ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

কাজী আশফাক রহমানঃ “সবার জন্য ক্রীড়া, বিজয়ীও সবাই” এই মূল মন্ত্রকে ধারণ করে প্রতি বছরের মত এবারও ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা  আজ ২৯শে সেপ্টেম্বর (রবিবার) সকাল সাড়ে এগারোটায় স্কুল প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়।

রবিবারের নিয়মিত ভাষা শিক্ষার ক্লাস শেষে উৎসব মুখর পরিবেশে শুরু হওয়া এই আয়োজনে স্কুলের ছাত্রছাত্রী ছাড়াও শিক্ষক, অভিভাবক ও কার্যকরী কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করে। বয়স ভিত্তিতে একাধিক ইভেন্টের এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সবাই দারুন ভাবে উপভোগ করে। এবারের আসরে স্থান পাওয়া খেলাগুলি হল দৌড়, দড়ি লাফ, চামচ দৌড়, বিস্কুট দৌড়, লক্ষ্যে বল ছোড়া, পিলো পাস, বল কিকিং,স্মরণ শক্তি ও সাধারণ জ্ঞান।

ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় স্কুলের শিক্ষার্থীদের বাইরে অভিভাবক, শিক্ষক এবং কার্যকরী কমিটির সদস্যদের নিয়ে পুরুষ ও মহিলা শাখায় দুটি চমকপ্রদ খেলার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় স্কুলের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের বিভিন্ন খেলায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করে।

স্কুলের পক্ষ থেকে সবার জন্য খাবার ও পানীয় পরিবেশন করা হয়। প্রতিযোগিতা শেষে সবার মাঝে পুরস্কার বিতরন করেন সভাপতি আবদুল জলিল এবং নাতি ও নাতনি নিয়ে স্কুলে আসা অভিভাবক  সেলিনা পারভিন।

পুঅনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্কুলের সহ সভাপতি মাসুদ মিথুন এবং নির্বাহী সদস্য রুমানা খান। উপস্থাপনায় ছিলেন কোষাধ্যক্ষ মসিউল আজম খান স্বপন। প্রসংগত উল্লেখ্য ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল প্রতি রবিবার সকাল দশটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব বাংলা ভাষাভাষীর জন্য উন্মুক্ত থাকে।

সিডনিতে পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠিত

সালেহ আহমেদ জামীঃ গত ২৮ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সিডনির ইঙ্গেলবার্নে পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠিত হয়। সৃজন ও সৃষ্টিশীল লেখক-পাঠকের, রুচিশীল শিল্পী ও উদ্ভাবনী চিত্র গ্রাহকদের, মার্জিত ও পরিমিতি বোধ সম্পন্ন পেন্সিলরসদের মনোজ্ঞ এই আয়োজন মুগ্ধ করেছে অংশ নেওয়া সকলকে।

শুদ্ধ বাংলা সাহিত্য চর্চা, সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ এবং নান্দনিক কিছু সৃষ্টির প্ল্যাটফর্ম তৈরীর স্বপ্ন নিয়ে ২০১৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সৃষ্টি হয়েছিল ফেসবুকভিত্তিক সাহিত্যচর্চার গ্রূপ ‘পেন্সিল’।

সেই পেন্সিলের ব্যাপ্তি আজ পৃথিবীর সকল সীমায় পৌঁছে গেছে। দ্বীপ মহাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় সহস্রাধিক সদস্য প্রতিদিনই তাঁদের সৃষ্টিশীলতায় এই স্বপ্ন বাহনকে ঋদ্ধ করে চলেছেন নিরলসভাবে। পাশাপাশি চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা ছড়িয়ে দেওয়া।

তৃতীয় বছর পূর্তিতে এসে আজ সেই শপথ আরো মজবুত ও দৃঢ় ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হলো। সিডনিতে পেন্সিলররা ঘোষণা দিলেন এই অচলাতয়নের সময়কালকে একটি শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চার চারণভূমি হিসাবে দাঁড় করিয়ে তাঁরা সম্মুখ পানে এগিয়ে যাবেন।

