মেলবোর্নে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালন

গত ১৭ই আগস্ট (শনিবার) মেলবোর্ন আওয়ামী লীগ, অষ্ট্রেলিয়া শাখার উদ্যোগে মেলবোর্নে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দ্বিতীয় বারের মতো রক্তদান কর্মসূচী পালন করে মেলবোর্ন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলি। এবারের শোক দিবসের অনুষ্ঠান চার ভাগে ভাগ করা হয়, আর্তের সেবায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী,  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জীবনের উপর নির্মিত ডকু-ড্রামা “হাসিনাঃ অ্যা ডটার’স টেল” এর প্রদর্শনীর প্রচার ও প্রকাশনা, বঙ্গবন্ধুর জীবনের উপর এক চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।

গত পহেলা আগস্ট শুরু হওয়া স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীতে অনেকে রক্তদান করেন ও এই রক্তদান কর্মসূচী এ মাসের শেষ দিন পর্যন্ত চলবে। এরপর গত ১৩ই আগস্ট ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অফ মেলবোর্নে “সাবকন্টিনেন্ট ক্যাটাগরি”তে প্রদর্শিত হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জীবনের উপর নির্মিত ডকু-ড্রামা“হাসিনাঃ অ্যা ডটার’স টেল” প্রদর্শিত হয়। মেলবোর্ন আওয়ামী লীগ টিম সফলভাবে এর প্রচার ও প্রকাশনার দায়িত্ব পালন করে। এছাড়া গত ১৭ই আগস্ট আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আগে শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর জীবনের উপর একক চিত্র প্রদর্শনী। তা ঘুরে দেখেন অনুষ্ঠানে আগত নেতা কর্মী ও অতিথিবৃন্দ। এ সময় এক আবেগ ঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মেলবোর্ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডঃ মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে দলের সাধারন সম্পাদক মোল্লা মোঃ রাশিদুলহক সবাইকে স্বাগত জানিয়ে কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরুর পর বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের সকল শহীদ সহ ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দেশের জন্যে প্রান দেয়া সকল শহীদের জন্যে দোয়া করা হয়। অতঃপর সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

তথ্য ও গবেষণামূলক আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মোল্লা মোঃ রাশিদুল হক। তিনি বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে আলোচনা করা ছাড়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভিডিও ডকুমেন্টারী প্রদর্শন করেন। তিনি বলেন, না চাইতেই বঙ্গবন্ধু জাতিকে যে দুস্প্রাপ্য স্বাধীনতা উপহার দিয়ে গেছেন তা জাতি এখনও বুঝে উঠতে পারছে না। পরাধীন যেসব এলাকার জনগন নিষ্পেষিত হচ্ছে তারা জানে স্বাধীনতার মূল্য, একজন বঙ্গবন্ধুর মূল্য। স্বাধীনতা বিরোধীদের চক্রান্তে বঙ্গবন্ধুকে খুন করায় দেশের ব্যাপক অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি সাধিত হয়েছেযার কারনে বাংলাদেশ আজকে মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত নয়। বঙ্গবন্ধু পৃথিবীর সবার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জাতির মঙ্গলের স্বার্থে কাজ করে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের কারণে জাতি আজ মাথা তুলে পরিচয় দিতে অপারগ কেননা অল্প কিছু মানুষের ঘ্রন্য কাজের জন্যে পুরো জাতিকে আজ এই অপবাদ মাথায় নিয়ে চলতে হচ্ছে। তিনি বঙ্গবন্ধুর জন্যে জান্নাতের দোয়া করেন ও বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের বিচার দাবী করেন।

এরপর বক্তব্য রাখেন মেলবোর্ন যুবলীগের সভাপতি মোঃ জেমস খান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু না থাকলে আজ আমরা অস্ট্রেলিয়ায় আসতে পারতাম না। তাই উনার প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা। উনি না থাকলেও উনার সোনার বাংলা গড়ার যে পরিকল্পনা ছিল তা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করে আসুন আমরা সোনার বাংলা গড়ি। 

মেলবোর্ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আযহারুল ইসলাম সোহাগ বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান না থাকলেও বাংলাদেশকে ঘিরে উনার স্বপ্ন রয়ে গেছে। আমাদের উচিত সেই গুলো বাস্তবায়ন করা।  ব্যাক্তিগতভাবে সবাইকে উনি বঙ্গবন্ধুর আত্মার মাগফেরাতের জন্যে দোয়া করার আহবান জানান।

মেলবোর্ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আবু সাদেক বলেন বঙ্গবন্ধু একজন বাংলাদেশী হিসেবে দেশকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করার চেস্টা করেছেন। আমরা যেখানেই থাকি আমরা যাতে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করি, দেশের স্বার্থে কাজ করি সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার।  

অনুষ্ঠানে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক। তিনি বলেন, ৩০ লক্ষ মানুষের জীবন ও লক্ষ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে প্রাপ্ত স্বাধীনতার মূল প্রানস্পন্দন ছিলেন বঙ্গবন্ধু।  আজ বঙ্গবন্ধু নাই কিন্তু উনার কন্যা আছেন। তাই একটি সফল বাংলাদেশ গড়তে বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে যে যেভাবে পারি সাহায্য করি, বিশেষ করে আমরা যারা প্রবাসে আছি। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ড. মোসাম্মাৎ নাহার, মোঃ এম সালেহিন সহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, মেলবোর্ন আওয়ামী লীগের উপদেস্টা, জ্বালানী বিশেষজ্ঞ, সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার সালেক সূফি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আমরা বাংলাদেশ নামক দেশ পেতাম না। আজ পশ্চিমবঙ্গ, কাশ্মীর, ফিলিস্তীনে বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধু নিজেই একটা ইতিহাস, উনি একটি দেশ, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীতের জন্যে জীবন দিয়ে গেছেন। উনার ডাকে আমার মতো ১৬ বছরের একটি ছেলে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলাম। উনি ছিলেন হ্যামিলনের বাঁশি ওয়ালার মতো – যার ডাকে সমস্ত বাংলাদেশীরা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল।

সমাপনী বক্তব্যে ড. মাহবুব আলম বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুশেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের জন্যই আজ আমরা একটি গর্বিত স্বাধীন দেশের নাগরিক হতে পেরেছি। আজ যদি দেশ স্বাধীন না হত তাহলে হয়ত আমরা আর আমাদের সন্তানেরা ফিলিস্তিনি শিশুদের মত রাস্তায় গুলি খেয়ে মারা যেতাম। আমাদের কোন ভবিষ্যত থাকত না। তিনি বঙ্গবন্ধুর এত বড় নেতা হওয়ার পিছনে অনেকের অবদানের মধ্যে বেগম মুজিবের বিশাল অবদানের কথা উল্লেখ করে আরও বলেন, তাঁদের ৩৪-৩৫ বছর দাম্পত্য জীবনে ১৩ বছরের অধিক সময় বঙ্গবন্ধু জেলে কাটিয়েছেন, সেই সময় বেগম মুজিব তাঁদের সংসার আগলে রেখেছেন আর বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে উৎসাহ যুগিয়েছেন।

অনুষ্ঠান শেষে সবার জন্যে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s