গায়ত্রী সন্ধ্যায় যাপিত জীবনের গল্পঃ সেলিনা হোসেন

শাখাওয়াৎ নয়নঃ আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় হাসটভিল সিভিক সেন্টারে “গায়ত্রী সন্ধ্যায় যাপিত জীবনের গল্পঃ সেলিনা হোসেন” নামক একটি সাহিত্য সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়া অনুষ্ঠানটির আয়োজন করবে। অনুষ্ঠানে বাংলা কথাসাহিত্যের আলোর দুহিতা সেলিনা হোসেন তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে পাঠকদের সাথে সরাসরি অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন।

সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ জন্ম ১৪ জুন ১৯৪৭। রাজশাহী শহর। তাঁর লেখার জগৎ বাংলাদেশের মানুষ, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য। বাঙালির অহংকার ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তাঁর লেখায় নতুন মাত্রা অর্জন করে। জীবনের গভীর উপলব্ধির প্রকাশকে তিনি শুধু কথাসাহিত্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন না, শাণিত ও শক্তিশালী গদ্যের নির্মাণে প্রবন্ধের আকারেও উপস্থাপন করেন। নির্ভীক তাঁর কন্ঠ-কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ।

রাজশাহীতে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেনীতে পড়াকালীন বিভাগীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নশিপ স্বর্ণপদক লাভ করেন। অতঃপর১৯৬৯ সালে প্রবন্ধের জন্য পান ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক। ১৯৮০ সালে কথাসাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮১ সালে ‘মগ্নচৈতন্যে শিস’ উপন্যাসের জন্য আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৮২ সালে অগ্রনী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, ১৯৮৭ সালে ‘ পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ উপন্যাসের জন্য কমর মুশতরী পুরস্কার, পরবর্তীতে উক্ত উপন্যাস অবলম্বনে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। ১৯৯৪ সালে অনন্যা ও অলক্ত পুরস্কার, ১৯৯৪-৯৫ সালে তিনি তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’ রচনার জন্য ফোর্ড ফাউন্ডেশন ফেলোশিপ এবং একই উপন্যাসের জন্য তিনি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ প্লানিং এন্ড ম্যানেজমেন্ট প্রবর্তিত ‘রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার’ লাভ করেন। ১৯৯৮ সালে জেবুন্নেসা ও মাহবুবুল্লাহ ইনস্টিটিউট প্রদত্ত সাহিত্য পুরস্কার ও স্বর্ণপদক এবং ২০০৬ সালে তিনি দক্ষিন এশিয়ার সাহিত্যে অবদানের জন্য দিল্লির ‘রামকৃষ্ণ জয়দয়াল হারমোনি পুরস্কার’ এবং ২০০৯ সালে সমগ্র জীবনের সাহিত্যসাধনার স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ মর্যাদা ‘একুশে পদক’লাভ করেন। 

এছাড়াও ২০১০ সালে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা থেকে ডক্টর অফ লিটারেচার (অনারারি) ডিগ্রি এবং সাহিত্য একাদেমি, দিল্লি কর্তৃক সার্ক দেশের লেখকদের জন্য প্রবর্তিত ‘ প্রেমচাঁদ ফেলোশিপ’ লাভ করেন। 

ইতোমধ্যে, বাংলা কথাসাহিত্যের এই রাজকন্যার লেখা গল্প এবং উপন্যাস, ইংরেজি, মারাঠি, কন্নড়, রুশ, মালে, ফরাসি, জাপানি, উর্দু, মালয়েলাম, কোরিয়ান এবং ফিনিস ভাষায় অনূদিত হয়েছে। 

চাঁদপুরে নূরুল আজাদের স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘নুরুল আজাদ কলেজ’ প্রাঙ্গনে ‘স্বদেশ বার্তা’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠতা সম্পাদক, বিশিষ্ট শিল্পপতি মরহুম নূরুল আজাদের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  হয়েছে।

আজ বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে মরহুমের পরিবার ও তারঁ প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে স্মরণ করা হয়।

মরহুম নুরুল আজাদ ছিলেন বহুগুণে গুণান্বিত একজন মানুষ। তিনি বহু প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা,  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সাদা মনের মানুষ ছিলেন।