বর্তমানে পেন্সিলের আছে ‘পেন্সিল ফাউন্ডেশন ও পেন্সিল পাবলিকেশনস’। নানান ধরণের সামাজিক সচেতনতা এবং উন্নয়নের পাশাপাশি প্রকাশনার সাথে তারা জড়িয়ে। অনলাইনভিত্তিক একটি গ্রূপের এই দুর্বার শক্তি, নিখাদ ভালোবাসা আর অকল্পনীয় আস্থাশীলতায় আজ পৃথিবীর প্রতিটি কোণায় পেন্সিলরের জন্ম দিচ্ছে প্রতিদিন। এই অর্জন সকল পেন্সিলরের। এই উন্মত্ত নব জাগরণ এসেছে অস্ট্রেলিয়াতেও।

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার জাতী সঙ্গীতের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সাকিনা আক্তার ও জয় কবির বিকাল ৪ টায়।স্বাগত বক্তব্য রাখেন আরিফ ইসলাম।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এই অনুষ্ঠানটি আকস্মিক আশীর্বাদে ভরিয়ে তোলেন কথাসাহিত্যিক, গবেষক, প্রাবন্ধিক সেলিনা হোসেন। বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সংগঠন প্রভৃতির তিনি একজন তারকাজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার সদস্যরা ফুলের তোড়া আর উপহার দিয়ে বরণ করেন এই বিশেষ অতিথিকে।

উপস্থিত পেন্সিলররা কেক কেটে তৃতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনের রংকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুন। এছাড়াও চমকপ্রদ বর্ষপূর্তির আয়োজনে ছিল অবিরাম গল্প বলা, গান, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, স্মৃতিকথা, সমবেত গান। শিল্পী তালিকায় ছিলেন সিডনির সব বিখ্যাত স্থানীয় শিল্পীরা। একটা পরিবারের মতোই তারা আয়োজন করেছিলেন এই উপভোগ্য অনুষ্ঠান। আগামী জন্ম বার্ষিকীর আগে পর্যন্ত রয়ে যাবে এর রেশ। ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে পেন্সিল অস্ট্রেলিয়া উদযাপন করার প্রত্যয় জানান পেন্সিলের মডারেটর সাকিনা আক্তার।

অবিরাম গল্প বলা পর্বটি পরিচালনা করেন সালেহ আহমেদ জামী। একেবারেই অপ্রচলিত এই পর্বে অবিরাম গল্প শোনান কবিরউদ্দিন সরকার, শাখাওয়াৎ নয়ন , মমতাজ রহমান,আইভি রহমান ও সুরঞ্জনা জেনিফার রহমান। গল্পকারদের অভিনবত্বে বিমোহিত হয়েছিলেন পেন্সিলররা। তাঁদের উপস্থাপনে মুন্সিয়ানা ছিল লক্ষ্য করার মতন। বাচিক শিল্পীরা তাঁদের সহজাত ভঙ্গিমায় ফুটিয়ে তোলেন অসামান্য কাব্য প্রতিভা।

কবিতা আবৃত্তি করে শোনান মুগ্ধ রবি, শহিদুল আলম বাদল, সুলতানা পারভীন, শাখাওয়াৎ নয়ন, অনীলা পারভীন, জেরীন  আফরীন, যোবাইদা রত্না, তাম্মি পারভেজ, মাসুদ পারভেজ, মুনা মুস্তাফা, এনজেলিনা ঢালী, নির্মল চক্রবর্তী, নোমান শামিম, আরিফুর রহমান , মিল্টন হাসনাত ও ফারজানা হাসান। মনোমুগ্ধকর নৃত্যে অংশগ্রহণ করেন সামারা জাহান হক, অরুন্ধতী ঢালী (অর্চি) ও সারিকা চৌধুরী।

