সিডনিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শোক দিবস পালিত

শতদল তালুকদার: অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা আজ রবিবার (২০ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শোক দিবস পালন করে। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যিক রাজধানী সিডনির ওয়েন্টওয়ার্থভিলের ব্যারন কমিউনিটি সেন্টারে প্রবাসীদের নিয়ে শোক দিবসের আবহে এ দিনটি স্মরণ করা হয়। 

১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলের টিভি রুমের ছাদ ধসে ৪০ জন শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও অতিথির মর্মান্তিক মত্যু হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ দিনটিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস ঘোষণা করে । 

অনুষ্ঠানের শুরুতে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা এক মিনিট নিরব প্রার্থনা করা হয় । এরপর ভক্তিগীতি ও কোরাস গেয়ে উক্ত ঘটনার তাৎপর্য ফুঁটিয়ে তোলা হয়।  সংগীত পরিবেশন করেন জ্যোতি বিশ্বাস, পলাশ বসাক, অদিতি রাউথ, বর্ণালী রায় ও সিরাজুস সালেকিন । তারপর উপস্থিত বক্তাগণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শোক দিবসের ইতিহাস ও কার্যকারণ নিয়ে আলোচনা করেন। কবিতা আবৃত্তি করেন কবিতা রায় ও সজল রায়। অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া বাঙালি শিশু-কিশোররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও শোক দিবসের অনুষঙ্গ তুলে ধরে চিত্রাঙ্কন করে দেয়ালে টাঙিয়ে দেওয়া হয়। 

সুদর্শন দাসের সভাপতিত্বে এবং  নির্মল চৌধুরী ও চন্দ্রা বাড়ৈ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ক্যানবেরাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম। আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি লিংকন শফিকউল্লাহ, রোকেয়া হলের প্রতিনিধি রীনা দাস, বুয়েটের প্রতিনিধি দিলিপ দত্ত ও সৌমেন চক্রবর্তী,  মাসিক মুক্তমঞ্চের সম্পাদক নোমান শামীম, সিডনির কাম্বালান্ড কাউন্সিলের কাউন্সিলর সুমন সাহা প্রমুখ। 

সবশেষে সমবেত অতিথি, জগন্নাথ হল অ্যালামনাই এসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে নিহত সকলের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

স্মৃতির ক্যানভাসে বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মোঃ দেলোয়ার হোসেন মজুমদার

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ প্রানপ্রিয় মানুষের অকাল প্রয়ান প্রতিটি মানুষকে গভীর বেদনার সাগরে ভাসায়। দগ্ধ করে। নি:শেষ করে দেয়। কিছু প্রিয় মানুষের না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার সাথে কিছু শিক্ষা নিভৃতে শিখিয়ে দিয়ে যায়।নিরন্তর সে শিক্ষা একান্ত বুকে চেপে জীবনের নিয়ম মেনে নেয়। জীবন বহমান। সকল হারানো কিংবা শোক-তাপের ঊর্ধেও জীবন স্বীয় গতিতে চলবে। এটাই চিরন্তন সত্য। স্মৃতি শুধুই স্মৃতি। কিছু স্মৃতি বড়ই বেদনাদায়ক। কিন্তু স্মৃতিকে যেমন ভূলে থাকা যায় না তেমনি অস্বীকারও করা যায় না।

 এডভোকেট মোঃ দেলোয়ার হোসেন মজুমদার গত ৮ই সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে তিনটায় কারডিয়েক এরেস্টে হাসপাতালে ৬৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর সময় তিনি এক ছেলে,দুই মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মোঃ  দেলোয়ার হোসেন মজুমদার ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট এর  সিনিয়র আইনজীবী  এবং মজুমদার এন্ড ব্রাদারসের প্রোপাইটর। তিনি চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ আওয়ামী বার কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। তিনি ষাটের দশকে ঢাকা  ইউনিভার্সিটির পলিটিকল সাইন্স ও আইনে অধ্যয়নরত অবস্তায় রাজনিতিতে জরিয়ে পরেন।নব্বইয়ের দশকে তিনি পর পর ৩ বার নির্বাচিত জেল ভিজিটর ছিলেন। সেই সময় তিনি প্রথম জেলে ডাল ভাতের সাথে মাছ মাংস সংযোজন করে সবার  আলোচনায় আসেন। তিনি বহুবার চাঁদপুর শাহারসি ৫ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নমিনেশন প্রত্যাশী  ছিলেন।তিনি তার এই জীবনকালে মসজিদ, মাদ্রাসা,স্কুল, ব্রিজ  সহ এলাকার জন্য অনেক কাজ করে গেছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মোঃ  দেলোয়ার হোসেন মজুমদার ১৯৫০ সালে চাঁদপুরের বলাখালে জন্মগ্রহণ করেন। ৪নং কালচোঁ ইউনিউনের মারামুরায় মজুমদার  বাড়িতে তার জন্ম। ব্যক্তিজীবনে নির্মোহ এই মানুষটি যুদ্ধর সময় দেশের জন্য আর যুদ্ধ-পরবর্তী সময় দেশের মানুষের জন্য ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মোঃ  দেলোয়ার হোসেন মজুমদার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ, অস্ট্রেলিয়া বিএনপি, সাবেক মন্ত্রীরা, বাংলাদেশ আওয়ামী বার কাউন্সিল সহ আরও অনেকেই তারা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমাবেদনা জানান।  গত ১৮ই অক্টোবর  তার ঢাকার বেইলি রোডের বাসায় এক দোয়ার আয়োযন করা হয়। এতে তার আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী অংশগ্রহন করেন। 

