সিডনির ইঙ্গেলবার্নে ঈদ এক্সিবিশন অনুষ্ঠিত

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গত ২৮ জুলাই (রোববার) সিডনি বাঙালি কমিউনিটি ইনক্ ইঙ্গেলবার্নের গ্রেগ পার্সিভাল হল প্রাঙ্গনে দিনব্যাপী সিডনি-বাংলাদেশি ঈদ এক্সিবিশন এর আয়োজন করে। বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আয়োজিত এই ঈদ এক্সিবিশনে ২৬টি স্টলে বাংলাদেশি ও উপমহাদেশীয়  সব ধরনের ঈদ পোশাক, শাড়ি, শাল, জুতা ও নানা ধরনের গয়না স্থান পায়।

এই এক্সিবিশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সাংসদ অনুলাক চান্টিভংগ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিংকার্স রিয়েল এস্টেটের নির্বাহী প্রধান মাহমুদ হোসেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বাংলাদেশী অস্ট্রেলিয়ান নারীদেরকে ফ্যাশন এবং বুটিক নিয়ে কাজ করার সাথে সাথে অর্থ উপার্জনের এই সফল উদ্যোগ নেয়ার জন্য সিডনি বাঙালী কমিউনিটির অন্যতম সেলিমা বেগম এবং টিমের সকল সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন। বিশেষ অতিথি মাহমুদ হোসেন এই এক্সিবিশনের ভূয়সী প্রশংসা করে এই ধরণের সকল কাজে সার্বিকভাবে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

প্রচুর পরিমানে হাল-ফ্যাশনের দেশী ও উপমহাদেশীয় ঈদ বস্ত্রাদি ও অলংকার সামগ্রী ছিল এই এক্সিবশনের প্রতিটি স্টলে। দেশীয় পোষাক,রঙ, ডিজাইন ও ফ্যাশনের উপর গুরুত্ব তুলে ধরাই এই ঈদ এক্সিবিশনের মূখ্য উদ্দেশ্য ছিল।

ঈদ এক্সিবিশনের আয়োজক সিডনি বাঙালি কমিউনিটি ইনকের পক্ষে পূরবী পারমিতা বোস জানান, যদিও ধারণা করা হয়েছিল কোরবানির ঈদে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম হবে, কিন্তু অবাক ব্যাপার হল দিনব্যাপী এক্সিবিশনে প্রচুর দর্শক ও ক্রেতাদের সমাগম ঘটেছে।  পোষাকের গুনগত মান, গহনা ও অন্যান্য সামগ্রী সমাগম এবং নামমাত্র মূল্যের স্টল ভাড়ার কারণে বুটিক হাউজগুলো পন্যের দাম কম রাখতে পেরেছে। ফলে এতে ক্রেতা- বিক্রেতা উভয় পক্ষই খুশী ছিলেন। পর্যাপ্ত ফ্রী কার পার্কিং এবং ট্রেন স্টেশন নিকটবর্তী অবস্থানে হওয়ায় ইঙ্গেলবার্নের এই আয়োজনে এবার আশাতীত ক্রেতা আসেন। হাল-ফ্যাশনের পণ্যের জোগান থাকায় ক্রেতারা আগামী আসরেও অনেকে আসবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সিডনির ল্যাকেম্বায় নির্মিত হবে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ

একুশ মানে মাথা নত না করা, ৫২-এর ভাষা আন্দোলনের এই ত্যাগ ও আত্ম মর্যাদাবোধকে স্বীকৃতি দিয়েছে খোদ ইউনেস্কো। কানাডার সালাম-রফিকদের হাত ধরে নিজ নিজ ভাষা সংরক্ষণের আন্দোলনকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছেন প্রবাসী বাংগালীরা। তারই হাত ধরে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বাঙ্গালী পাড়া বলে খ্যাত লাকেম্বায় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আর প্রকল্পটি গ্রহন করেছে কেন্টারবুরী-ব্যাঙ্কসটাউন সিটি কাউন্সিল।

সমগ্র বাংলাভাষা-ভাষীদের পক্ষ্য থেকে সিডনির সমস্ত ভাষা-ভাষীদের তাদের মাতৃ ভাষার সাথে সংযোগ ঘটাতে সিটি কাউন্সিলের প্রবাসী বাংলাদেশী কাউন্সিলর নাজমুল হুদা, কাউন্সিলর শাহে জামান টিটো, মুনীর হোসেইন-এর এই উদ্যোগের সাথে আরো ছিলেন আদুল্লাহ আল নোমান শামীম ও লিঙ্কন শফিকুল্লাহ।