সবশেষে পেন্সিলরদের গান গেয়ে শোনান জিয়াউল ইসলাম তমাল, শাহনাজ পারভীন, ইয়েজ পারভেজ মিহির, রাশনান, নীলাদ্রি চক্রবর্তী, সাইফুর রহমান খান, ফারলিন আলম ও রাহুল হাসান। যন্ত্রের সহযোগিতা করেন তবলায় জিয়াউল ইসলাম তমাল, গিটারে  ইয়েজ পারভেজ মিহির, কিবোর্ডে নীলাদ্রি চক্রবর্তী,  হারমোনিয়ামে সাকিনা আক্তার। সংগীতের মূর্ছনায় তাঁরা মাতিয়ে রাখেন দর্শক শ্রোতাদের সমাপ্তি ঘোষণার আগে পর্যন্ত। কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে পেন্সিল অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে উপহার প্রদান করা হয় অংশগ্রহণ করা পেন্সিলর পরিবারদের। অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ছিলেন সাকিনা আক্তার ও জয় কবির।

তাঁদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতায় ছিলেন জিয়াউল ইসলাম তমাল, সালেহ আহমেদ জামী, শাখাওয়াৎ নয়ন, ইয়েজ পারভেজ মিহির, অনামিকা ধর,  মুনীর বিশ্বাস,  ফরিদা আক্তার, আজিজা শাহাদাত, ফিরোজ ফারুক, শুভ্রা মুস্তারিন,  আসমা আলম কাশফী সহ আরো অনেক শুভানুধ্যায়ী। শব্দ নিয়ন্ত্রনে ছিলেন জিয়াউল ইসলাম তমাল,  ইয়েজ পারভেজ মিহির।

তৃতীয় জন্ম বার্ষিকীর প্রাক্কালে এর প্রচারে ছিল  প্রথম আলো, সিডনি প্রতিদিন, স্বদেশ বার্তা,  প্রভাত ফেরি, বাংলা হাব ইনক, মাসিক মুক্তমঞ্চ, প্রশান্তিকা, সিডনি বাঙালি, এলএ  বাংলা টাইমস, নবধারা, স্বদেশ বার্তা, বাংলা সিডনি, জন্মভূমি টেলিভিশন, প্রিয় অস্ট্রেলিয়া ও ইভেন্ট ৩৬০।

উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বরেণ্য শিল্পীরা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, আলোকচিত্রী, সকল শুভাকাঙ্ক্ষী। অনুষ্ঠানের শেষে সকলকে ধন্যবাদ জানানো হয় পেনসিল অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে।

সিডনিতে সেলিনা হোসেনের সাহিত্য সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত

গত ২৭ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সন্ধ্যায় সিডনির হার্স্টভিল সিভিক সেন্টারে একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়া ইনক ‘গায়ত্রী সন্ধ্যায় যাপিত জীবনের গল্প’ শীর্ষক এক সাহিত্য সন্ধ্যার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেন ও তাঁর স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরুর পর দম্পতিকে সম্মানসূচক ক্রেস্ট প্রদান করে একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি স্বপন পাল, সহ সভাপতি নোমান শামীম, সাধারণ সম্পাদক জন্মে জয় রায় ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নেহাল বারী প্রমুখ।

সাহিত্য সন্ধ্যায় সেলিনা হোসেন এবং তাঁর জীবনসঙ্গী বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন প্রতিষ্ঠিত ‘ফারিয়া লারা ফাউন্ডেশন’কে ১৬৮০ ডলার অনুদান প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, ফারিয়া হোসেন লারা বাংলাদেশের প্রথম প্রশিক্ষক নারী বৈমানিক ছিলেন। যিনি ১৯৯৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর এক বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।

ড. শাখাওয়াৎ নয়নের সঞ্চালনায় এই সন্ধ্যায় সেলিনা হোসেন উপস্থিত সুধীজনদের সঙ্গে তাঁর শিক্ষা, কর্মজীবন, সাহিত্য ও অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সেলিনা হোসেন  বলেন, সততার সাথে কাজ করায় কখনো কোন প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হয়নি বলে সাহিত্যের জায়গাটা তৈরী করে নিতে পেরেছি। আমাদের নতুন প্রজন্মকে সাহিত্যের রসে আলোকিত করতে হবে। সাহিত্যে বৈচিত্রতার জানাতে গিয়ে তিনি প্রতিটি কাজেই তাঁর স্বামী অনুপ্রেরণার কথা উল্লেখ করেন।দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে সাহায্য করার জন্যই লারা ফাউন্ডেশন গড়ে তোলার কথা জানান তিনি।  

