লাকেম্বায় প্রবাসী বাংলার পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত

মিজানুর রহমান সুমন: শীত এসেছে অস্ট্রেলিয়ায়। প্রকৃতির নিয়মে এই প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে যখন শীত, বাংলাদেশে তখন গ্রীষ্ম। তাই বলে থেমে নেই সিডনিবাসীর বাংলা সংস্কৃতি চর্চা। হাজার মাইল দূরে এসেও আবহমান বাংলার পিঠাপুলির স্বাদ আবার পাইয়ে দিলো লাকেম্বার পিঠা উৎসব।

গত ৬ জুলাই (শনিবার) ছোট্ট বাংলাদেশ যেনো নেমে এসেছিলো লাকেম্বার চার্চ কনফারেন্স রুমে। বেশ কয়েকটি স্টল , কিছু শাড়ি চুড়ির দোকান আর সাথে ছিল স্থানীয় শিল্পীদের গাওয়া বাংলার চিরায়ত গান। অনুষ্ঠান স্থলে ছুটে আসেন দূর দূরান্ত থেকে পিঠাপ্রেমীরা। সকাল এগারোটায় শুরু হয়ে পিঠা উৎসব চলে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত।

পিঠা উৎসবে ছিলো হরেক রকমের পিঠু পুলির সমাহার। স্থানীয় গৃহিনীরা নিজের হাতে তৈরি করে নিয়ে এসেছিলেন এসব পিঠা। নামমাত্র মূলে সেসব পিঠার স্বাদ আস্বাদনের সুযোগ পায় দর্শনার্থীরা। অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেক দিন পরে গ্রাম্য পিঠার স্বাদ পেয়ে তারা সন্তুষ্ঠ। আয়োজকদের মধ্যে ছিল ব্যপক উৎসাহ। তারা আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই মেলা আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

সিডনিতে দেশীয় সাংবাদিকতাঃ একটি সামাজিক আন্দোলন

সিডনিতে প্রায় দেড় থেকে দুই ডজনেরও বেশি প্রিন্ট ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল রয়েছে। আছে আইপি টিভি ও অনলাইন টিভি। অনেকে দেশের প্রিন্ট, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও স্যাটেলাইট টিভির সাথে কাজ করছেন। বিগত কয়েক বছর আগেও হাতে গোনা কয়েকটি প্রিন্ট পত্রিকা ছিল। তাতে স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটির নিউজও ছিল হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র।

প্রায় আট বছর আগে আমি যখন কিছু লেখালেখির চেষ্টার পাসশাপাশি প্রিন্ট পত্রিকাগুলিতে প্রকাশ করার আগ্রহ নিয়ে পাঠাই তখন তার একটাও প্রকাশিত হয়নি। লজ্জিত ভঙ্গিতে পত্রিকার সম্পাদক মহাদোয়দের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারি যে তাদের সম্পাদকীয় কমিটি আমার লেখাগুলি প্রকাশের জন্য মনোনীত করেনি। আমি অন্যভাবে চেষ্টা করি। কিছু নিউজ ছবিসহ লিখে পাঠাই। কিন্তু আমার কোন নিউজও প্রকাশিত হয়না।

পরবর্তীতে  দেশের কিছু নামকরা পত্রিকায় গল্প ও নিউজ পাঠানো শুরু করলাম। তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলো। কিভাবে নিউজ এডিট করতে হয় কিভাবে গল্পের প্লট সাজাতে হয় হাতে কলমে শিখতে লাগলাম। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সম্প্রতি সিডনি থেকে প্রকাশিত পাঠক প্রিয় বেশ কয়েকটি প্রিন্ট পত্রিকা তাদের সম্পাদকীয় টিমে কাজ করার অফার দিয়েছে।