গত ২৮শে জুলাই সিডনির লাকেম্বায় এই ঐতিহাসিক মুহুর্তটি প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন করে সারা অস্ট্রেলিয়া তথা বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে সবাই একত্রিত হয়েছিলো। সাংবাদিক সম্মেলনে পরিকল্পনাটি তুলে ধরেন বাংলা হাব’এর মুনীর হোসেইন,  কাউন্সিলের কাজ ও এই প্রজেক্টের কথা তুলে ধরেন কাউন্সিলর নাজমুল হুদা, আমাদের করনীয় ও এর সাথে বাংলাদেশী কম্যুনিটির সম্পর্ক তুলে ধরেন কাউন্সিলর শাহে জামান টিটো, সহযোগিতার ব্যাপ্তি তুলে ধরেন লিঙ্কন শফিকুল্লাহ এবং সংবাদ সম্মেলনটি পরিচালনা করেন মুক্তমঞ্চের সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান শামীম।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক ও বাংলা ভাষায় যারা বহুদিন সিডনিতে কাজ করছেন তাদের মতামত ও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়। সম্মেলন এই মহতী উদ্যোগের সাথে সবাইকে জড়িত হওয়ার আহবান জানানো হয় এবং উপস্থিত প্রত্যেকেই এই উদ্যোগের সাথে মনে-প্রানে একসাথে থাকার অঙ্গীকার করেন। সিডনির বাঙালিপাড়া খ্যাত লাকেম্বার পিল পার্কে এ স্মৃতিসৌধ নির্মিত হবে।

মুলত সিডনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সিডনির ক্যান্টারব্যারি ব্যাংকসটাউন সিটি কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে এই স্মৃতিসৌধের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই কাউন্সিলরের অধীনে একটি ব্যাঙ্ক একাউন্ট খোলা হয়েছে। অর্থ সংগ্রহ ও আনুষঙ্গিক কাজ নিয়ে আগামী ১৮ই আগস্ট একটি কম্যুনিটি বারবিকিউ মিটিং-এর আয়োজন করা হয়েছে স্মৃতিসৌধের প্রস্তাবিত স্থান পিল পার্কে, বেলা ১২টায়। এ ছাড়াও যে কেউ কাউন্সিলের কাছে অনুদান পাঠাতে পারবেন। স্মৃতিসৌধ নির্মাণের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার। ক্যান্টারব্যারি ব্যাংকসটাউন সিটি কাউন্সিল ও দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সহযোগিতায় এই অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

পার্থ প্রতীম বালা’র অনবদ্য ডিজাইনে সকল ভাষাভাষীর সম্মানে এই স্মৃতিসৌধে ফুটে উঠেছে বহুজাতিকতা, আত্মনির্ভরতা আর একুশের চেতনায় লালিত ইউনেস্কোর স্বীকৃতি। স্মৃতিসৌধটির প্রাথমিক নকশাটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। নকশায় একটি বেদি থেকে দুটি হাতের ওপর পৃথিবীকে তুলে ধরে রাখা—এমন একটি কাঠামো রয়েছে। পৃথিবীর নকশাটিতে বাংলা ভাষার অক্ষরসহ বিভিন্ন ভাষার অক্ষর রয়েছে। স্মৃতিসৌধের উচ্চতা ও প্রস্থ হবে ২৮ ফুট করে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০০৬ সালে সিডনির অ্যাশফিল্ড পার্কে একুশে একাডেমী অস্ট্রেলিয়ার  উদ্যোগে বিশ্বের প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়।

ইতিমধ্যেই আই অনবদ্য সফলতায় গা’ ভাসিয়েছেন প্রবাসী বাঙ্গালীরা, আনন্দে উদ্বেল প্রবাসীরা অপেক্ষা করছেন ইতিহাস তৈরীর এই আয়োজনে শরীক হওয়ার জন্য,  এর জন্য তারা কাউন্সিলের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, বহুজাতিক সমাজে এটি আমাদের বাঙ্গালীদের অন্যতম সফলতা ও স্বীকৃতি।