জননন্দিত আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারনকারী গুণী এই মানুষটি ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

জীবদ্দশায় মরহুম নূরুল আজাদ বহু কল্যাণমূলক কাজ করেছেন, তার মধ্যে তিনি নিজ জন্মভূমিতে নুরুল আজাদ কলেজ , মনপুরা বাতাবাড়িয়া জাফর আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও ১৩৭ নং বাতাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। 

স্মরণ সভায় মরহুমের জেষ্ঠ্য পুত্র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়া, সিডনি শাখার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ফয়সাল আজাদের সভাপতিত্বে ও কলেজের প্রভাষক মো. কামরুজ্জামানের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, কচুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির।

প্রধান অতিথি শাহজাহান শিশির তাঁর বক্তব্যে বলেন, মরহুম নুরুল আজাদ একজন জনবান্ধব মানুষ ছিলেন। তিনি জীবদ্দশায় এলাকার মানুষের সুখে-দু:খে আপনজন হিসাবে এগিয়ে যেতেন সবার আগে।

প্রধান অতিথি  আরো বলেন, নুরুল আজাদ সবসময় এলাকার মানুষকে নিয়ে ভাবতেন, যার প্রমাণ তার রেখে যাওয়া বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আমরা তাঁর মৃত্যুতে কচুয়ার একজন সত্যি কারের অভিভাবক ও ভালো মানুষ হারালাম। আমি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।

অনুষ্ঠানে মরহুমের জেষ্ঠ্য পুত্র ফয়সাল আজাদ বলেন, আমার বাবা সব সময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে আজীবন বুকের মাঝে ধারণ করেছেন এবং মাতৃভূমির জন্য সারা জীবন সাধ্যমত করে গেছেন।

মরহুমের জন্মভূমির এক ব্যক্তি বলেন, নুরুল আজাদ ছিলেন আমাদের এলাকার ক্ষণজন্মা পুরুষ, যার মধ্যে দেশপ্রেম ও শিক্ষাপ্রীতি ছিলো অসামান্য। তিনি তাঁর জীবনকে ব্যয় করেছেন মানবতার সেবায়, তাকে আমরা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি এবং তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

অনুষ্ঠানে নূরুল আজাদের জেষ্ঠ্য পুত্রের সহযোগিতায় তৈরি হবে ‘নূরুল আজাদ কলেজ’-এর নতুন ভবন সেটির কাজের উদ্বোধন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কচুয়া উপজেলা প্যানেল চেয়ারম্যান সুলতানা খানম,অস্ট্রেলিয়া সিডনি শাখা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী কামরুল ইসলাম, পৌর প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক মোফাচ্ছেল হোসেন খান, ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল বাদল, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম মাস্টার, ও নুরুল আজাদ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সেলিম মিয়াসহ আরো অনেকে।

অনুষ্ঠানে মরহুমের কবর যিয়ারতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরে স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা শেষে  প্রথিতযশা আলেম মনপুরা ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ জনাব মাওলানা আব্দুল হাই-এর মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

স্মরণ সভায় আলোচকদের বক্তব্যের মাধ্যমে মরহুম নুরুল আজাদের কর্মময় জীবনের নানা দিক উঠে এসেছে।

নুরুল আজাদের জীবন ও কর্ম :

নুরুল আজাদ ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ। যিনি নিজ কর্মক্ষেত্রের বাইরে ও অনেক সৃজনশীল কর্মকাণ্ড ও সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি ছিলেন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রিয় মুখ, প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ী সমাজের পথিকৃত কমিউনিটির অন্যতম অভিভাবক, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়া’ শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ‘স্বদেশ বার্তা’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।

সৎ, নির্লোভ বহুমাত্রিক কৃতিত্বের অধিকারী একজন আলোকিত মানুষ, যিনি সারা জীবন অসহায় মানুষ ও সমাজের জন্য নিরবে-নিভৃতে কাজ করে গেছেন। সমাজকে আলোকিত করার এক মহাকর্মযজ্ঞে তিনি ব্যস্ত থেকেছেন সারাটি জীবন। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী আলোকিত মানুষটির ছিল সব শ্রেণির মানুষকে আপন করে নেয়ার অসাধারণ গুণ । খোলা মনে তিনি সকলের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন।