আসলে আমি বিষয়টি অন্যভাবে দেখছি। সিডনিতে এখনও দেশীয় সাংবাদিকতা শক্ত ভিতের উপর দাঁড়াতে পারেনি।আমি বরাবরই এখানকার প্রায় অনেকগুলি প্রিন্ট ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল গুলিতে নিউজ ও গল্প নামে কিংবা বে নামে কন্ট্রিবিউট করে থাকি। এখন যদি কোন একটি নিদিষ্ট পত্রিকার সম্পাদকীয় টিমে কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হই সেক্ষেত্রে অন্য পত্রিকাগুলিতে নিউজের ঘাড়তি দেখা দিতে পারে। যা হয়তো এখানকার সংবাদ মিডিয়াকে টিকিয়ে রাখার জন্য হুমকি হতে পারে।

এখন অনেক কিছুরই পরিবর্তন ঘটেছে। সামাজিক কিংবা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের কোন মেলা বা অনুষ্ঠান করার আগে অন্ততঃ একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। রান শিটের মাধ্যমে তাদের পরিকল্পনা শেয়ারের পাশাপাশি সাংবাদিকদের পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে। মেলায় সাংবাদিকদের জন্য ফ্রি এন্ট্রি, গাড়ী পার্কিং সহ মিডিয়া সেলের ব্যবস্থা থাকে।

কয়েক বছর আগে আমন্ত্রিত সাংবাদিক হয়ে একটি মেলায় গেছি। আয়োজকদের একজন গেটে জানালেন, আমার টিকেট অন্য একজনকে দিয়ে দিয়েছেন। আমি ধৈর্যের পরীক্ষা দিলাম। অনেকক্ষন অপেক্ষার পর একটি দলিত মতিথ টিকেট আমাকে করুনা ভরে ধরিয়ে দিলেন।আমি সেই রাতেই অনলাইন ও টিভি নিউজ করলাম। পরদিন দুপুরে ঐ আয়োজকের ফোন পেলাম। তিনি জানালেন, আপনি তো ভাই চিচিং ফাক করে দিয়েছেন। টিভিতে আমাদের মেলার নিউজ দেখে দেশ থেকে আমার ছোট বোন ফোন করেছে, হাহাহা।

তবে মন্দের ভালো এখন কোথায় গেলে পরিচয়পত্র দেখতে চায়না। আগে তো পরিচয়পত্র দেখাতে না পারলে এই মারে তো সেই মারে অবস্থা। গত মাসে একটা অনুষ্ঠানে গিয়ে খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি। সামনের একজন বয়স্কা ভাবী বলল, দেখেন তো ভাই ভুল করে খাবারের টিকেট বাসায় ফেলে এসেছি। এখন গাড়ীও তো সাথে নেই যে বাসায় গিয়ে টিকেট নিয়ে আসবো। আমি আমার খাবারের টিকেট ভাবীকে ধরিয়ে দিলাম। তিনি প্রশ্ন করলেন, আপনার কি হবে? আমি তাকে অভয় দিলাম। ভাবী খাবারের প্যাকেট নিয়ে আমার জন্য দাঁড়িয়ে রইলো।

আপনার খাবারের টিকেট কৈ? খাবার দাতা প্রশ্ন করলেন। আপনাকে তো এইমাত্র টিকেট দিলাম। ঐ তো আপনি নিয়ে ওখানটায় রাখলেন। তিনি চমকে আমার আপাদমস্তক দেখলেন। মনের সাথে যুদ্ধ করে তাছিল্যের ভঙ্গিতে আমাকে খাবারের প্যাকেট ধরিয়ে দিলেন। কিছুক্ষন পর আরেকটা খাবারের টিকেট পেলাম। খাবার দাতা সেই ভদ্রলোকের কাছে গিয়ে টিকেটটা তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললাম, ভাইজান টিকেট তোঁ পেয়েছেন আবার দয়া করে একটু মিষ্টি করে হাসেন।

গত বছর প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান কভার করতে কনভেনশন সেন্টারে গেছি। প্রথমদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী জুলি বিশপ সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আছেন। আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে প্রশ্ন করলাম, আমাদের প্রধানমন্ত্রী এওয়ার্ড নিতে আগামীকাল এই অনুষ্ঠানে আসছেন, তোমার অনুভুতি কি? প্রশ্ন করার পর মনে হোল, আমি ক্যামেরা ও বুম দুইটা একসাথে কিভাবে ধরবো? আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাহায্য চাইলাম। তিনি নিজ হাতে বুম তুলে নিলেন এবং আমাকে ক্যামেরা স্ট্যান্ডে বসাতে সময় দিলেন। বিদেশী সাংবাদিকরা সবাই তাকিয়ে আছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রী তার উত্তর শেষ করে বুম আমার হাতে ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, ম্যানি থাঙ্কস ইয়াং ম্যান।

(চলবে)

নাইম আবদুল্লাহ

সিডনি মেলবোর্ন ও ক্যানবেরায় চন্দ্রবিন্দুর গান

এখন এই দুনিয়া ডট কমের যুগে যখন সমস্ত কিছুই খুব এলোমেলো হয়ে আছে, তখন আমাদের, বাঙ্গালীর হাতে যে মাত্র দুটিই অস্ত্র পড়ে রইল, তা অন্যকে আঘাত করার জন্য নয়, বরং এই দুটিই ব্যবহৃত হয় নিজেকে কিছুটা ভাল রাখার জন্য। 


এই দুই অস্ত্র হল নস্টালজিয়া ও ব্যঙ্গ। নব্বই দশকে একদিকে যেমন  পশ্চিমবঙ্গের সুমন আমাদের মোহিত করে দিলেন, অন্যদিকে আমাদের সমসময়ের নস্টালজিয়া ও রাজনীতি নিয়ে গান লিখলেন চন্দ্রবিন্দু। তাদের শ্লেষ এবং ব্যঙ্গে গভীরতম রাজনীতিই ফুটে উঠল। কিন্তু তা বিনোদনের মোড়কে। 


এখানেই চন্দ্রবিন্দুর সঙ্গে অন্যান্যদের পার্থক্য। অন্যান্যদের ক্ষেত্রে সিরিয়াস কথাটি থাকে তাদের গানের মোড়কে অথচ ভিতরে ফাঁপা বিনোদন। চন্দ্রবিন্দুর ক্ষেত্রে সিরিয়াস কথাটিই শাঁস। বাইরের মোড়ক বিনোদনের। অর্থাৎ তাদের আপাত মজার ভিতরে খুঁড়লে আমাদের অস্তিত্বের করুণতম অবস্থাগুলিকে দেখতে পাব আমরা। 


“ব্রহ্মা জানেন” গানটি যদি স্বয়ং মিশেল ফুকো শুনতেন, আনন্দ পেতেন বলে আমাদের ধারণা। তেমন ভাবেই বলা যায় “তৃতীয় বিশ্ব / আসলে নি:স্ব যার সঙ্গী শুধু পাশবালিশ” – তার কথা। 


বলা যায় “ত্বকের যত্ন নিন” গানটির কথা। আমাদের এই মধ্যবিত্ত অস্তিত্বের সবকিছুকে মানিয়ে চলার মধ্যে যে অসঙ্গতিগুলি আছে, সেগুলি যে আসলে খুবই হাস্যকর এবং গভীর ভাবে রাজনৈতিক, তা বাংলা গানে চন্দ্রবিন্দুই আমাদের, যাকে বলে ঘাড় ধরে, দেখিয়ে দেয়। চন্দ্রবিন্দুর প্রেমের গানগুলিকেও তাই গভীরভাবে রাজনৈতিক গানও বলা যায়। হয়ত এই ব্যঙ্গ, শ্লেষের দুনিয়ায় তা আমাদের কোনো নির্দেশ দেয় না, কিন্তু নিজেদের নিয়ে হাসতে, কাঁদতে, বাধ্য করে। রাগ হয়। কষ্ট হয়। এবং যে ক্যাথারসিসটি ঘটে, তা আমাদেরই নিজস্বী বা সেলফি। এটাই করেছে চন্দ্রবিন্দু। কিন্তু এটা আর কেউ করেনি। তো এই চন্দ্রবিন্দুর বিগব্যাং ঘটতে চলেছে এবার অস্ট্রেলিয়ায়। এই মহাদেশেই প্রথমবারের জন্য। আর সেটা ঘটাতে চলেছে বেঙ্গলি সিনে ক্লাব। আগামী ৩১ শে আগষ্ট সিডনি, ৭ ই সেপ্টেম্বর মেল বোর্ন এবং ৮ই সেপ্টেম্বর ক্যানবেরায় চন্দ্রবিন্দু আসছে আপনাদের গান শোনাতে। ইতিমধ্যেই শো গুলোর অর্ধেকের বেশি টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে এবং আমরা সবাই পরিবার এবং বন্ধুদের নিয়ে অংশগ্রহন করলেই ‘মিলনায়তন পূর্ন’ হয়ে যাবে অনায়াসে। শোগুলি সম্পর্কে বাকি তথ্য জানতে চোখ রাখুন, চোখ ফেলুন, ঘোরান, তাকান আমাদের এই ওয়েবপাতায় www.bengalicineclub.com.au

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ সাউথ ওয়েলস” এর ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ সাউথ ওয়েলস” এর  ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

নাইম আবদুল্লাহ: আজ  ১ জুন (শনিবার)  অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ কমিউনিটির পুরোনো সামাজিক সংগঠন “বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ সাউথ ওয়েলস” এর উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ সাউথ ওয়েলস এর সভাপতি মাহবুবু চৌধুরী, সাধারন ও সাংগঠনিক সম্পাদক, প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান এবং প্রাক্তন সদস্য, সাংবাদিক এবং সিডনির নানা পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। 
সংগঠনটি গত ১৯ বছর ধরে বিডি গোল্ডকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট পরিচালনাসহ সামাজিক কার্যক্ষম পরিচালনা করে আসছে।

অস্ট্রেলিয়ায় আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

নাইম আবদুল্লাহ: ২৩ জুন (রবিবার) ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ,অস্ট্রেলিয়া।সকালে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে শুরু দিনটি পালনের আনুষ্ঠানিকতা।

এরপর আওয়ামী লীগ ও আ’লীগের সকল সহোযোগী  সংগঠনের উদ্দোগ্যে ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। বিকেলে সিডনির বাংলাটাউনের গ্রামীন রেস্টুরেন্টে  আওয়ামী লীগের ৭০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষীকি উপলক্ষে ‘আ’লীগের গৌররময় সাত দশকের অর্জন’ বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত আলোচনা সভায় অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি আইনজীবী সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মেহেদী হাসান কচি, মোহাম্মাদ আলী সিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক দিদার হোসেন,কোষাধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম লাবু,সিডনি আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্মল কস্টা, সাধারন সম্পাদক ফয়সাল আজাদ,সাংগঠনিক সম্পাদক আইজিদ আরাফাত অরূপ, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালাম, অস্ট্রেলিয়া সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আল জাকারিয়া স্বপন, অস্ট্রেলিয়া ছাত্রীলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক মিকু চৌধুরী। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন যুগ্ন-সাধারন গিয়াসউদ্দিন মোল্লা।

আইনজীবী সিরাজুল হক বলেন, ‘ আওয়ামী লীগ মানে সংগ্রামের নাম, আওয়ামী লীগ মানে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার নাম, আওয়ামী লীগ মানে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের নাম ৷ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’ এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের প্রধান উপদেষ্টা গামা আব্দুল কাদির, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ড. মাসুদুল হক প্রমূখ৷

অস্ট্রেলিয়া আ’লীগের প্রধান উপদেষ্টা গামা আব্দুল কাদির বলেন, ‘আওয়ামী লীগের যখন জন্ম হয়েছিল তখন রাজনীতি ছিল ড্রয়িং রুম ভিত্তিক। সেই রাজনীতিকে গণমানুষের কাতারে নিয়ে এসেছিল আওয়ামী লীগ। ৭০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ এখন গণমানুষের একটি প্রিয় দলে পরিণত হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে এ দেশ অনেক আগেই সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত দেশে পরিণত হতো। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধীরা তা চায়নি। তাই তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। তারা মনে করেছিল বঙ্গবন্ধু না থাকলে দেশ থেমে যাবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তা হতে দেননি। তিনি বাংলাদেশকে অনুন্নত থেকে স্বল্পোন্নত দেশে নিয়ে গেছেন।’

অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ ছাড়াও সিডনি আওয়ামী লীগ, অস্ট্রেলিয়া ছাত্রলীগ, যুবলীগ,স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা এতে অংশগ্রহণ করে।

সিডনিতে চাঁদ রাত আয়োজনের সাফল্যে ধন্যবাদ জ্ঞাপন

সিডনিতে  চাঁদ রাত আয়োজনের সাফল্যে ধন্যবাদ জ্ঞাপন

নারীদের আত্মনির্ভরশীলতা এবং স্বয়ং-সক্ষমতা ও স্বাবলম্বিতা বাড়িয়ে দেশীয় ঐতিহ্যে লালিত বাংলাদেশের নারীদের পাশে দাঁড়ানো সহ তাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাবার প্রত্যয়ে অষ্ট্রেলিয়ার সিডনির স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান স্পিক্ আপ ইওর ভয়েস তাদের সাধ্যানুযায়ী নিরলস কাজ করে চলেছে। 
তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৮শে জুন (শুক্রবার) সিডনির লাকেম্বাস্থ খুশবু রেস্টুরেন্টে গত ঈদুল ফিতর চাঁদ রাতের অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, স্পিক্ আপ ইওর ভয়েস এর সভাপতি কাশফী আহমেদ। আরো উপস্থিত ছিলেন লেস ফিতার চেয়ারম্যান তাম্মি পারভেজ এবং হেমা রেজওয়ান, উম্মে কুলসুম, তাফতুন নাঈম নীতু, পলি আহমেদ, মাসুদা জামান ছবি, নাহার কামরুন ও ফাইজুন নাহার পলি। 
অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের প্রসার ও প্রচারে প্রবাসে সকল বাঙালি নারী একত্রিত হয়ে একে অপরের সহায়ক হবে এই মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
অনুষ্ঠানের আরো সিদ্ধান্ত হয় যে, এখন থেকে প্রতি দুই ঈদে চাঁদরাত কমিটি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। এবং দেশে ও বিদেশে অবস্থিত নারীদের বাণিজ্যিক প্রসারে নানান কর্মসূচি গ্রহণ করবে। পাশাপাশি প্রতি ঈদে সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের কল্যাণে নিজেদের ভূমিকা পালন করবে। আজকের তরুণীদের আগামীর ভবিষ্যৎ গঠনের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রবাসে পর্যাপ্ত ও অনুকুল নারী বান্ধব অবকাঠামো থাকার পরও আগ্রহী সদস্যদের উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী বাজারজাত করণে কার্যকর কোন ভূমিকা রাখার ব্যাপারে সম্ভাব্যতা যাচাই করা যেতে পারে। প্রবাসের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য ও সেবা বিপণন এবং বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে একটি নারী উদ্যোক্তা বান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্পিক্ আপ ইওর ভয়েস পর্যায়ক্রমে এবং সর্বজনীন ভাবে গড়ে তোলার প্রয়াস নেয়ার পক্ষে আগ্রহী।
এতে করে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে গতি সঞ্চারিত হবে; নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে; নারী ও পুরুষের বৈষম্য হ্রাস পাবে। সর্বোপরি নারীর ক্ষমতায়ন এবং পর্যায়ক্রমে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন হবে।
ষ্পিক আপ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সাজিয়া আফরিন, ফাউন্ডার মেম্বার শারমিন সূচনা, জান্নাতুল ফেরদৌস অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে না পাড়ার জন্য মুঠো ফোনে দুঃখ প্রকাশ করেন।

লাকেম্বা ঈদ বাজার আগামী ৩ ও ১০ আগস্ট

রঙিন শাড়ির আঁচলে বাঁকা চাঁদের আলোর প্রতিফলন, বর্ণিল পাঞ্জাবি, ঢাকার হাল ফ্যাশনের চমৎকার সব সালোয়ার কামিজ, বাহারি অলংকার আর তার সাথে রূপসজ্জার সৌন্দর্য সামগ্রী।

