বঙ্গবন্ধু ছিলেন এক পরশ পাথর-সিডনিতে অস্ট্রেলিয়া শোক দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা

গত ২৫ আগস্ট (রবিবার)সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সিডনিতে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ই আগস্টে শাহাদাত বরণকারী সকল শহীদ এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ শহীদদের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. খায়রুল চৌধুরী এবং অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টনের সঞ্চালনায়  আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা, ঢাকা মহানগরের প্রাক্তন সভাপতি শফিকুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাজাবুল হক মোস্তফা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু হত্যার জাতীয়-আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী রাজনীতির স্মৃতিচারণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এভাবেই দেশ তার গন্তব্যে পৌছাবে। কোন ষড়যন্ত্রই আজ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা রুখতে পারবে না।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাজাবুল হক মোস্তফা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সাথে তার স্মৃতিচারণ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছিলেন এক পরশ পাথর। একবার তাঁর সংস্পর্শে যে এসেছে, সেই তার ভক্ত হয়ে গেছে। কী এক অদ্ভূত সম্মোহনী ক্ষমতা ছিলো তাঁর। তিনি বিভেদ ভুলে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের পতাকাতলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনীতি করবার জন্য অনুরোধ জানান।

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন অস্ট্রেলিয়া যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন, অস্ট্রেলিয়া যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অপু সারোয়ার, অস্ট্রেলিয়া যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নোমান শামীম, অর্থনীতিবিদ জোয়ার্দার হোসেন রেজোয়ান, যুবলীগের নেতা আরিফুর রহমান, নিউ সাউথ ওয়েলস আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক, নিউ সাউথ ওয়েলস আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান ফারুক শিমুন রবিন, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মুনীর হোসেন, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মশিউর রহমান হৃদয়,

অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জুয়েল তালুকদার, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আলোক, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মতিন, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নির্মাল্য তালুকদার এবং অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এমদাদ হক।

সভায় বক্তারা বঙ্গবন্ধুর জীবনের বিভিন্ন দিকের উপরে আলোকপাত করেন এবং বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার সংগ্রামে প্রবাসী হিসেবে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলেন স্বাধীনতা-সংগ্রাম এবং মানুষের মুক্তির প্রতীক, তিনি কোন ব্যবসায়িক পণ্য নয়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করা সহজ নয়, তার জন্য আমাদের ত্যাগ ও নিবেদনে ঋদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশের মেহনতী মানুষের ভাগ্যেন্নয়নের লক্ষ্যে প্রবাসে থেকেও আমাদের কাজ করতে হবে। আলোচনা সভায় বক্তারা বঙ্গবন্ধু হত্যার জাতীয়-আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট  তুলে ধরে অবিলম্বে কমিশন গঠন করার অনুরোধ জানান, যার মাধ্যমে দেশবাসী প্রকৃত খুনী ও নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের সম্পর্কে জানতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন আলাউদ্দিন আলোক। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতি নিবেদিত স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক কবি আইভি রহমান।

ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

কাজী আশফাক রহমান: সিডনিতে ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল মাতৃভাষা চর্চা এবং সংস্কৃতি প্রসারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব উৎযাপনে স্কুল সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্পৃক্ত করে থাকে। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে আয়োজিত এ ধরনের মিলনমেলা বন্ধুত্ব, সৌহার্দ্য, সহযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পরমত সহিষ্ণুতার মানসিকতা সৃষ্টি করে বলে বাংলা স্কুল বিশ্বাস করে। আর তাই প্রতি বছরের মত এবারও আয়োজন করা হয়েছিল ঈদ পুনর্মিলনী।

গত ২৫ আগস্ট (রবিবার) স্কুল প্রাঙ্গনে আয়োজিত এই পুনর্মিলনীতে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক, স্কুলের কার্যকরী কমিটির সদস্য এবং স্কুলের শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। রবিবারের নিয়মিত ক্লাস শেষে সবাই ঈদ পুনর্মিলনী মধ্যাহ্ন ভোজে যোগ দেয়। দুপুরের খাবারের পূর্বে গত পিঠা উৎসবে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য সবাইকে স্কুলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য গত ৪ঠা আগস্ট আয়োজিত এবারের পিঠা উৎসব সবার মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। 

দুপুরের ভোজ পর্ব শেষে স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র, বর্তমানে অভিভাবক সাহিল খান সজীব এবং অভিভাবক আহমেদ চৌধুরীর জন্মদিন কেক কেটে উদযাপন করা হয়। উল্লেখ্য ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুল প্রতি রবিবার সকাল দশটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত সব বাংলা ভাষাভাষীর জন্য উন্মুক্ত থাকে।