষাবিদগনকে গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের  গবেষণা ও শিক্ষাক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশকে সাধুবাদ জানান।

এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রতিমন্ত্রীরস্ত্রী ও নেত্রকোনা জেলা মহিলা আওয়ামীলীগ সভাপতি কামরুন্নেসা আশরাফ (দিনা), এপিএস ঝন সাহা, বাংলাদেশ ফিসারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডিজি ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ ইনামুল হক ও ড. মোঃ শাহ আলী, পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের উপসচিব মোঃ খোরশেদ আলম, ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শাহনুর জাহেদুল হাসান ছিলেন সহ আরও অনেকে।

# প্রেস রিলিজ

সিডনিতে জেলহত্যা দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠিত

গত ৩ নভেম্বর (রবিবার) সন্ধ্যা সাতটায় জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এনায়েতুর রহিম বেলালের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আলোকের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন মহিউদ্দিন, আরিফুর রহমান, নোমান শামীম, ওবায়দুল হক, খালিদ হাবিব, তৌহিদুর রহমান সজিব, নাজিউল করিম খান আকিব, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ মুনীর হোসেন, নুরউদ্দিন, জমির আহমেদ, আইভি রহমান, জাকির প্রধানীয়া, সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ, আইনজীবী নির্মল তালুকদার, এমদাদ হক প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চারনেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা এবং জেলহত্যা বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়, বরং পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডসমূহের মধ্য দিয়ে খুনী মোশতাক-জিয়া চক্র বাংলাদেশকে পাকিস্তানী ধারায় ফিরিয়ে নেবার, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতাকে ব্যর্থ করার অপচেষ্টা করেছিল। সময়ের পরিক্রমায় আজ সত্য প্রকাশিত, ইতিহাসের আস্তাকুড়ে ঘাতক মোশতাক-জিয়া নিক্ষিপ্ত। আজ উইকিপিডিয়া, গুগুলে খুঁজলেও প্রকৃত ইতিহাস জানা যায়। জাতীয় চার নেতা জেলখানায় জীবন দিয়ে দেশ, দল ও নেতৃত্বের প্রতি তাদের আনুগত্যের প্রমান দেন। আজকের প্রেক্ষিতে, শেখ হাসিনার পাশেও আজ একাধিক বিশ্বস্ত নেতার প্রয়োজন। বিশ্বায়নের যুগে আমরা অস্ট্রেলিয়া থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাবো।

বাংলাদেশের চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বক্তারা বলেন, দেশের মত প্রবাসের আওয়ামী লীগেও শুদ্ধি অভিযান প্রয়োজন। অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের নামে আদম পাচার, হুণ্ডি, রোহিঙ্গা ভিসা কেলেংকারি, ক্যাসিনোসহ নানান অপকর্মে জড়িত দুর্বৃত্তদের দল থেকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রতি জোরালো দাবী জানান।