ভিআইপি সংস্কৃতি ও তিতাসের করুণ মৃত্যু

অনেক আগে থেকে একটা জোকস আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে যে, কোনো এক লোককে টিকিট ছাড়া একটু অনুষ্ঠানে প্রবেশের জন্য আটকানো হয়। লোকটি অবাক হয়ে বাধাদানকারীর মুখে দিকে তাকায়। বলে, আপনি জানেন আপনি কার পথ আটকিয়েছেন? আপনি জানেন আমি কে? বাধাদানকারী লোকটি কিছুটা ভড়কে যায়। কিছুটা ভয় নিয়ে ওই দম্ভকারী লোকটার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। ভয়ে ভয়ে বলেন, নাতো, আপনি কে? লোকটি বুক ফুলিয়ে জবাব দেন-আমার ভাইয়ের শ্বশুরের ছেলের সম্বন্ধি দফাদার আমি সরকারি লোক, আমি মোস্ট ভিআইপি। বাধাদানকারী লোকটি ওই ব্যক্তির কথা শুনে হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারে না।

প্রিয় পাঠক, আমরাও বুঝতে পারি না সত্যিকার ভিআইপি কে আর কেনই বা তারা এ সংস্কৃতির চাদর গায়ে দিয়ে দম্ভ দেখায়। কথাগুলো বলার কারণ সত্যিকার কোনো ভিআইপিকে ছোট বা হেয় করার জন্য না। আমাদের জনগণের কষ্টের কথাগুলো বলাই এর উদ্দেশ্য।

আর ভিআইপি সংস্কৃতি নিয়ে বলার প্রাসঙ্গিকতা এই যে, সম্প্রতি মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ১ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষকে বহনকারী একটি অ্যাম্বুলেন্স। ফেরি পার হয়ে ঢাকায় আসতে হবে দ্রুত। তা না হলে যে কোনো কিছু হতে পারে। কিন্তু ঘাট কর্তৃপক্ষ কিছুতেই সময়ের ফেরি সময়ে ছাড়তে পারবেন না। চারদিকে হৈ হৈ, চিংকার চেঁচামেচি। দুর্ঘটনায় আহত তিতাসের মা-বাবার চোখে তখন বিষ্ময়ের অশ্রু। কী করবে বুঝতে পারে না। তিতাসের মা লুটিয়ে পড়ে কর্তৃপক্ষের একজনের পায়ে। ছেড়ে দিতে বলেন ফেরি। তা না হলে তার ছেলেকে বাঁচানো যাবে না। কিন্তু মন গলেনি। তারও চাকরির ভয়। সয়ং ডিসি (উনিও ভিআইপি) সাহেব তাকে নির্দেশ দিয়েছেন সচিব সাহেব ঢাকায় যাবেন। তিনি বিশ্রাম নিয়ে ঢেকুর তুলতে তুলতে ঢাকায় যাবেন। সুতরাং যতো দেরিই হোক আপনার ঘাট থেকে ফেরি ছাড়া যাবে না। ওই বেচারি আর কি করবে? তারও চাকরির ভয় আছে। ফলাফল- মাথায় রক্তক্ষরণে আহত তিতাস ঘোষের মৃত্যু।

এ ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর সেই কমিটি নাকি সেই ডিসির নির্দেশেই হয়েছে যে ফেরি আটকাতে আদেশ দিয়েছিলেন। আর তদন্ত কমিটির ফলাফল কি হবে সেটা তো জনগণ জানেনই।

৩০ জুলাই সকালে নিজের ফেসবুক পেইজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি লিখেছেন, ‘‘রাস্তা কি আপনার? নাকি আপনার বাপ-দাদার? রাস্তা কেন বন্ধ থাকবে আপনার জন্য? ফেরি-রেল-বিমান কি আপনার টাকায় কেনা? কেন থেমে থাকবে এসব আপনার অপেক্ষায়? কেন লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিদিন কষ্ট পাবে আপনার আরামের জন্য? মানুষের করের টাকায় বেতন পান। আপনার গাড়িতে কেন থাকবে ফ্ল্যাগ?”

এটা তার নিজস্ব মন্তব্য। তিনি দেশের ট্যাক্সধারী একজন জনগণ হিসেবে কথাটা বলতেই পারেন। ফেইসবুক পেইজে ইতোমধ্যে তার হয়ে অনেকে দালালি শুরু করে দিয়েছেন। তিনি নাকি অসুস্থ রোগীর কথা জানলে যেকোনো ভাবে ব্যবস্থা করতেন।

আমার কথা হচ্ছে উনি একজন সাধারণ সচিব পর্যায়ের লোক। উনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন, বিসিএস দিয়ে চাকরি পেয়েছেন এতে সরকারের অনেক ভুর্তকি দিতে হয়েছে আর সেই টাকা তো জনগণের পকেট থেকেই গেছে। আর তিনি যে চাকরি করছেন সেটাও জনগণের সেবার জন্যই করছেন। তো জনগণের সেবক হয়ে তিনি ভিআইপি হন কিভাবে?