অস্ট্রেলিয়াতে পাড়ি জমিয়ে শুরু করেছিলেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। যাত্রা শুরু করার পর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে গেছেন শীর্ষ পর্যায়ে। সোনার হরিণের খোঁজে অস্ট্রেলিয়া পাড়ি জমানো স্বদেশীদের কর্মসংস্থানেও সবার প্রিয় এ ‘নুরুল আজাদ ভাই’ ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক।

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসের পরে তিনি ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়া’-কে সুসংগঠিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি  আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়ার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। অস্ট্রেলিয়া প্রথম তার নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ মেলা যাত্রা শুরু করে। প্রতি বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন গুণী শিল্পীদের নিয়ে তিনি এ মেলা উদযাপন করতেন। খেলাধুলার প্রতি ছিল তার অন্য রকম ভালোবাসা। নিজে অংশগ্রহণ করে পরবর্তীতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিয়ে প্রতি বছর কৃতি ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন, যা বর্তমানে ‘নুরুল আজাদ গোল্ডকাপ’ নামে পরিচিত। অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলা ভাষার প্রথম পত্রিকা ‘স্বদেশ বার্তা’ প্রকাশ করেন তিনি। ১৯৯৯ সালে আজকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর আমন্ত্রণে অস্ট্রেলিয়া সফর কালে তার হাতেও ‘স্বদেশ বার্তা’ পত্রিকা তুলে দেন । ‘কচুয়া ফাউন্ডেশন ঢাকা’ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান পৃষ্টপোষকতাও তিনি। নিজ উপজেলায় প্রায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় তাঁর সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি একাধারে গরীব-দুঃখী মানুষের আপনজন ও সমাজসেবক হিসেবে সবার কাছে খুবই প্রিয়জন ও পরিচিত ছিলেন। নুরুল আজাদ কচুয়া উপজেলার একটি নাম, একটি প্রতিষ্ঠান, একটি সংগঠন, একজন সমাজসেবক সবার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার পাত্র হিসেবে নিজেকে শীর্ষে পৌছে নিয়ে গিয়েছিলেন।


অষ্ট্রেলিয়ান শরীয়তপুর জেলাবাসীর সাধারন সভা অনুষ্ঠিত

গত ৮ই সেপ্টম্বর (রবিবার) সন্ধ্যায় সিডনির লাকেম্বাস্হ বনফুল রেষ্টুরেন্টে রফিক উদ্দিনের সভাপতিত্বে ‘অষ্ট্রেলিয়ান শরীয়তপুর জেলাবাসী’র এক সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হয়। 
সভায় আগামী ১৩ই অক্টোবরে ইংগেলবার্ন লাইব্রেরী হলে বাৎসরিক নৈশভোজ, অতিসত্বর একটি সংবিধান প্রনয়ন ও প্রস্তাবিত সংবিধানের আলোকে পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিষয়ে বিশদ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। শরীয়তপুর জেলার ৭টি উপজেলাকে সমান গুরুত্ব পূর্বক সমান সংখ্যক সদস্যের সমন্বয়ে পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন, সভাপতি, সাধারন সম্পাদক ও কোষাধক্ষ এই তিনটি পদ তিনটি ভিন্ন ভিন্ন উপজেলা থেকে মনোনীত/ নির্বাচিত করা ও কোন ব্যাক্তির একই পদে শুধুমাত্র একবার মনোনীত/নির্বাচিত হওয়ার বিধান রাখা এবং দুই বছর মেয়াদের কার্য নির্বাহী কমিটি গঠন করাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ  বিষয়ে সভায় একমত পোষন করা হয়। 

উক্ত সভায় অষ্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত সকল শরীয়তপুর জেলাবাসীকে আগামী ১৩ই অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য বাৎসরিক নৈশভোজে অংশগ্রহন করে জেলার সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকান্ডে সার্বিক সহযোগীতা প্রদান করার জন্য সনির্বন্ধ অনুরোধ জ্ঞাপন করে নৈশ্যভোজের আমন্ত্রণ জানিয়ে সভার কাজ সমাপ্ত হয়।