কি ভাবে এত কম সময়ে শেয়ার বাজারে এত ‘লস’ বা এত ‘লাভ’ হয়?

আমিও শেয়ার মার্কেট বা শেয়ার বাজারের এত ‘কম সময়ে বেশী লাভ বা বেশী লস’ এর বিষয়টা তেমন বুঝি না। দয়া করে কেউ কি বুঝিয়ে দেবেন, কি ভাবে এত ‘কম সময়ে শেয়ার বাজার থেকে শেয়ারে ক্ষুদ্র (১০ লাখ থেকে ১০০ লাখ টাকা) বিনিয়োগকারীরা সপ্তাহে সপ্তাহে হাজার হাজার টাকা লাভ প্রত্যাশা করে?? কি ভাবেই বা এত হাজার হাজার কোটি টাকা শেয়ার মার্কেট থেকে উধাও হয়ে যায়???

তবে, আমার ক্ষুদ্র জ্ঞ্যান আর অভিজ্ঞতা বলে, শেয়ার বাজার হচ্ছে এক ধরনের ‘কারসাজি’র খেলা! আর, শেয়ার মার্কেট সব দেশেই ‘জুয়া’ খেলার মত একটা ‘খেলা’।  এতুটুকু বুঝি এবং দেখেছি যে, শেয়ার বাজারের ‘খেলার মারপ্যাঁচ’ ও জটিল কুটিল বিষয় গুলি ভাল ভাবে  না জেনে, না বুঝে ‘খেলতে নামলে’ বিপদ বা লোকসান অনিবার্য। বাংলাদেশে কেন পৃথিবীর অনেক দেশে তাই হয় এবং হচ্ছে।

একটি বাস্তব উদাহরণ দেই, আমরা যেমন মাছ ধরার আগে পুকুরে মাছের খাবার বা “টোপ ” বা “আধার ” ফেলি, মাছ গুলোকে এক বিশেষ জায়গায় আনতে। তেমনি ভাবে, শেয়ারবাজার এর “কারিগর”রা এই ধরনের “টোপ ” ফেলে ২ বা ৩ সপ্তাহ বা আরো কিছু বেশী সময় ১০০০% থেকে ৫০০০% লাভ (কৃত্তিম ভাবে শেয়ার এর দাম বাড়িয়ে) দিয়ে লোভে ফেলে তাদের “শিকার” ধরে।

শেয়ার বাজার যদি অন্যান্য ব্যাবসার মত বা অঙ্কের মত ২ +২ = ৪ হয়  তাহলে কেউ শেয়ার বাজারেও “আসবে” না আর শেয়ার বাজারও “জমবে” না। এই চরম সত্যটা আমি ১৯৯৮ সালে (ICB ইউনিট বিক্রি করে) প্রায় ১০ লক্ষ টাকা শেয়ার মার্কেটে এ বিনিয়োগ করে পুরো টাকাটা খুইয়ে এই নির্মম সত্যটি বুঝেছি।

কারসাজির মাধ্যমে বাজার থেকে পাকা খেলোয়ড়রা কোটি কোটি টাকা লোপাট করে এবং করতেই থাকবে। শেয়ার মার্কেট এ বিনিয়োগ করে হাজার লক্ষ কোটি টাকা (লাভ) এত কম সময়ে কোত্থেকে আসবে?

এক জনের টাকা আরেক জনের পকেটে যায়। কাজটি সম্পূর্ণ বা আংশিক ‘অনৈতিক’। কিন্তু বেআইনী কী? আমি এখনও জানি না বুঝিও না। আমরা সব্বাই জানি যে, মুসলমানদের জন্য ব্যাঙ্কের সুদ খাওয়া ও সুদ দেওয়া এবং এই সুদ এর সাথে জড়িত থাকাও চরম অনৈতিক এবং ইসলাম ধর্মীয় দৃষ্টিতে বিশাল গুনহার কাজ।