অধ্যাপক আসিফ নজরুল সাহেব ঠিকই বলেছেন। তার মতে, “প্রেসিডেন্ট আর প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কারো চলার সময়ে এক মিনিটও রাস্তা বন্ধ থাকতে পারবে না। মন্ত্রী পর্যায়ের নীচে কারো গাড়িতে ফ্ল্যাগ থাকতে পারবে না।’’

কথিত ভিআইপিদের কর্মকাণ্ডে মনে হয় গণতন্ত্রের সংজ্ঞাটাই ঠিক নেই। সবকিছুই নাকি জনগণের জন্যই। জনগণের কল্যাণের জন্যই নাকি সবকিছু পরিচালিত হবে। গণতন্ত্রের সেই বাণীতে আজ নীরবে নিভৃতে কাঁদছে। এদেশে যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই ভিআইপি সংস্কৃতিটির পরিবর্তন হওয়া দরকার। জনগণই যদি আপনাদের মূল চালিকাশক্তি হয়ে থাকে, এই জনগণের ট্যাক্সের টাকাই যদি আপনি ভিআইপি হয়ে থাকেন তো একবার তাদের কল্যাণের জন্য মানবিক হোন। পরিবর্তন করুন সেই পচা মানসিকতার। কারণ একদিন আপনিও জনগণ ছিলেন।

লেখক: মোমিন স্বপন, সাংবাদিক ও নাট্যকার

সিডনিতে এআইইউবি এলামনাই ‘উইন্টার ইভেন্ট’ অনুষ্ঠিত

নামিদ ফারহান : গত ২৮ জুলাই (রবিবার) সিডনীর মিন্টোস্থ  রণমুর মিলনায়তনে বাংলাদেশের বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে অন্যতম এআইইউবি এর এলামনাই অষ্ট্রেলিয়ার উইন্টার ইভেন্ট ২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়। ষষ্ঠ বারের মতো আয়োজিত এই পূণর্মিলনীতে এআইইউবির অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা অংশ গ্রহণ করেন।  প্রায় ২০০ এর অধিক প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের পরিবারদের উপস্থিতি একটি মিলনমেলায় রূপ নেয়।

অনুষ্ঠানে এআইইউবির প্রথম ব্যাচ থেকে শুরু করে সম্প্রতি স্নাতকোত্তীর্ন শিক্ষার্থী এবং সিডনী ও ক্যানবেরা থেকে বাংলাদেশী এবং প্রাক্তন নেপালী ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণ করে। 

পবিত্র কুরআন তেলওয়াত এবং  বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে দিনব্যাপী এই  অনুষ্ঠান শুরু হয় বেলা সাড়ে বারোটায়। এআইইউবির প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এবং সিডনীর প্রখ্যাত বাংলাদেশী ব্যান্ড ’কৃস্টি’ ও ‘এইট নোটস’ মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশন করে সবাইকে মাতিয়ে রাখে। এছাড়াও শিশুদের জন্য ছিল ফেইস পেইন্টিং ও নানাবিধ খেলার ব্যবস্থা।

অনুষ্ঠানের এআইইউবির প্রথম ব্যাচের সিনিয়র শিক্ষার্থী খায়রুল আজাদ বক্তব্যে এলামনাইয়ের আগামীর দিক নির্দেশনা পুর্বক কিছু প্রস্তাব রাখেন, যার মধ্যে নতুন মাইগ্রেন্ট হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রবাসের বাসস্থান ও কর্মসংস্হানের মাধ্যমে প্রাথমিক নানাবিধ সহযোগীতার কথা উল্লেখযোগ্য।

অনুষ্ঠানের শব্দ ও কারিগরি সহযোগীতায় ছিলেন তৃতীয় ব্যাচের বেলায়েত রবিন। দুপুরের খাবার পরিবেশনের পর প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল কুইজ প্রতিযোগিতা, মজার গেম শো ও পুরস্কার বিতরণী পর্ব। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নানা বিষয়ে মত-বিনিময়, পরবর্তী অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আলোচনা, ও শীতের বিকেলে বাংলাদেশের ঐতিহ্য মজাদার চা-মুড়ি পরিবেশনের মাধ্যমে এআইইউবি’র পরিচিত মুখ সাঈফ, শাহরিয়া মাহবুব এবং রায়হান সিদ্দিক এ বছরের শেষ নাগাদ মেলবোর্নে আরেকটি পূণর্মিলনীর আশ্বাস দিয়ে দিনব্যাপী এই চমৎকার অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য যে এআইইউবি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যলয়টি ১৯৯৪ সাল থেকে বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সাফল্যজনকভাবে বিশেষ ভুমিকা রেখে আসছে।

