সিডনিতে সুপ্রভাত সিডনির দশমবর্ষ পূর্তি উদযাপিত

স্থানীয় সময় গত ২৭ জুলাই (শনিবার) সন্ধ্যা ৬টায় সিটির প্রানকেন্দ্রে এমবেসি কনফারেন্স সেন্টারে অস্ট্রেলিয়ান-বাংলাদেশী কমিউনিটির মাসিক পত্রিকা সুপ্রভাত সিডনি’র নিয়মিত প্রকাশনার দশম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত হয়।

সন্ধ্যা ৬টার সময় শুরু হওয়া অনবদ্য এই অনুষ্ঠান চলাকালে হল রুমটি ছিলো আমন্ত্রিত অতিথিতে পরিপূর্ণ। সিডনির সুপরিচিত রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সরকারি কর্মকর্তা এবং বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি সুপ্রভাত সিডনির দশম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গও উপস্থিত ছিলেন।

চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক শিবলি আবদুল্লাহ’র সঞ্চালনা ও বসনিয়ান কমিউনিটির সুপরিচিত ইমাম আলমেদিন স্কোপযাকোভিচের সুললিত কণ্ঠে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরুর পর পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক আবদুল্লাহ ইউসুফ শামীম তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে উপস্থিত অতিথিদেরকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সুপ্রভাত সিডনির প্রতি সমর্থন জ্ঞাপনের পাশাপাশি বিগত বছরগুলোতে নানাভাবে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি সুপ্রভাত সিডনির উপস্থিত পুরো পরিবারকে মঞ্চে অতিথিদের সাথে পরিচয় করিয়ে স্পন্সরদেরকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে জাতীয় রাজনীতিবিদ, ম্যানেজার অফ অপজিশন বিজনেস এবং ওয়াটসন আসনের মাননীয় এমপি টনি বার্ক সুপ্রভাত সিডনি ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, অস্ট্রেলিয়ার ২৫ মিলিয়ন মানুষের ২৫ মিলিয়ন জীবন কাহিনী তুলে ধরার যে কাজ গণমাধ্যমগুলো করে যাচ্ছে তার পুরো চিত্র কখনোই মূলধারার গণমাধ্যমের দ্বারা পরিপূর্ণ হয়ে উঠতো না। সুপ্রভাত সিডনির মতো কমিউনিটি পত্রিকাগুলো এই ২৫ মিলিয়ন মানুষের জীবনকাহিনীর পরিপূর্ণ চিত্র তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

কিংসফোর্ড স্মিথ আসনের এমপি ম্যাট দিসটলহোয়াইট বলেন,  তার অভিবাসী বাবা-মায়ের জীবন সংগ্রাম খুব কাছ থেকে দেখার কারণে তিনি জানেন কিভাবে একজন অভিবাসী মানুষ নতুন একটি দেশে জীবন সংগ্রামের ভেতর দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংগ্রামে তথ্য সরবরাহ ও নানা সহায়তায় ভূমিকা রাখতে সুপ্রভাত সিডনির মতো কমিউনিটি পত্রিকাগুলো একটি অসাধারণ ভূমিকা পালন করে। তিনি সুপ্রভাত সিডনির ভবিষ্যত সমৃদ্ধি কামনা করেন।

সিনেটর ড. মেহরিন ফারুকী তাঁর বক্তব্যে বলেন,  বর্তমান সময়ে মুসলমানরা একটি চ্যালেঞ্জিং অবস্থানে রয়েছে। এই ধরনের প্রতিকূলতার মাঝে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে এবং মানবাধিকারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিতে সুপ্রভাত সিডনির মতো কমিউনিটি মিডিয়ার বিকাশ খুবই জরুরী একটি বিষয়।

লাকেম্বা আসনের স্টেট এমপি জিহাদ দীব তাঁর বক্তব্যে বলেন,  সুপ্রভাত সিডনি সেই সূচনকাল থেকেই অনন্য ভূমিকা এবং সমাজসেবামূলক অবদানের সাথে পরিচিত। তিনি বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রশংসা করে আশাবাদ ব্যক্ত করে আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার সমাজে বাংলাদেশী অভিবাসীরা ভবিষ্যতে আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। পাশাপাশি এই অগ্রযাত্রায় সুপ্রভাত সিডনির মতো পত্রিকার অবদানের কথাও তিনি তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন।

ক্যান্টারবুরী-ব্যাংকসটাউন সিটি কাউন্সিলের মেয়র খাল আসফুর তাঁর বক্তব্যে বলেন,  অস্ট্রেলিয়ার বহুজাতিক জনগোষ্ঠীর প্রধান কেন্দ্র তাঁর সিটি কাউন্সিল এলাকায় বাংলাদেশীরাও সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। তিনি এই অগ্রযাত্রায় সুপ্রভাত সিডনির ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

সাবেক সিনেটর লী রিয়ানোন তাঁর বক্তব্যে বলেন,  বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় একজন এক্টিভিস্ট হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত শরণার্থীদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে তার মা সেই সময় অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে গিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অনন্য ইতিহাসের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরন করেন। বাংলাদেশী কমিউনিটিতে সুপ্রভাত সিডনির গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।

সিডনি পুলিশ কমিশনারের প্রতিনিধি সুপরিনটেনডেন্ট পল ক্যারেট তাঁর বক্তব্যে বলেন,  সপ্রভাত সিডনির এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পত্রিকাটির গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা জেনে তিনি আনন্দিত। তিনি পত্রিকাটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও বিকাশ কামনা করেন।

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশী সাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন সিডনি প্রেস এন্ড মিডিয়া কাউন্সিলের সভাপতি ড. এনামুল হক তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে সুপ্রভাত সিডনির অনন্য অবদানের জন্য পত্রিকাটির সাথে জড়িত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে উপস্থিত অতিথিদের সামনে কমিউনিটি মিডিয়ার মতো স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকান্ডে সবাইকে  সহায়তা করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন।