কিন্তু তারপরেও কি কোটি কোটি মুসলমানরা এই সুদের (“রিবা”র) সাথে জড়িত না?  মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে সুদী ব্যাংক নেই?? আছে এবং বেশ ভাল ভাবেই আছে। কারন ব্যপারটি ধর্মীয় ভাবে অনৈতিক ও হারাম হলেও  কোন দেশেই তা বেআইনী নয়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে না।

এমনকি পৃথিবীর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে এই আধুনিক বা সুদী ব্যাঙ্কিং পদ্ধতি শুধু চলমানই না। ঐ সব মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের বেশ গুরুত্তপূর্ণ ও বড় অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান। ক্ষুদ্র বা/ও বড় বিনিয়োগ কারীদের নিকট আমার বিনীত জিজ্ঞাসা, এত কম কস্ট করে, কয়েক লক্ষ (বা কয়েক কোটি) টাকা দিয়ে, নামী বা বেনামী কোম্পানির কিছু “শেয়ার” কিনে, ঘরে বা অফিসে বসে যদি প্রতিদিন বা প্রতি মাসে হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ  টাকা লাভ বা পাওয়া যেত তাহলে, দেশের ছোট বড় শিল্পপতিরা আর ধনীরাও আমাদের চেয়ে আরও অনেক বেশী টাকা  (শত বা হাজার) কোটি কোটি টাকার “শেয়ার” কিনে ঘরে বা অফিসে বসে  প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা লাভ নিত বা পেত। কস্ট করে শিল্প-কল কারখানা দিতনা এবং তা কষ্ট করে পরিচালনাও করত না।

তাই যারা এমন কয়েক লক্ষ বা কোটি টাকা দিয়ে কিছু “শেয়ার” কিনে, ঘরে বা অফিসে বসে যদি প্রতিদিন হাজার হাজার বা মাসে লক্ষ টাকা লাভ পাওয়ার আশায় বসে বিনিয়োগ করে তারা আসলেই খুবই লোভী বা বেশী লোভী।

অতি লোভে, তাঁত যেমন নস্ট হয়ে যায় তেমনি অতি লোভ করাও পাপ আর সেই পাপে মৃত্যু ডেকে আনে। এবার আমার নিজের বোকামীর বা অতি লোভের কথা বলছি। আমি সেই ১৯৮৭ সাল থেকে প্রথমে ICB, পরে ICB AMCL (২০০৪ সাল থেকে), Bangladesh Fund এর  Unit Fund (২০১০ সাল থেকে) এ invest করে আজ অবধি বেশ লাভ (ডিভিডেন্ড) পাচ্ছি।

কিন্তু, মাঝ খানে ১৯৯৬ সালের শেয়ার বাজারের ঝটিকা লাভ দেখে এবং ১৯৯৭ সালে শেয়ার বাজারের পতন দেখে ১৯৯৮ সালে ICB এর (ডিভিডেন্ড) লাভ করা টাকা থেকে  প্রায় ১০ লক্ষ টাকা, শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করেছিলাম এক শেয়ার বাজার ‘বোদ্ধা’র মাধ্যমে।

কিন্তু, কম সময়ে বেশী লাভ করার মানসে শেয়ার বাজার বা শেয়ার মার্কেট এর পুরো জ্ঞান তো দুরের কথা নুন্যতম বা বেসিক জিনিস না বুঝে বিনিয়োগ করে পুরো টাকাটাই খুইয়েছি। সবশেষে  আমাদের অনেকের মত কম সময়ে “বেশী লাভ” পাওয়ার লোভে যারা শেয়ার বাজার বা শেয়ার মার্কেট সম্বন্ধে সঠিক ভাবে ও ভাল ভাবে না বুঝে জীবনের অনেক বা বড় অংশের বা সব সঞ্চয় বিনিয়োগ করে বিশাল লসের শিকার হয়েছেন তাঁদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।