সিডনিতে বিডি ওপেন ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট শুরু

গত ২৮শে জুলাই (রবিবার) সিডনিতে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে বিডি ওপেন ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন প্লেয়ার্স এসোসিয়েশন আয়োজিত বাৎসরিক টুর্নামেন্টের এটি দশম সংস্করণ।

মাহমুদুল হাসানের সঞ্চালনায় ও এসোসিয়েশনের সভাপতি শামীম হোসেনের সভাপতিত্বে বিকাল সাড়ে পাঁচটায় টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। সভাপতি আগত অতিথি, খেলোয়াড়, স্পনসর ও টুর্নামেন্টের সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের ধন্যবাদ জানিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রশিদ ভূঁইয়া।

আগত অতিথিদের জন্য বিশেষ রাফেল ড্র এর কুপন বিতরণ করা হয়। লটারীর মাধ্যমে দুই জন বিজয়ীকে গিফট কার্ড প্রদান করা হয়। উপস্থিত সবাইকে চা ও হালকা নাস্তায় আপ্যায়িত করা হয়। এছাড়াও শিশুদের জন্য ছিল বিভিন্ন চকোলেট, ক্যান্ডি ও বেলুন।

অনুষ্ঠানে Pro RACQUET, Hurstville এর পক্ষ থেকে খেলোয়াড়দের মাঝে  খেলোয়াড়দের জন্য লটারীর মাধ্যমে ডিসকাউন্ট ভাউচার বিতরণ করা হয়। টুর্নামেন্টের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মিরাজ হোসেন, নির্মল তালুকদার , বাবু, মোর্শেদ, আদনান, আরমান, ঝন্টু প্রমুখ।

ইভেন্ট কোর্ডিনেটর এ বি কে এম আসাদুজ্জামান শাহীন জানান, বর্তমান শিরোপধারী রবিন-শাহেদ জুটি, রানার্স আপ মামুন সহ এই বছর ৩২ টি টিম  লটারির মাধ্যমে ৮ গ্রূপে অংশগ্রহণ করে। সেখান থেকে ১৬ টি টিম পরবর্তী রাউন্ডে প্রতিযোগিতা করবে। তিনি আরও জানান, টুর্নামেন্টের বাকি পর্ব ৩০ ও ৩১ জুলাই এবং সমাপনী, সহ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হবে আগামী ৪ অগাস্ট (রবিবার)।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন এসোসিয়েশন গত বছর হতে তার নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন প্লেয়ার্স এসোসিয়েশন নামে তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কি ভাবে এত কম সময়ে শেয়ার বাজারে এত ‘লস’ বা এত ‘লাভ’ হয়?

আমিও শেয়ার মার্কেট বা শেয়ার বাজারের এত ‘কম সময়ে বেশী লাভ বা বেশী লস’ এর বিষয়টা তেমন বুঝি না। দয়া করে কেউ কি বুঝিয়ে দেবেন, কি ভাবে এত ‘কম সময়ে শেয়ার বাজার থেকে শেয়ারে ক্ষুদ্র (১০ লাখ থেকে ১০০ লাখ টাকা) বিনিয়োগকারীরা সপ্তাহে সপ্তাহে হাজার হাজার টাকা লাভ প্রত্যাশা করে?? কি ভাবেই বা এত হাজার হাজার কোটি টাকা শেয়ার মার্কেট থেকে উধাও হয়ে যায়???

তবে, আমার ক্ষুদ্র জ্ঞ্যান আর অভিজ্ঞতা বলে, শেয়ার বাজার হচ্ছে এক ধরনের ‘কারসাজি’র খেলা! আর, শেয়ার মার্কেট সব দেশেই ‘জুয়া’ খেলার মত একটা ‘খেলা’।  এতুটুকু বুঝি এবং দেখেছি যে, শেয়ার বাজারের ‘খেলার মারপ্যাঁচ’ ও জটিল কুটিল বিষয় গুলি ভাল ভাবে  না জেনে, না বুঝে ‘খেলতে নামলে’ বিপদ বা লোকসান অনিবার্য। বাংলাদেশে কেন পৃথিবীর অনেক দেশে তাই হয় এবং হচ্ছে।

