সিডনিতে সরকারি উদ্যোগে দীপাবলী উদযাপিত

শতদল তালুকদারঃ সিডনিতে সরকারি উদ্যোগে উদযাপন করা হলো দীপাবলীর অনুষ্ঠান। কাম্বারল্যান্ড সিটি কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে ২৬ অক্টোবর (শনিবার) ওয়েন্টওয়ার্থভিলের স্টেশন স্ট্রীটে আয়োজন করা হয় এ আলোর উৎসব দীপাবলী। তাই এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত প্রবাসীরা মেতে উঠেছে মহাসমারোহে। 

পরম্পরা, রীতি-নীতি, প্রথা মেনে অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য শহরের ন্যায় সিডনি সেজে ওঠে উৎসবের রঙিন আলোয়। আতসবাজির রোশনাই, সঙ্গীত, কত্থক, ভরতনাট্যম— ছন্দের তালে তালে সন্ধ্যার পরিবেশ হয়ে ওঠে বর্ণময়। নবীন-প্রবীণের মেলবন্ধনে সকলের মন ছুঁয়ে যায়। দেশি-বিদেশির একতায় দীপাবলির সিডনিতে অনন্য এক ছবি তৈরি হয়।

হিন্দু পুরাণ মতে, কালী দেবী দুর্গার অপর আরেকটি একটি শক্তি। সংস্কৃত ভাষার ‘কাল’ শব্দ থেকে কালী নামের উৎপত্তি। কালী পূজা হচ্ছে শক্তির পূজা। দেবীপক্ষের শেষে অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে উমা মর্তে আর্বিভূত হয়েছিলেন। তিনি পূজিত হন কখনও শ্যামা রূপে, কখনও বা কালী রূপে । জগতের সকল অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভশক্তির বিজয়ের মধ্যেই রয়েছে কালীপূজার মাহাত্ম। 

দীপাবলী হল অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাওয়ার উদ্‌যাপন। বিশ্বের বহু সংস্কৃতি এখানে একত্রিত হয়ে গিয়েছে। সবাইকে বিনোদনে, ভালবাসা, আলোয় রাঙিয়ে দিতেই দীপাবলির আয়োজন হয়ে থাকে । জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে তাই এবারের উত্সবে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। 

দীপাবলির সন্ধ্যায় আতসবাজির প্রদর্শনের পাশাপাশি ছিলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান । সেখানে শুধু  সঙ্গীত ও নাচই ছিল না; ছিলো রামায়ণের আখ্যান – যার মিশ্রণে তৈরি হয় এক মোহনীয় পরিবেশ। এবারের দীপাবলী উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন, বিরোধী দলীয় প্রধান অ্যান্থনি আলবানিস, এনএসডাব্লিউ রাজ্যের প্রিমিয়ার গ্লাডিস সহ আরো অনেকে শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন।