ভোডাফোনে’র বিজ্ঞাপনে রোকসানা ও আদ্রিতা

অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় মোবাইল কোম্পানি ভোডাফোন এর একটি বিজ্ঞাপন চিত্রে সম্প্রতি সিডনি প্রবাসী রোকসানা বেগম এবং তার মেয়ে আদ্রিতাকে দেখানো হচ্ছে।

আনিসুর রহমান জানান, ভোডাফোন  ফ্যামিলি ডাটা শেয়ার সেগমেন্টের জন্য বিজ্ঞাপনের মডেল আহবানে সাড়া দিয়ে কিছুদিন আগে তার স্ত্রী রোকসানা বেগম ও মেয়ে আদ্রিতা ছবি  জমা দেয়। বাছাই পর্ব শেষে ২৫ টি পারিবারিক ছবির মধ্যে  রোকসানা ও আদ্রিতার ছবিটি বিজয়ী হয়। তারপর গত ১৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় ব্রাইটন লি স্যান্ড বীচে দিনব্যাপী বিজ্ঞাপনটির চিত্রগ্রহনের পরদিন থেকে অস্ট্রেলিয়া ব্যাপী মুলধারার বিভিন্ন টেলিভিশন, চ্যানেল, সংবাদপত্র, নিউজ পোর্টাল, ভোডাফোন পোর্টাল সহ বিভিন্ন শহরের বিলবোর্ড গুলোতে এই বিজ্ঞাপনটির ছবি ও ভিডিও প্রদর্শিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, রোকসানা বেগম ও আনিসুর রহমান সিডনিতে  শিল্পী দম্পতি হিসেবে সুপরিচিত। তাদের ছেলেমেয়েরাও গান ও  নাচ করার পাশাপাশি  রোকসানা সিডনিতে কিশলয় কচিকাঁচার আসর নামে একটি গানের স্কুল পরিচালনা করেন।

সিডনিতে সখের থিয়েটার এর উদ্যোগে অভিনয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত

গত ২৭ অক্টোবর (রবিবার) সিডনিতে সখের থিয়েটার এর উদ্যোগে অভিনয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে
সিডনিতে “বাঙলা নাটকের শাশ্বত সুর ছড়িয়ে দাও বহুদুর” শ্লোগান নিয়ে সিডনির নাট্য সংগঠন ‘সখের থিয়েটার ‘তাদের দ্বিতীয়মঞ্চ নাটকের জন্য এই অভিনয় কর্মশালা’র আয়োজন করেছিল । বেলমোর কমিউনিটি হলে দুপুর বারোটায় শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পির্যন্ত  এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সখের থিয়েটারর  ‘কর্মশালার’ বিষয় বস্তু ছিল ,একজন অভিনেতার অভিনয় প্রস্তুতি, অভিনেতা কিভাবে তার নিজেকে প্রস্তুত করবে ? 


নাট্য ব্যাক্তিত্ব শাহিন শাহনেওয়াজ প্রথমে অভিনয় কি এবং একজন অভিনেতার প্রস্তুতি সম্পর্কে সূচনা বক্তব্য দেন এবং অভিনয়প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। কর্মশালার মূল পর্ব শুরু হলে, নাট্য ব্যাক্তিত্ব শাহিন আক্তার স্বর্ণা প্রথম পর্বে ,অভিনয়ের ইতিহাস এবং এবং অভিনেতারঅভিনয় প্রস্তুতির বিভিন্ন  পদ্ধতির প্রাথমিক ধারণা দেন।


কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে স্তানিশ্লাভস্কির সাইকো-টেকনিক অবলম্বন করে এর মাধ্যমে কিভাবে অভিনেতা অভিনয়ের প্রস্তুতি গ্রহণকরবেন সে বিষয়ে এর ব্যবহারিক পদ্ধতিগুলো উপস্থাপন করেন।


কর্মশালা শেষে প্রশিক্ষক ও নাট্য ব্যাক্তিত্ব শাহিন আক্তার স্বর্ণা এবং  নাট্যজন শাহিন শাহনেওয়াজ অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান। অংশগ্রণকারীরা কর্মশালা শেষে একটি সফল কর্মশালার জন্য সখের থিয়েটারর এর সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য ,সিডনি ও ক্যানবেরাতে কঞ্জুস নাটকের সফল মঞ্চায়নের পর আগামী প্রযোজনার জন্য নতুন নাট্যকর্মী খুঁজতে এইঅভিনয়  কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। কর্মশালার সর্বাত্মক ব্যবস্হাপনায় ছিলেন  আফসানা রুচি এবং বুলবুল আহমেদ সাজু।

সিডনিতে বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতি’র মেজবান ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

গত ২৭ অক্টোবর (রোববার) সিডনির লিভারপুলস্থ উইটলেম লেসার সেন্টারে বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতি তাদের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও মিলনমেলার আয়োজন করে। দেশের ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরুর পর বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতির সদস্যরা মঞ্চে মেজবানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁকে সম্মাননা ক্রেস্ট উপহার দেয়। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান পৃষ্টপোষক চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান ও সিআইপি হাসান মাহমুদ চৌধুরী ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন  প্রমুখ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সহ প্রখ্যাত  রন্ধনশিল্পী আবুল হোসেন ও জনপ্রিয় শিল্পী তপন চৌধুরী। স্থানীয় চট্টগ্রামবাসী ছাড়াও বাংলাদেশী কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার রাজনীতিবিদ, এমপি, সাংবাদিক ও সুধীজনেরা দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঐতিহ্যবাহী মেজবানে অংশগ্রহণ করেন।

মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তাঁর বক্তব্যে চট্টগ্রামের বাইরে বিদেশের মাটিতে মেজবানের সমাগম দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রামের মেজবান একটি লৌকিক, আন্তরিকতা ও আনুষ্ঠানিকতার বিষয়। তিনি চট্টগ্রামের ঐতিহ্য এই মেজবানকে শুধু খাওয়া দাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের কল্যানে আরও কাজ করার আহবান জানান। হাসান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এ আয়োজনে চট্টগ্রামের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষেরও সমাগম হয়েছে। তারা চট্টগ্রামের স্বাদ, রন্ধন প্রক্রিয়াসহ নানা সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত হতে পারায় আমরা আনন্দিত।

মিলনমেলায় ঐতিহ্যবাহী খাবার মেজবানি মাংস, পায়া ও ছোলা বুট দিয়ে মাংস, চায়ের সাথে চট্রগ্রামের বেলা বিস্কুট ও মিষ্টি পান, বাচ্চাদের খেলাধুলা, গান, ফেইস পেইন্টিং সহ ছিল নানা কর্মসূচি। বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতির সদস্যরা জানান, প্রায় দুই হাজার অতিথির আপ্যায়নে ২০ জনের রন্ধন শিল্পী দলের নেতৃত্ব দেন বাবুর্চি আবুল হোসেন। মেজবানে অংশগ্রহনকারীদের ১৫ ডলার প্রবেশমূল্য দিয়ে  আমরা খাবারের ব্যবস্থা করিনি। ভবিষ্যতে কমিউনিটির কল্যানেই এই অর্থ ব্যয় হবে। তারা আরও জানান,  মেজবান থেকে অর্জিত অর্থের অর্ধেক  চিল্ড্রেনস চ্যারিটি ফান্ডে দান করা হবে।

সবশেষে ছিল জনপ্রিয় শিল্পী তপন চৌধুরীর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।  তিনি ‘কি এমন পরিচয় অনুমতি প্রার্থনা ‘তুমি আমার প্রথম সকাল, একাকী দুপুর ক্লান্ত বিকেলবেলা’ ‘গাইলে বৈরাগীর গীত গাইও’ ‘মন শুধু মন ছুঁয়েছে’ সহ বেশকিছু জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন। সমিতির সভাপতি আলম সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার উদ্দিন ইফতু উপস্থিত মেজবান অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সিডনিতে যুবদলের উদ্যোগে দলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

সিডনিতে বেলুন এবং কবুতর উড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের পর এক আলোচনা সভা গত ২৭ অক্টোবর (রবিবার) সিডনির লাকেম্বাস্থ একটি ফাংশন সেন্টারে  অনুষ্ঠিত হয়।  আলোচনা সভায়  বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবী জানানো হয়। বাংলাদেশ থেকে টেলি কনফারেন্সে শুভেছা বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নিরব।

জাতীয়তাবাদী যুবদল অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ইয়াসির আরাফাত সবুজের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার প্রধান উপদেষ্ঠা ও সাবেক আহবায়ক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি মোঃ মোসলেহ উদ্দিন হাওলাদার আরিফ, বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সাধারন সম্পাদক লিয়াকত আলী স্বপন, সিনিয়র সহ সভাপতি কুদরত উল্লাহ লিটন, সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ নাসিম উদ্দিন আহম্মেদ, সহ সভাপতি মোবারক হোসেন, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ইন্জিনিয়ার কামরুল ইসলাম শামীম, স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি এ এনএম মাসুম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সামাদ শিবলু প্রমুখ।                      

যুবদল অস্ট্রেলিয়ার সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ জাকির হোসেন রাজুর পরিচালনায় বিশেষ বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন যুবদলের সাধারন সম্পাদক খাইরুল কবির পিন্টু, স্বেচ্ছাসেবকদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জুমান হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেল হক জাবেদ, নিউ সাউথ ওয়েলস বিএনপির সভাপতি অনুপ আন্তনী গোমেজ, এস এম রানা সুমন, অসীত গোমেজ, দিলোয়ার হোসেন, এস এম খালেদ, মোঃ ফরিদ আহম্মেদ, শফিকুল ইসলাম, গোলাম রাব্বানী শুভ, আব্দুল করিম, গোলাম রাব্বানী, আরিফুল ইসলাম, পংকজ বিশ্বাস, মাসুম বিল্লাহ, শামছুল আরেফিন রিয়াদ, মতিয়ার রহমান, হাবিব মিয়া, শাহ হাছিবুল কবির নাঈম, ওয়ারিস মাহমোদ প্রমূখ। 

 বক্তারা বলেন, তারেক রহমানকে চক্রান্ত জালে আটকাতে চলছে  ষড়যন্ত্র। আওয়ামীলীগ সরকার ঢাকা শহরকে এখন ক্যাসিনো শহরে পরিনত করেছেন।  কিন্তু বেগম খালেদা জিয়াকে অবৈধভাবে ২ কোটি টাকার মিথ্যা মামলা দিয়ে বন্দি করে রেখেছেন। তাকে অবিলম্বে  মুক্তি না দিলে প্রবাস থেকে বৃহত্তর আন্দোলনে মাধ্যমে বেগম জিয়াকে মুক্ত করার সংকল্প করেন।

‘স্বাধীন কন্ঠ’পত্রিকার বর্ষপূর্তি উদযাপিত

গত ২৭ অক্টোবর (রবিবার) সন্ধ্যায় ব্যাংকসটাউনের লিবার্টি প্যালেসে অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত বাংলা পত্রিকা ‘স্বাধীন কন্ঠ’ তাদের চতুর্থ বর্ষপূর্তি পালন করে।  শুভজিত ভৌমিকের সঞ্চালনায় বর্ষপূর্তির এই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী আপেল মাহমুদ।

অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান শুরুর পর স্থানীয় শিল্পী মিঠু ও তার দল গান পরিবেশন করে। স্বাধীন কন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে এসে বাংলা সংস্কৃতির চর্চায় একটি পত্রিকার কোনো বিকল্প নেই। দেশের শত বিভক্তির মাঝেও স্বাধীন কন্ঠ পুরোপুরি নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেছে। তিনি স্বাধীন কন্ঠের সাথে শুধু বাংলাদেশীই নয় পাশাপাশি উপমহাদেশের অন্যান্য কম্যুনিটির সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে পত্রিকার পক্ষ থেকে তাদের নিয়মিত লেখক নির্মল পাল, নাইম আবদুল্লাহ, জুম্মন হোসেন, কাজী সুলতানা সিমি ও বেলাল ঢালীকে সম্মাননা জানানো হয়। নাইম আবদুল্লাহর পক্ষে ক্রেস্ট গ্রহন করেন সাংবাদিক নেতা আবদুল মতিন। লেখকদের ক্রেস্ট প্রদান করেন স্বাধীন কন্ঠ মিডিয়ার চেয়ারম্যান কাজী এন সাফা আলমগীর ও কাজী আরমান।

এরপরে লেবার পার্টির এমপি ও শ্যাডো মিনিস্টার জিহাদ দীপ, কাউন্সিলর শাহে জামান, কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী সহ স্বাধীন কন্ঠ পরিবারের কাজী আরমান, কাজী আলমগীর ও মিজানুর রহমান সুমন স্পন্সরদের সম্মাননা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশী কম্যুনিটির বিভিন্ন পেশার পাঠকরা তাদের মতামত তুলে ধরা হয়।

বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান এমপি টনি বার্ক ও বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।  অনুষ্ঠানে স্পন্সর সহ উপস্থিত অতিথিদের আন্তরিক  শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন স্বাধীন কন্ঠের প্রেসিডেন্ট কাজী আরমান ও চেয়ারম্যান কাজী এন সাফা আলমগীর। তারপর উপস্থিত সকলকে নিয়ে বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কেক কাটা হয়। উল্লেখ্য প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে সকল শুভানুধ্যায়ী ও স্পন্সরদের সাথে নিয়ে নিয়মিত বর্ষপূর্তী পালন করে আসছে স্বাধীন কন্ঠ পরিবার।

সিডনিতে ‘আমরা কজনা’র পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত

গত ২৬ অক্টোবর (শনিবার) সিডনির গ্লেনফিল্ডে মহিলাদের সংগঠন “আমরা কজনা” বন্ধুদের সাথে ঘরোয়া পরিবেশে তাদের ষষ্ঠ পিঠা উৎসবের আয়োজন করে। শীতের শেষে বসন্তের এই আয়োজনে হাতের তৈরি হরেক রকমের দেশীয় পিঠা-পুলি উৎসবে স্থান পায়।  আয়োজকরা জানান, দেশীয় ঐতিহ্য কে বিদেশের মাটিতে ধরে রাখতে ও প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এই পিঠা উৎসব আমাদের সামান্য  প্রচেষ্টা।

প্রতিবারের মতো এবারের আয়োজনেও  ছিল  ক্ষুদের ভাতের সাথে  রকমারি ঝাল ভর্তা সহ হরেক রকমের মুখরোচক দুপুরের  খাবার।  পিঠা প্রতিযোগিতা ও খেলাধুলার জন্য ছিল তিনটি করে পুরস্কার।  পাশাপাশি দিপতী পল চৌধুরীর শাড়ীর দোকান, সীমা আহমেদ ও রুনু  রফিকের কণ্ঠে দেশীয় গান পিঠা উৎসবকে আরও প্রানবন্ত করে তোলে।  পিঠা উৎসব সফল ও প্রানবন্ত করতে আয়োজকরা সবাইকে অসংখ্য  ধন্যবাদের পাশাপাশি আন্তরিক ভালবাসা জানিয়েছেন।

পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধে উইমেন কাউন্সিল অস্ট্রেলিয়া’র আত্মপ্রকাশ

গত ২৬ অক্টোবর (শনিবার) দুপুরে সিডনির ল্যাকেম্বাস্থ সিনিয়র সিটিজেন সেন্টারে প্রবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উইমেন কাউন্সিল  অস্ট্রেলিয়া আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আলোচকরা, পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধে  সচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে  কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

এ্যানি সাবরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন, নিউ সাউথ ওয়েলস সংসদের অ্যাসিস্ট্যান্ট স্পিকার মার্ক কুরি এমপি, নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের শ্যাডো পাবলিক সার্ভিস মিনিষ্টার সফি কস্টিস এমপি,  ক্যান্টাবেরী ব্যাংকসটাউন কাউন্সিলের মেয়র কাল আসফুর, কাউন্সিলর নাদিয়া সালেহ, কাউন্সিলর লিন্ডা ইসলার, কাউন্সিলর জর্জ জাকিয়া, কাউন্সিলর রিশেল হারিকা, বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ডাঃ আয়াজ চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল সোসাইটি নিউ সাউথ ওয়েলসের সাবেক সভাপতি ডাঃ জেসি চৌধুরী, শক্তি অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল কো অর্ডিনেটর  ডঃ সাবরিন ফারুকি উর্শী, সাবেক কাউন্সিলর রাজ দত্ত, সলিসিটর আমজাদ খান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে উইমেন  কাউন্সিল অস্ট্রেলিয়া’র পক্ষে  বক্তব্য রাখেন নাসরিন নাহার। এই সময় উপস্হিত ছিলেন তিশা তাসনিম তানিয়া, পপি কবির, এলিজা জারা টুম্পা, সাজেদা আক্তার। আলোচকরা বলেন, প্রবাসে আমাদের অনেক অর্জনের পাশাপাশি অবক্ষয়ও আছে। প্রতিটি  সমাজেই নারী নির্যাতন সহ  অভিবাসী নারীদের ভাষাগত দুর্বলতা বিশেষত ইংরেজি না জানা বা কম জানার কারনে  অনেক নারী গৃহে নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন না। ফলে  তাঁরা যথাযত প্রতিকারও খুঁজে পাচ্ছেন না। সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা হ্রাস করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন ক্যান্টাবেরী ব্যাংকস টাউন কাউন্সিলের কাউন্সিলর শাহে জামান টিটো এবং পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন  বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক জাহাঙ্গীর আলম। উল্লেখ্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উইমেন কাউন্সিল অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী নারীদের বিভিন্ন পরামর্শ ও সেবা সম্পর্কে সচেতন করে তোলার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক ও বিনোদনমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

সিডনিতে সরকারি উদ্যোগে দীপাবলী উদযাপিত

শতদল তালুকদারঃ সিডনিতে সরকারি উদ্যোগে উদযাপন করা হলো দীপাবলীর অনুষ্ঠান। কাম্বারল্যান্ড সিটি কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে ২৬ অক্টোবর (শনিবার) ওয়েন্টওয়ার্থভিলের স্টেশন স্ট্রীটে আয়োজন করা হয় এ আলোর উৎসব দীপাবলী। তাই এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত প্রবাসীরা মেতে উঠেছে মহাসমারোহে। 

পরম্পরা, রীতি-নীতি, প্রথা মেনে অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য শহরের ন্যায় সিডনি সেজে ওঠে উৎসবের রঙিন আলোয়। আতসবাজির রোশনাই, সঙ্গীত, কত্থক, ভরতনাট্যম— ছন্দের তালে তালে সন্ধ্যার পরিবেশ হয়ে ওঠে বর্ণময়। নবীন-প্রবীণের মেলবন্ধনে সকলের মন ছুঁয়ে যায়। দেশি-বিদেশির একতায় দীপাবলির সিডনিতে অনন্য এক ছবি তৈরি হয়।

হিন্দু পুরাণ মতে, কালী দেবী দুর্গার অপর আরেকটি একটি শক্তি। সংস্কৃত ভাষার ‘কাল’ শব্দ থেকে কালী নামের উৎপত্তি। কালী পূজা হচ্ছে শক্তির পূজা। দেবীপক্ষের শেষে অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে উমা মর্তে আর্বিভূত হয়েছিলেন। তিনি পূজিত হন কখনও শ্যামা রূপে, কখনও বা কালী রূপে । জগতের সকল অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভশক্তির বিজয়ের মধ্যেই রয়েছে কালীপূজার মাহাত্ম। 

দীপাবলী হল অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাওয়ার উদ্‌যাপন। বিশ্বের বহু সংস্কৃতি এখানে একত্রিত হয়ে গিয়েছে। সবাইকে বিনোদনে, ভালবাসা, আলোয় রাঙিয়ে দিতেই দীপাবলির আয়োজন হয়ে থাকে । জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে তাই এবারের উত্সবে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। 

দীপাবলির সন্ধ্যায় আতসবাজির প্রদর্শনের পাশাপাশি ছিলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান । সেখানে শুধু  সঙ্গীত ও নাচই ছিল না; ছিলো রামায়ণের আখ্যান – যার মিশ্রণে তৈরি হয় এক মোহনীয় পরিবেশ। এবারের দীপাবলী উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন, বিরোধী দলীয় প্রধান অ্যান্থনি আলবানিস, এনএসডাব্লিউ রাজ্যের প্রিমিয়ার গ্লাডিস সহ আরো অনেকে শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন।

সিডনিতে প্রভাত ফেরী – কবিতা বিকেল উৎসব আগামী ২ নভেম্বর

আগামী ২ নভেম্বর (শনিবার) সিডনির ওয়াইলি পার্কে দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত  “প্রভাত ফেরী – কবিতা বিকেল” বাংলা সংস্কৃতি উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবে অনুষ্ঠানের পাশাপাশি থাকবে খাবারসহ আকর্ষণীয় হরেক রকমের পণ্যের স্টল।

দেশ থেকে মনে বয়ে নিয়ে আসা রঙ্ দিয়ে সিডনির সবুজ ক্যানভাসে আঁকতে চাইছে বাঙ্গালিয়ানার কোলাজ। সাতসুরে বেঁধে উড়িয়ে দিতে চাচ্ছে মন কেমনের ইচ্ছে ঘুড়ি।কবিতা বিকেলের এই উদ্যোগের সাথে এবার যুক্ত হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার আলোচিত বাংলা পত্রিকা ‘প্রভাত ফেরী’। এবারও সিডনির ওয়ালি পার্কের এরেনা মঞ্চটিকে কেন্দ্র করে দিনভর বাতাসে ভাসবে বাংলার সুর, নুপুরের ঝংকার আর কবিতার ছন্দ। সিডনীর গুণী শিল্পী এবং সংগঠনের পাশাপাশি এবারের উৎসবের মঞ্চে আলো ছড়াবেন নন্দিত সঙ্গীতশিল্পী, সংগীত গবেষক মৌসুমী ভৌমিক।

কবিতা বিকেল সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদা রুণু  ও প্রভাত ফেরী পত্রিকার প্রধান সম্পাদক  শ্রাবন্তী কাজী আশরাফী এক যৌথ বিবৃতিতে সকলকে  প্রভাত ফেরী – বাংলা সংস্কৃতি উৎসব যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রন জানিয়েছেন।

কবিতা বিকেল মূলত সিডনি প্রবাসী বাংলাভাষী কবি, কথা সাহিত্যিক, গবেষক এবং সাংস্কৃতিক মানুষের সমন্বয়ে গঠিত একটি সঙ্ঘ। এই প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারে ২০০৬ সালে থেকে কবিতা বিকেল কাজ করছে। নিয়মিত আবৃত্তি প্রযোজনা, নাটক ছাড়াও কবিতা বিকেল সাহিত্য সভা, কর্মশালা ও একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করে থাকে।  এই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে ২০১৮ থেকে ‘বাংলা সংস্কৃতি উৎসব’ কবিতা বিকেলের যাত্রা শুরু হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ভিক্টোরয়ায় দ্বিতীয় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

গত ১৯ অক্টোবর ( শনিবার) এক উৎসবমুখর পরিবেশে টার্নেট রাইজ প্রাইমারি স্কুলের হলরুমে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া প্রবাসী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  প্রাক্তন ছাত্র/ছাত্রীদেরসংগঠন ডিউ ফ্যামিলি ভিক্টোরিয়ার দ্বিতীয় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু প্রাক্তন শিক্ষার্থীর উদ্যোগে গতবছর ১৪ জুলাইআয়োজন করা হয়েছিল এর প্রথম পুনর্মিলনী। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের আয়োজন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার ও মাইকের দায়িত্বে ছিলেন দর্শনের প্রাক্তন ছাত্রী নাদিরা সুলতানা নদী  ও ইতিহাসের প্রাক্তন ছাত্রী রওনক রাব্বানী সুবর্ণা। এবারের আয়োজনে অংশগ্রহণকারী প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা  ছিল গতবারের চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এবারের উৎসবের থিম বা বিষয় ছিল ঢাকা বিশ্ববদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ক্যাম্পাস জীবন ও আড্ডা। তাই টিএসসি’রআদলেই সাজানো হয় মঞ্চ এবং হলরুম। এবারের পুনর্মিলনীর দুটি আকর্ষণীয় দিক ছিল, ‘কি নোট স্পিকার’ অধ্যাপক ড: সলিমুল্লাহখান’র বক্তব্য  এবং ডিউ ফ্যামিলি ভিক্টোরিয়ার প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদেরঅংশগ্রহণে তাদের  প্রথম প্রকাশনা “ক্ষণিকা “।

সন্ধ্যা ৭টায়  অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কারী এবং সভাপতি ব্যারিস্টার নুরুল ইসলাম খান এর স্বাগত ভাষণের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ অধ্যাপক ড: সলিমুল্লাহ খানকে মঞ্চে ডাকা হয়। ডিউ ফ্যামিলি ভিক্টোরিয়ার পক্ষ থেকে তাকে ক্রেস্ট ও ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করা হয়।  অধ্যাপক ড: সলিমুল্লাহ খানকে ক্রেস্ট হস্তান্তর করেন এই অনুষ্ঠানের ডায়মন্ড স্পনসর পিএনএস গ্রাফিক্স’এর কর্ণধার কামরুল হাসান চৌধুরী। অধ্যাপক ড: সলিমুল্লাহ খানকে অনুরোধ করা হয় তার বক্তব্য রাখতে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলেই অত্যন্ত আগ্রহের এবংমনোযোগের সঙ্গে উপভোগ করেন ড: সলিমুল্লাহ খানের বক্তব্য।

সন্ধ্যা  ৮টার সময় মাগরিবের নামাজের ১০ মিনিট বিরতির পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব। রাত নয়টায় পরিবেশন করা হয় নৈশভোজ। এরপরই শুরুহয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দ্বিতীয়পর্ব। গান, কবিতা আবৃত্তি, কুইজ আর রাফলে ড্র ছিল এই সাংস্কৃতিক পর্বের মূল আকর্ষণ। সকল প্রাক্তন ঢাবিয়ানদের পদচারণায় আর প্রাণবন্ত আবেগী উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের হলরুমটি যেন হয়ে উঠেছিল একটি জীবন্ত টিএসসি বা মধুর ক্যান্টিন বা কার্জনহল।  সবাই ছিল স্মৃতি রোমন্থরে আবেগী এক সময়ে, বহুদিন পর যেন সবাই ফিরে পেয়েছিলো আবার সেই বিশ্ববিদালয়ের দিনগুলি। সবশেষে অর্থনীতির প্রাক্তন ছাত্রী এবং প্রকাশনা ‘ক্ষণিকা’ র সম্পাদক জীনাতুর রেজা খানের বিদায়ী বক্তব্য ও সকলের সমবেত কণ্ঠই রবি ঠাকুরের “পুরানা সেই দিনের কথা ” র মধ্যে দিয়ে শেষ হয় এই মিলনমেলার।

আয়োজক কমিটি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, পি এন এস গ্রাফিক্স, এস আর লইয়ার্স  এন্ড মাইগ্রেশন সার্ভিসেস,  ওয়াসিস একাউন্টিং, এনলাইটেন ফিনান্স, ম্যানওর লেকস চারকোল চিকেন, এন কে পি ব্রোকার, ফ্রেশ বাজার এন্ড হালাল মিট, আজওনামোটর্স। মিডিয়া পার্টনার: বাংলাদেশী ব্রডশীট এবং ডিউ ফ্যামিলি ভিক্টোরিয়ার কার্যকরী কমিটি, সকল সদস্য, সকল স্বেচ্ছাসেবী, এবংঅংশগ্রহণকারী সকল প্রাক্তন ঢাবিয়ান।