ঈদের আনন্দকে কেন্দ্র করে ক্রেতাদের জন্য নতুন ফ্যাশনের দিক নির্দেশনা লেইস ফিতা সিডনি ইনক্ এর আয়োজনে আগামী ৩রা আগষ্ট এবং ১০ই আগস্ট লাকেম্বা’র জুবিলী রিজার্ভে আয়োজন করা হয়েছে গ্র্যান্ড লাকেম্বা ঈদ বাজার।
সিডনিতে বাঙ্গালীদের প্রাণকেন্দ্র লাকেম্বা স্টেশনের খুব কাছেই জুবিলী রিজার্ভে এই প্রথমবারের মতো পর পর দুই শনিবার ব্যাপী আউটডোরে এই আয়োজন করা হচ্ছে।

এই আয়োজনে আমরা খুব কম মূল্যে স্টলগুলো ভাড়া নেবার সুযোগ দিচ্ছি এ কারণেই যে নতুন যারা বিজনেস স্টার্ট করেছেন তারা যাতে একটা ভালো প্লাটফর্ম পান তাদের নিজেদের বিজনেস কে প্রমোট করার জন্য ।এছাড়াও এই মেলার বৈচিত্র্যময়ী আয়োজনে অংশগ্রহণ করছে সিডনির বড় এবং জনপ্রিয় ফ্যাশান বুটিক হাউসগুলো যারা আপনাদের জন্য নিয়ে আসবে নতুন চমক এবং ফ্যাশনে নতুন বৈচিত্র্য। সিডনি ছাড়াও ক্যানবেরা এবং মেলবোর্ন থেকেও স্টল হোল্ডার’রা অংশগ্রহণ করছে।

লেইস ফিতা সিডনি ইনক্ আয়োজিত ঈদ বাজার এ থাকছে বিভিন্ন দেশীয় ফ্যাশন-বুটিক, জুয়েলারি, হিজাব-আবায়া, খেলনা, খাবার এবং ইনফরমেশন স্টল। ক্রেতাদের নজর কাড়তে বর্ণিল সাজে সাজানো হবে স্টলগুলো।

শীতের কথা মাথায় রেখেই আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী পিঠার স্টল থাকছে। আর থাকছে রূপচর্চার স্টল যেখানে রূপচর্চা ও রূপসজ্জার জন্য পরামর্শ নিতে পারবেন সম্পূর্ণ ফ্রিতে!জাঁকজমক পূর্ণ আনন্দ-উল্লাসে ভরা এই সম্মিলিত ঈদ মেলায় জুবিলী রিজার্ভ ক্রেতা-দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে এবং দুই দিনব্যাপী এই মেলা ঈদ কেনাকাটায় বৈচিত্র্য এনে তা ক্রেতার আশা পূরণে সক্ষম হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

গ্র্যান্ড লাকেম্বা ঈদ বাজার এর পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা। বিদেশের মাটিতে ঈদের আমেজের ছোঁয়া এবং ভালবাসার রঙে আপনারা হয়ে উঠুন উৎসবের রঙে রঙিন।

সিডনিতে অসট্রালবিল্ড বৈশাখী মেলা আগামী ৪ এপ্রিল

নাইম আবদুল্লাহঃ বঙ্গবন্ধু পরিষদ সিডনি বাংলা বর্ষবরণ ১৪২৭ উদ্‌যাপনকে সামনে রেখে আবারও সিডনিতে অসট্রালবিল্ড বৈশাখী মেলার আয়োজন করেছে। আগামী বছরের ৪ এপ্রিল (শনিবার) স্মিথফিল্ড রোডের ফেয়ারফিল্ড শো-গ্রাউন্ডে এ মেলা সকাল ১০টায় শুরু হয়ে চলবে রাত ১১ টা পর্যন্ত।
মেলায় দিনব্যাপী নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি থাকবে আতশবাজির জমকালো আয়োজন। এ ছাড়াও বিশেষ কিছু চমকপ্রদ পরিবেশনা থাকবে বলে জানায় মেলার আয়োজক বঙ্গবন্ধু পরিষদ সিডনি।
মেলার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা সভা ও সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হবে বলে জানান মেলার আহ্বায়ক গাউসুল আলম শাহজাদা। তিনি আরও জানান, অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতির ধারণা দেওয়ার জন্য মেলার অনুষ্ঠানকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।