নজরুল সঙ্গীত শিল্পী সুজিত মোস্তফা সিডনিতে গাইবেন

সুজিত মোস্তফা শুধু বাংলাদেশেরই নয় উপমহাদেশের অন্যতম একজন গুনি সংগীতশিল্পী, হিন্দুস্তানি ইন্দোর এবং পাতিয়ালা ঘারানায় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে পারদর্শী যদিও ইন্দোর ঘারানা যার প্রধান ক্ষেত্র। ইন্দোরকে অনেকে কিরানা বলে চিহ্নিত করেন যেটা সঠিক নয়।

মা হালিমা মোস্তফা এবং শিক্ষাবিদ, কবি, গীতিকবি এবং প্রখ্যাত সাংষ্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবু হেনা মোস্তফা কামালের জেষ্ঠ্য পুত্র সুজিত মোস্তফার জন্ম ১৯৬২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী পাবনা জেলায়। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সুজিত মোস্তফা তৃতীয়।

মুক্তিযুদ্ধের পরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সূর্যশিশু নামে যে শিশু সংগঠন গড়ে ওঠে সেখানেই অনুপ কুমার দাশের হাতে তার সংগীতে হাতেখড়ি হয়। এরপর চট্টগ্রামে প্রথাগত উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে তালিম পান ওস্তাদ মিহির লালার কাছে।

 ঢাকায় সর্বজনাব মিথুন দে, ফুল মোহাম্মদ, আখতার সাদমানীর কাছে উচ্চাঙ্গ সংগীত, শ্রীমতি অঞ্জলি রায় ও সোহরাব হোসেনের কাছে ছায়ানটে নজরুল সংগীতে তালিম গ্রহণ করেন। শান্তিনিকেতনে গুরু শ্রী মোহন সিং খাংগুরার কাছে উচ্চাঙ্গ সংগীত এবং শ্রী সীতাংশু রায়ের কাছে রবীন্দ্র সংগীতে তালিম গ্রহণ করেন। দিল্লীতে পন্ডিত অমরনাথ, ওস্তাদ হাফিজ আহমেদ খান ও পন্ডিত বিনোদ কুমারের কাছে উচ্চাঙ্গ সংগীত এবং শ্রীমতি শান্তি হীরানন্দের কাছে গজল এবং ঠুমরীর তালিম গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশে ১৯৯৪ সালে ফিরে আসার পর সুজিত মোস্তফা কন্ঠ সংগীত প্রশিক্ষণ ছাড়াও নজরুল সংগীতের প্রচার ও প্রসারে দেশব্যাপী নানামুখী বিভিন্ন কর্মতৎপরতায় লিপ্ত আছেন। বাংলাদেশ তথা বিশ্বের সর্ববৃহৎ নজরুল বিষয়ক সংগঠন নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি পরিষদ ও শিল্পীদের সংগঠিত করে নজরুল চর্চ্চায় বিশেষ অবদান রেখেছেন। আধুনিক, সেমি ক্ল্যাসিক্যাল ও নজরুলের গানের প্রচুর অনুষ্ঠান করেছেন ভারত, শ্রীলঙ্কা, জাপান, চায়না, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া সহ আরো অনেক দেশে। 

অত্যন্ত স্পষ্টবাদী এবং কঠোর নৈতিক চরিত্রের অধিকারী সুজিত মোস্তফা আরো নানাবিধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। সংগীত বিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় তার রয়েছে সহজাত অধিকার। প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী, কোরিওগ্রাফার ও অভিনেত্রী মুনমুন আহমেদ তার সহধর্মিনী। তার একমাত্র কন্যা অপরাজিতাও কত্থক নাচের অত্যন্ত পারদর্শী একজন পারফর্মার।