ক্যাম্বেলটাউনে পরিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে সেমিনার

গত ২২ সেপ্টেম্বর (রবিবার) দুপুরে সিডনির মিন্টোর রনমুর কমিউনিটি সেন্টারে  মাল্টিকালচারাল সোসাইটি অফ ক্যাম্বেলটাউন পরিবারিক বন্ধন অটুট ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির উপর এক সেমিনারের আয়োজন করে। রওনক মিয়ার সঞ্চালনায় অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরুর পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ী, সমাজ সেবক এবং সংগঠনটির সভাপতি এনাম হক। এরপর সংহতি বক্তব্য রাখেন স্হানীয় স্টেট এমপি অনুলাক চান্টিভং।

সেমিনারের  সমন্বয়ক কাশফি আহমেদের পরিচালনায় আমন্ত্রিত অতিথিদের আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন  নিউ সাউথ ওয়েলস সুপ্রিম কোর্টের সলিসিটর ও ব্যারিষ্টার মোল্লা উম্মে ফারহা কান্তা, ম্যাকারথার ডাইভারসিটি সার্ভিসের কেস ওয়ার্কার সানা আল আহমর, ক্যাম্বেলটাউন পুলিশের মাল্টিকালাচারাল মৈত্রী অফিসার জসিপা কিরিজানাক, মাল্টিকালচারাল সোসাইটি অফ ক্যাম্বেলটাউনের সমন্বয়ক মোঃ শফিকুল আলম এবং আর্ট অব লিবিং ফাউন্ডেশনের মিরা।

এই সময় আলোচকরা জানান, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হল বিষয়টি নিয়ে সরব হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্হার সাহায্য নেওয়া। বিভিন্ন কারনে অভিবাসী পরিবারগুলোতে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার প্রবণতা কম। তার মধ্যে একটি ভয় হলো  পারিবারিক সংহিসতা নিয়ে কথা বললে পার্টনার ভিসা স্পনসর বাতিল করতে পারে। তারা জানান, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে পারিবারিক সহিংসতার শিকার ভিকটিমের   ভিসা স্পনসর পার্টনার বাতিল হাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। তাই তারা সহিংসতার শিকার হলে চুপ না থেকে প্রতিকারমূলক ব্যবস্হা নিতে আহবান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচকরা আরো বলেন, পারিবারিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ভুক্তভোগী মানুষের অধিকাংশ নারী ও শিশু বিধায় তাদের পাশে দাঁড়াতে একযোগে কাজ করতে হবে। সবশেষে বক্তব্য রাখেন  ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের মেয়র জর্জ ব্রিটসিভিক।

সেমিনারে অস্ট্রেলিয়া জুড়ে পারিবারিক সংহিসতার উপর বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন আশিকুর রহমান আকাশ। অনুষ্ঠানে ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্হিত ছিলেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহন করেন স্বপ্ন ব্যান্ডের মিঠু ও নৃত্যশিল্পী আশমিতা।

বাচ্চাদের নিয়ে আর্টিস্ট মিতা চৌধুরীর ক্র্যাফট ও আর্ট কর্মশালা

গত ২২ সেপ্টেম্বর মেলবোর্ন প্রবাসী চিত্রশিল্পী মিতা চৌধুরীর উদ্দোগে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে আয়োজন করা হয় স্কুল হলিডে আর্ট এ্যান্ট ক্রেফট কর্মশালা। এই কর্মশালায় মেলবোর্ন প্রোবাসী  বিভিন্ন বয়সের বাংলাদেশী শিশু কিশোরর কিশোরীরা অংশগ্রহন করে। এই কর্মশালার প্রধান লক্ষ্য ছিল কি করে ফেলা দেয়া বা বাড়ীর অপ্রয়োজনিয় বস্তুকে আর্ট বা ক্র্যাফটে রুপ দেয়া যায়।

চিত্রশিল্পী মিতা চৌধুরী বাচ্চাদের বলেন, আমরা প্রায়ই আমাদের ঘরে বা চারপাশে এমন অনেক কিছু পাই যা সাধারনত আমরা ধরে নেই যে অপ্রয়োজনিয় বা ব্যাবহারের অযোগ্য, কিন্তু সেই সকল বস্তুই হতে পারে নির্ভেজাল আনন্দের উৎস এবং রুপ নিতে পারে নান্দনিক শৈল্পীক কোন বস্তুতে। ফেলা দেয়া ডিমের ট্রে, বা খালি টিস্যুর বক্স বা টেইকওয়ে কাপকে কেমন করে বাচ্চাদের খেলার এবং শখের কোন কিছুতে রুপ দেয়া যায় তা দেখানো হয়। 

ছোট বাচ্চারা অত্যন্ত উৎসাহ ও আনন্দের সঙ্গে এই কর্মশালাটি উপভোগ করে। ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে আসা তাদের অভিভাবকদেরও দারুন আগ্রহ নিয়ে কর্মশালাটি উপাভোগ করতে দেখা যায়। l কর্মশালাটির উদ্দেশ্য নিয়ে শিল্পী মিতা চৌধুরী জানান, আমরা প্রবাসে স্কুল হলিডে আসলেই চাকুরিজিবী বাবা মায়েরা প্রায়ই সমস্যায় পরে যাই বাচ্চাদের নিয়ে কি ধরনের এ্যাকটিভিটি করানো যায় বা কি করে স্কুল হলিডের সময়গুলো সুন্দর করে কাটানো যায়। সেই চিন্তা থেকেই এই উদ্দোগ যেন বাচ্চারা বাড়ীতে বসেই কিছু সৃজনশীল কিছুতে ব্যায় করতে পারে। তিনি আরো বলেন এই কর্মশালাটি এখন থেকে প্রতি স্কুল হলিডে গুলোতেই নিয়মিত চালনা করা হবে।

শিল্পী মিতা চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংকন ও চিত্রায়ন থেকে স্নাতক করে বর্তমানে রয়াল মেলবোর্ন ইনিস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আরএমআইটি) তে পেইন্টিং-এ অধ্যয়নরত আছেন।