বাংলা কথা সাহিত্যে শুধু নারী লেখক নয়, বরং যে কোনো বিচারেই সেলিনা হোসেনের নাম সম সাময়িককালে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশের বহু পুরস্কারে তিনি ভূষিত এবং সম্মানিত হয়েছেন। ভারতের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডক্টরেট (অনারারি) ডিগ্রিতে ভূষিত করেছে। পৈতৃক সূত্রে তার বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলায় হলেও, বাবার কর্মসূত্রে ৪৭ সালের ১৪ জুন রাজশাহীতে তার জন্ম।  

একদিকে বঞ্চিত, অবহেলিত এবং দরিদ্র মানুষের জীবন-জীবিকা, মানবসত্তা নিয়ে যেমন তিনি লিখেছেন, অন্যদিকে তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালির সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক জীবনের এমন কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা নেই, যে বিষয়কে উপজীব্য করে তিনি গল্প, উপন্যাস লেখেন নাই। ছিটমহল থেকে জলমহাল, চা বাগানের শ্রমিক থেকে নাগরিক জীবন, নারী নির্যাতন এবং উন্নয়ন, কোনো অনুষঙ্গকেই তিনি বাদ দেন নি। এত বিচিত্র বিষয়ে বাংলা ভাষার আর কোনো কথাসাহিত্যিক লেখেন নি। ইংরেজি, ফরাসি, রুশ, ইতালিনো, জাপানি, আরবি, উর্দু, অহমিয়া, তেলেগু, তামিল, মারাঠি, মালায়লাম, কন্নড় ভাষায় তার রচনা অনূদিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জাপান, ভারত এবং বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তার উপন্যাস পাঠ্যপুস্তক হিসেবে পড়ানো হয়।

দীর্ঘ পঞ্চান্ন বছরের সাহিত্যচর্চার জীবনে তিনি বড়দের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্যও লিখেছেন ছত্রিশটি বই। ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় তিনিই এখন পর্যন্ত সর্বাধিক সংখ্যক উপন্যাস রচনা করেছেন।

একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি ডক্টর স্বপন পাল অনুষ্ঠানের প্রধান সহযোগী ‘প্রভাত ফেরী’ এবং অন্যান্য সহযোগী ‘মুক্তমঞ্চ’, ‘রয়াল সিটি সলিসিটরস’, ‘ফার্স্ট একাউন্ট্যান্ট, টপআপ প্লাজা এবং বাংলা সাহিত্য সংসদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং শুভানুধ্যায়ীদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

দেশের স্বার্থেই শেখ হাসিনার দীর্ঘ দিন বেঁচে থাকা প্রয়োজন: সিডনিতে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে বক্তারা

গত ২৮ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সন্ধ্যায় অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সিডনিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালিত হয়। এ উপলক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এনায়েতুর রহিম বেলালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টনের সঞ্চালনায় এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ সভাপতি এমদাদ হক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মতিন, আলাউদ্দিন আলোক, জুয়েল তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মশিউর রহমান হৃদয়, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মুনির হোসেন, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নোমান শামীম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহী। টেলিফোনে জাপান থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জাপান আওয়ামী লীগের সভাপতি সালেহ মোহাম্মদ আরিফ।

সভায় বক্তারা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। বর্তমান সরকার পরিচালনায় সাফল্যের জন্য শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র বিশ্বে যে আগ্রহ তৈরী হয়েছে, পাশাপাশি বাংলাদেশকে তিনি যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, বক্তারা তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। বক্তাদের আলোচনায় বাংলাদেশের চলমান অবৈধ ক্যাসিনো বিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গও স্থান পায়।

বক্তারা চলমান অভিযানের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে এ ব্যাপারে শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করবার ব্যাপারে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। চলমান অভিযানের প্রেক্ষিতে বক্তারা শেখ হাসিনার নিরাপত্তার ব্যাপারেও আরো সতর্কতা অবলম্বনেরও পরামর্শ দেন। আলোচনা সভা শেষে দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন আলাউদ্দিন আলোক।