লেখকঃ শফিকুর রহমান অনু

অকল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড প্রবাসী

আজ রিয়াশার জন্মদিন

আজ ২৭ শে জুলাই, দেখতে দেখতে আমার মেয়েটা আজ আঠারো তে পা দিল। সময় কত দ্রুত চলে যায়, মনে হয় এই তো সেদিন শুক্রবার সকালে দশটায় রিয়াশার জন্ম হলো সিডনি রয়েল প্রিনস আলফ্রেড হাসপাতালে, আমার কোল জুড়ে আসলো আমাদের একমাত্র মেয়ে এবং রাতুলের একমাত্র আদরের বোন। সকুল ছুটির পরে যখন রাতুল শুনলো ওর আদরের একটা বোন হয়েছে, খুশীতে হাউমাউ করে কেদেঁছিল। হাসপাতালে এসে বোনকে চেপে ধরে রেখেছিল, বাসায় যেতে চাইছিল না, আমার সংগে বোনকে নিয়ে হাসপাতালেই থাকবে।

রিয়াশা আমাদের পরিবারের অর্থত আমার বাবা মায়ের প্রথম নাতিন। সেদিন ঢাকায় আমাদের বাসায় ও সবাই যেন ঈদ এর খুশীতে আনন্দিত ছিল। ফোনে যখন খবর পেলো মেয়ে হয়েছে, আমার ছোট  বোন ফোন হাতে নিয়ে খুশীতে হাউমাউ করে কেঁদে বলছিল মেয়ে হয়েছে, আমমা বুঝতে পারছিলেন না কি বলছে ভেবেছিলেন বোধ হয় খারাপ কিছু। এই ছিল সেদিনের অবস্হা।

এক বছরের মেটারনিটি লিভে ছিলাম রিয়াশার চার মাস বয়সে ঐ বছরে নভেম্বর সপরিবারে দুই মাসের জন্য বাংলাদেশে গেলাম পথে সিংগাপুরে তিনদিন থাকলাম। ঐ বছরটা যেন খুশি আনন্দেই কাটছিল প্রতিটা দিন। বাংলাদেশে সবাই অপেক্ষা  করছিল কখন রিয়াশা কে দেখবে, ওর দাদুর বাড়ি নানুর বাড়ি আনন্দের এক মহা বন্যা বয়ে গেল। পাচঁ পাচঁটি নাতির পরে আববা আমমার আদরের নাতিন আসলো, গোসল করানো, ঘুম পাড়ানো, খাওয়ানো নিয়ে সবাই মহা ব্যস্ত হয়ে গেলো।  আমাদের বাসাটা তখন ছিল যমজমাট, আব্বা-আম্মা, দুই ভাই তাদের পরিবার, ছোট দুই বোনের বিয়ে হয়নি তখনো ওরা পড়াশোনা করছে, সবাই একসাথে থাকতো। বাসাটি ছিল এখনকার অপোজিট, খুবই জমজমাট ছিল, বিকাল হলে নানা রকমের নাসতার ধুম পরে যেতো, হৈ চৈ আনন্দ লেগেই ছিল। সময়ের সাথে সাথে জীবনের বিরাট পরিবর্তন।  

 যাই হউক, প্রেগনেনট অবস্থায় আমি যখন ডাক্তার এর কাছে জেনেছি মেয়ে হওয়ার সম্ভাবনা বেশী, সেদিন থেকেই কেনা কাটা বাচ্চার প্রয়োজনীয় জিনিস যাই কিনতাম  সবই যেন পিংক কালারের হতে হবে, মেয়ের একটা থিম থাকতে হবে।

বাচচারা যখন ছোট ছিল মনে হতো কবে বড় হবে। এখন মনে হয় ছোট ছিল ভালোই ছিল।

আল্লাহ রিয়াশা কে যেন সবসময় সুস্থ ও নিরাপদে রাখেন এবং সৎ আদর্শবান মানুষ হিসাবে জীবনে বেড়ে উঠতে পারে এই প্রার্থনা রইলো আল্লাহর কাছে।

লেখিকা: রওশন পারভীন, সিডনি