একটি বাস্তব উদাহরণ দেই, আমরা যেমন মাছ ধরার আগে পুকুরে মাছের খাবার বা “টোপ ” বা “আধার ” ফেলি, মাছ গুলোকে এক বিশেষ জায়গায় আনতে। তেমনি ভাবে, শেয়ারবাজার এর “কারিগর”রা এই ধরনের “টোপ ” ফেলে ২ বা ৩ সপ্তাহ বা আরো কিছু বেশী সময় ১০০০% থেকে ৫০০০% লাভ (কৃত্তিম ভাবে শেয়ার এর দাম বাড়িয়ে) দিয়ে লোভে ফেলে তাদের “শিকার” ধরে।

শেয়ার বাজার যদি অন্যান্য ব্যাবসার মত বা অঙ্কের মত ২ +২ = ৪ হয়  তাহলে কেউ শেয়ার বাজারেও “আসবে” না আর শেয়ার বাজারও “জমবে” না। এই চরম সত্যটা আমি ১৯৯৮ সালে (ICB ইউনিট বিক্রি করে) প্রায় ১০ লক্ষ টাকা শেয়ার মার্কেটে এ বিনিয়োগ করে পুরো টাকাটা খুইয়ে এই নির্মম সত্যটি বুঝেছি।

কারসাজির মাধ্যমে বাজার থেকে পাকা খেলোয়ড়রা কোটি কোটি টাকা লোপাট করে এবং করতেই থাকবে। শেয়ার মার্কেট এ বিনিয়োগ করে হাজার লক্ষ কোটি টাকা (লাভ) এত কম সময়ে কোত্থেকে আসবে?

এক জনের টাকা আরেক জনের পকেটে যায়। কাজটি সম্পূর্ণ বা আংশিক ‘অনৈতিক’। কিন্তু বেআইনী কী? আমি এখনও জানি না বুঝিও না। আমরা সব্বাই জানি যে, মুসলমানদের জন্য ব্যাঙ্কের সুদ খাওয়া ও সুদ দেওয়া এবং এই সুদ এর সাথে জড়িত থাকাও চরম অনৈতিক এবং ইসলাম ধর্মীয় দৃষ্টিতে বিশাল গুনহার কাজ।

কিন্তু তারপরেও কি কোটি কোটি মুসলমানরা এই সুদের (“রিবা”র) সাথে জড়িত না?  মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে সুদী ব্যাংক নেই?? আছে এবং বেশ ভাল ভাবেই আছে। কারন ব্যপারটি ধর্মীয় ভাবে অনৈতিক ও হারাম হলেও  কোন দেশেই তা বেআইনী নয়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে না।

এমনকি পৃথিবীর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে এই আধুনিক বা সুদী ব্যাঙ্কিং পদ্ধতি শুধু চলমানই না। ঐ সব মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের বেশ গুরুত্তপূর্ণ ও বড় অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান। ক্ষুদ্র বা/ও বড় বিনিয়োগ কারীদের নিকট আমার বিনীত জিজ্ঞাসা, এত কম কস্ট করে, কয়েক লক্ষ (বা কয়েক কোটি) টাকা দিয়ে, নামী বা বেনামী কোম্পানির কিছু “শেয়ার” কিনে, ঘরে বা অফিসে বসে যদি প্রতিদিন বা প্রতি মাসে হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ  টাকা লাভ বা পাওয়া যেত তাহলে, দেশের ছোট বড় শিল্পপতিরা আর ধনীরাও আমাদের চেয়ে আরও অনেক বেশী টাকা  (শত বা হাজার) কোটি কোটি টাকার “শেয়ার” কিনে ঘরে বা অফিসে বসে  প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা লাভ নিত বা পেত। কস্ট করে শিল্প-কল কারখানা দিতনা এবং তা কষ্ট করে পরিচালনাও করত না।

তাই যারা এমন কয়েক লক্ষ বা কোটি টাকা দিয়ে কিছু “শেয়ার” কিনে, ঘরে বা অফিসে বসে যদি প্রতিদিন হাজার হাজার বা মাসে লক্ষ টাকা লাভ পাওয়ার আশায় বসে বিনিয়োগ করে তারা আসলেই খুবই লোভী বা বেশী লোভী।