দশম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এই আকর্ষণীয় অনুষ্ঠানমালার মাঝেই দেশী বিদেশী অতিথিদের জন্য ছিলো সিডনির সুপরিচিত সাংস্কৃতিক কর্মী হাবিবুর রহমানের উপস্থাপনায় একটি আকর্ষণীয় বাংলা কবিতা আবৃত্তি। তিনি বাংলাদেশের পতাকা গলায় জড়িয়ে মঞ্চে প্রথমে ইংরেজিতে কবিতাটির মূল বক্তব্য সবার সামনে তুলে ধরেন। পরবর্তীতে দৃঢ় কণ্ঠে বাংলায় আবৃত্তি করে শোনান।  

অনুষ্ঠানে সুপ্রভাত সিডনির বিগত দশ বছরের কর্মকাণ্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন, সামাজিক ও সেবামূলক কাজের বিবরণসহ ইংরেজি ভাষায় এই তথ্যবহুল ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করা হয়। এছাড়াও সুপ্রভাত সিডনির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে পাঠানো অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, এনএসডব্লিউ প্রিমিয়ার, ইমিগ্রেশন বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রীসহ মোট ২৯ জন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা বাণীগুলো নিয়ে নির্মিত সংক্ষিপ্ত ভিডিওগ্রাফি উপস্থিত অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এ অনুষ্ঠানে প্রবেশপথের পাশেই একটি টেবিলে সুপ্রভাত সিডনির নিজস্ব মনোগ্রাম এবং লোগো সম্বলিত ভেস্ট, আইডি কার্ড, ক্যাপ, টাই, কোট পিন ইত্যাদি উপকরণগুলো দর্শকদের জন্য সাজানো ছিলো।

দশম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিভিন্ন কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং নেতৃবৃন্দকে সামাজিক অবদানের জন্য সুপ্রভাত সিডনির পক্ষ থেকে সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়। এ সময় অতিথিদের হাত থেকে এওয়ার্ড গ্রহণ করেন অস্ট্রেলেশিয়ান মুসলিম টাইমসের পক্ষে রুবিনা আহমেদ, সিডনি প্রেস এন্ড মিডিয়া কাউন্সিলের পক্ষে মোহাম্মদ আবদুল মতিন, সমাজসেবক যিয়াদ আল দাউদ, ইসাম ওবাইদ, ফয়সল হালিম, বাংলাদেশী সিনিয়র সিটিজেনস অস্ট্রেলিয়া, ওয়ালিদ মিজিয়াব, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ এনএসডব্লিউ, রাশেদ খান, শাপলা শালুক লায়নস ক্লাব প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ এবং সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এ সময় আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য শিবলি আবদুল্লাহর হাতেও সম্মাননা পদক তুলে দেয়া হয়।

সিডনির বহুল প্রচারিত মুসলিম কমিউনিটি রেডিওর পক্ষ থেকে ড. রফিক হোসাইন, অফ আমেরিকার প্রতিনিধি ড. শফিকুর রহমান, ইনডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট টাইমসের সম্পাদক অশোক কুমার,  চেক এন্ড স্লোভাক কমিউনিটি নিউজ পেপারের সম্পাদক ভ্রাতিস্লাভ রিকার্ডো, মাইগ্রেশন ল এডভাইজার শাকিল আহমেদ, শাপলা শালুক লায়ন্স ক্লাবের পক্ষ থেকে ড. মুইনুল ইসলাম, বিশিষ্ট সমাজ বিজ্ঞানী ড. জান আলী, ক্যান্টারবুরী-ব্যাংকসটাউন কাউন্সিলর বিলাল আল হায়েক, সুপ্রভাত সিডনির সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক ড. ফজলে রাব্বী, ইসলামিক চ্যারিটি প্রজেক্টের মুহাম্মদ শামস, অস্ট্রেলিয়ান বিজনেস সামিট কাউন্সিলের ড. ফ্রাংক আলাফাসি, সাবকন্টিনেন্টাল ফ্রেন্ডস এবং লেবার পার্টির প্রেসিডেন্ট হাসান কুরেশি, বাংলাদেশী সিনিয়র সিটিজেন অফ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে দেলোয়ার হোসেন খান, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ এনএসডব্লিউর পক্ষ থেকে মাহবুব চৌধুরী শরীফ প্রমুখ সম্মানিত অতিথিবৃন্দদের আনুষ্ঠানিক ভাবে মঞ্চে এনে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলেশিয়ান মুসলিম টাইমসের সম্পাদক জিয়া আহমেদ এবং শাপলা শালুক লায়নস ক্লাবের কর্মকতাবৃন্দ তাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও সুপ্রভাত সিডনিকে সম্মাননা পদক প্রদান করেন। সুপ্রভাত সিডনির পক্ষ থেকে সম্মাননা পদক গ্রহণ করেন প্রধান সম্পাদক আবদুল্লাহ ইউসুফ শামীম, সম্পাদক ড. ফারুক আমিন, রিপোর্টার গোলাম মোস্তফা, ফুয়াদ কবির, আবুল বাশার প্রমুখ।

দশম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এ অনুষ্ঠানে সুপ্রভাত সিডনির নিয়মিত লেখক ও প্রতিবেদকদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকায় ছিলেন পত্রিকাটির শুভানুধ্যায়ী পারভেজুল আলম, জহিরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, ইব্রাহিম খলিল মাসুদ প্রমুখ। পরবর্তীতে নৈশভোজের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ান বাংলাদেশী কমিউনিটর প্রধান পত্রিকা সুপ্রভাত সিডনির দশম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এই অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s