এভাবেই কেটে গেছে এই সরলপ্রাণ মুক্তিযোদ্ধার জীবন। জীবনের শেষ সময়টা ঢাকার  নিজ রাড়িতে বেশ নিভৃতেই কাটিয়ে দেন তিনি। জীবন থেকে বিদায়ও নেন নীরবেই। নিভৃতচারী এই বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

গ্রিনফিল্ড এন্টারটেইনমেন্ট’র আয়োজনে সিডনিতে গাইলেন মাইলস্ ও অর্ণব

গত ১৯ অক্টোবর (শনিবার) সিডনির নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটির সায়েন্স থিয়েটার হলে গ্রিনফিল্ড এন্টারটেইনমেন্টের আয়োজনে এক জমকালো সংগীত সন্ধ্যায় গেয়েছেন অন্যতম জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী অর্ণব এবং সাফিন আহমেদসহ মাইলস্ ব্যান্ড।

বাংলাদেশি এই গুণী শিল্পীগণ একের পর এক জনপ্রিয় বাংলাগানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন। পুরো সায়েন্স থিয়েটার হলের মিলনায়তন ছিলো দর্শককে পরিপূর্ণ। শিল্পী সাফিন আহমেদ তথা মাইলস ব্যান্ড এবং অর্ণবও দারুণ খুশি প্রবাসে এমন দর্শক সমাগম দেখতে পেরে। কনসার্টের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল দশকের পর দশক ধরে কয়েক প্রজন্মের দর্শকদের সুরের মূর্ছনায় মাতিয়ে রাখা ‘মাইলস’ ব্যান্ডের ৪০ বছরে পদার্পণ। অর্ণব ও তার সিডনির বন্ধু হাসিব পাঠান মিলে আইয়ুব বাচ্চু ও জেমস্-দুটি জনপ্রিয় গান করেন। উচ্ছাসিত এক দর্শক বলেন, ‘সত্যি আমি আনন্দে আত্মহারা, প্রবাসে এমন বাংলা গানের অনুষ্ঠান। আমি এক কথায় কল্পনা করতে পারছি না। অনেক দিন যাবৎ প্রবাসে আছি এমন হৃদয়কাড়া অনুষ্ঠান এর আগে দেখিনি’।

গ্রিনফিল্ড এন্টারটেইনমেন্টর মিউজিক ফেস্ট-এর আয়োজক এনামুল হক, ফয়সাল আজাদ ও মিরাজ হোসেন অনুষ্ঠানের সফলতার কথা জানিয়েছেন। এনামুল হক বলেন, প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে যে উৎফুল্লতা আমরা দেখেছি তাতে আমরা সত্যি অভিভূত। আমি মনে করি প্রত্যাশার চেয়েও আমরা বেশি সফল। ফয়সাল আজাদ বলেন, আমাদের খুবই ভালো লাগছে যে, মিউজিক ফেস্টটি আমরা সফলতার সাথে সম্পন্ন করতে পেরেছি, এ জন্য বিপুল দর্শক ও শিল্পীদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা আশা করছি সামনে আরো বড় ধরণের আয়োজন করতে পারবো। মিরাজ হোসেন বলেন, এ বছরের মিউজিক ফেস্টের যে সফলতা তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। বিশেষ করে দর্শক সমাগম পূর্বের যে কোনো আয়োজনের চেয়ে ছিলো অনেক বেশি। এ জন্য আমরা প্রবাসী বাঙালিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

‘মিউজিক ফেস্টটির প্রধান বা টাইটেল স্পন্সর হিসেবে আছে, এএনজেড রাহাত ফেরদৌস ও এএনজেড মোবাইল লেন্ডার (ANZ Rahath Ferdose & ANZ Mobile Lender)। প্লাটিনাম পার্টনার, গ্রামীণ রেস্টুরেন্ট, ক্যাটারিং পার্টনার, খুশবু রেস্টুরেন্ট পার্টনার, গ্রামীণ চাপ এন্ড কাবাব, গ্লোড পার্টনার, রয়াল সিটি, গ্লোবাল একাউন্টিং এন্ড ফিন্যান্স, স্বদেশ এন্টারটেইনমেন্ট, রে-হুয়াইট, এছাড়া মিডিয়া ও সাপোর্টিং পার্টনার, স্বদেশ বার্তা, সিডনি প্রতিদিন, নিউজ২৪, বাংলা কথা, প্রশান্তিকা, বিদেশ বাংলা, প্রভাত ফেরী, আড়ঙ্গ, বাংলা বার্তা, জয়যাত্রা টিভি, জন্মভুমি টিভি, টাচ পেইন্টিং প্রভৃতি। উল্লেখ্য, গ্রিনফিল্ড এন্টারটেইনমেন্ট এর আগেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।