অতি লোভে, তাঁত যেমন নস্ট হয়ে যায় তেমনি অতি লোভ করাও পাপ আর সেই পাপে মৃত্যু ডেকে আনে। এবার আমার নিজের বোকামীর বা অতি লোভের কথা বলছি। আমি সেই ১৯৮৭ সাল থেকে প্রথমে ICB, পরে ICB AMCL (২০০৪ সাল থেকে), Bangladesh Fund এর  Unit Fund (২০১০ সাল থেকে) এ invest করে আজ অবধি বেশ লাভ (ডিভিডেন্ড) পাচ্ছি।

কিন্তু, মাঝ খানে ১৯৯৬ সালের শেয়ার বাজারের ঝটিকা লাভ দেখে এবং ১৯৯৭ সালে শেয়ার বাজারের পতন দেখে ১৯৯৮ সালে ICB এর (ডিভিডেন্ড) লাভ করা টাকা থেকে  প্রায় ১০ লক্ষ টাকা, শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করেছিলাম এক শেয়ার বাজার ‘বোদ্ধা’র মাধ্যমে।

কিন্তু, কম সময়ে বেশী লাভ করার মানসে শেয়ার বাজার বা শেয়ার মার্কেট এর পুরো জ্ঞান তো দুরের কথা নুন্যতম বা বেসিক জিনিস না বুঝে বিনিয়োগ করে পুরো টাকাটাই খুইয়েছি। সবশেষে  আমাদের অনেকের মত কম সময়ে “বেশী লাভ” পাওয়ার লোভে যারা শেয়ার বাজার বা শেয়ার মার্কেট সম্বন্ধে সঠিক ভাবে ও ভাল ভাবে না বুঝে জীবনের অনেক বা বড় অংশের বা সব সঞ্চয় বিনিয়োগ করে বিশাল লসের শিকার হয়েছেন তাঁদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।

লেখকঃ শফিকুর রহমান অনু

অকল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড প্রবাসী

আজ রিয়াশার জন্মদিন

আজ ২৭ শে জুলাই, দেখতে দেখতে আমার মেয়েটা আজ আঠারো তে পা দিল। সময় কত দ্রুত চলে যায়, মনে হয় এই তো সেদিন শুক্রবার সকালে দশটায় রিয়াশার জন্ম হলো সিডনি রয়েল প্রিনস আলফ্রেড হাসপাতালে, আমার কোল জুড়ে আসলো আমাদের একমাত্র মেয়ে এবং রাতুলের একমাত্র আদরের বোন। সকুল ছুটির পরে যখন রাতুল শুনলো ওর আদরের একটা বোন হয়েছে, খুশীতে হাউমাউ করে কেদেঁছিল। হাসপাতালে এসে বোনকে চেপে ধরে রেখেছিল, বাসায় যেতে চাইছিল না, আমার সংগে বোনকে নিয়ে হাসপাতালেই থাকবে।

রিয়াশা আমাদের পরিবারের অর্থত আমার বাবা মায়ের প্রথম নাতিন। সেদিন ঢাকায় আমাদের বাসায় ও সবাই যেন ঈদ এর খুশীতে আনন্দিত ছিল। ফোনে যখন খবর পেলো মেয়ে হয়েছে, আমার ছোট  বোন ফোন হাতে নিয়ে খুশীতে হাউমাউ করে কেঁদে বলছিল মেয়ে হয়েছে, আমমা বুঝতে পারছিলেন না কি বলছে ভেবেছিলেন বোধ হয় খারাপ কিছু। এই ছিল সেদিনের অবস্হা।

এক বছরের মেটারনিটি লিভে ছিলাম রিয়াশার চার মাস বয়সে ঐ বছরে নভেম্বর সপরিবারে দুই মাসের জন্য বাংলাদেশে গেলাম পথে সিংগাপুরে তিনদিন থাকলাম। ঐ বছরটা যেন খুশি আনন্দেই কাটছিল প্রতিটা দিন। বাংলাদেশে সবাই অপেক্ষা  করছিল কখন রিয়াশা কে দেখবে, ওর দাদুর বাড়ি নানুর বাড়ি আনন্দের এক মহা বন্যা বয়ে গেল। পাচঁ পাচঁটি নাতির পরে আববা আমমার আদরের নাতিন আসলো, গোসল করানো, ঘুম পাড়ানো, খাওয়ানো নিয়ে সবাই মহা ব্যস্ত হয়ে গেলো।  আমাদের বাসাটা তখন ছিল যমজমাট, আব্বা-আম্মা, দুই ভাই তাদের পরিবার, ছোট দুই বোনের বিয়ে হয়নি তখনো ওরা পড়াশোনা করছে, সবাই একসাথে থাকতো। বাসাটি ছিল এখনকার অপোজিট, খুবই জমজমাট ছিল, বিকাল হলে নানা রকমের নাসতার ধুম পরে যেতো, হৈ চৈ আনন্দ লেগেই ছিল। সময়ের সাথে সাথে জীবনের বিরাট পরিবর্তন।  

 যাই হউক, প্রেগনেনট অবস্থায় আমি যখন ডাক্তার এর কাছে জেনেছি মেয়ে হওয়ার সম্ভাবনা বেশী, সেদিন থেকেই কেনা কাটা বাচ্চার প্রয়োজনীয় জিনিস যাই কিনতাম  সবই যেন পিংক কালারের হতে হবে, মেয়ের একটা থিম থাকতে হবে।

বাচচারা যখন ছোট ছিল মনে হতো কবে বড় হবে। এখন মনে হয় ছোট ছিল ভালোই ছিল।

আল্লাহ রিয়াশা কে যেন সবসময় সুস্থ ও নিরাপদে রাখেন এবং সৎ আদর্শবান মানুষ হিসাবে জীবনে বেড়ে উঠতে পারে এই প্রার্থনা রইলো আল্লাহর কাছে।

লেখিকা: রওশন পারভীন, সিডনি

অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার আয়োজিত কুরবানী

অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় মুসলিম উম্মাহর জন্য এবারও পবিত্র কুরবানীর ব্যবস্থা করেছে। নীচের “ডাউন লোড” লিঙ্ক থেকে কুরবানীর ফর্ম নামিয়ে নেওয়া যাবে। ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১০ আগস্ট (শনিবার)। সেন্টার কমিটি জানান, আগামী ১৪ অগাস্ট (বুধবার) দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫ টার মধ্যে ১৩-১৭ ইগেলভিউ রোড, মিন্টুস্থ অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার থেকে কুরবানীর মাংস সংগ্রহ করা যাবে।

মধ্যবিত্ত ভালোবাসা

এমন বিষন্ন বৃষ্টিমাখা বিকেলে,

ক্লাস ফাঁকি দিয়ে তোমার ডিপার্টমেন্টের সামনের টং দোকানের

পলিথিনের নিচে কাক ভেঁজা হয়ে আশ্রয় নিতাম

মামা লজ্জার হাসি দিয়ে

বেশি লিকারের চা হাতে দিয়ে বলতো

“আফা আইসে আইজকা, আমি নিজে দেখসি, মামা , টুলে বসেন “

আমি পানসে শীতল চায়ের চুমুকে

অপেক্ষার প্রহর গুনতাম।

সময় থমকে গেলে হুশ করে রাস্তার পানি ছিটিয়ে

দ্রুত চলে যেত কোন প্রাইভেট কার

মধ্যবিত্ত প্রেমিক আমি

বৃষ্টির পানি থেকে বই গুলি বাঁচানোর যুদ্ধে লিপ্ত।

সন্ধ্যে নামলে,

রাস্তার নিয়ন আলো জ্বলে উঠতো।

আমার পায়ের কাছের কুকুরটাও

একসময় চলে যেত জীবনের প্রয়োজনে।

তোমার জন্য করা প্রতীক্ষাও আমার মধুর লাগতো খুব।

পাখি ডাকা ক্লান্ত দিনের শেষে তোমার ক্লাস শেষ হলে,

আরও অনেক রঙিন ছেলে-মেয়ের সাথে

তুমি হেলে দুলে বেড়িয়ে আসতে।

আমি একটু এগিয়ে গেইটের কাছে দাঁড়াতাম,

বিভ্রান্ত নিজেকে আড়াল করে তোমাকে একটু কাছে থেকে দেখার চেষ্টা..

বৃষ্টির দোহাই দিয়ে ডিপার্টমেন্টের বখাটে বড় ভাইয়াটা

কালো গ্লাসের পাজেরোতে তোমায় উঠিয়ে নিতো

বিষাক্ত ধোঁয়া তুলে আমায় অবহেলায় ফেলে রেখে চলে যেতে তুমি।

জ্বরে কেঁপে আমি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতাম,

যদি জানালা খুলে এলো চুলে একবার পেছনে তাকাও।

আমি জানতেও পারতাম না,

সেই বিশ্রী হাত তোমায় ছুঁতে চাইতো কিনা!

সেবারও বর্ষা ছিল,

শেষ সেমিস্টারের আগে টানা নয় দিন ক্লাসে আসোনি।

মামুর দোকানে আমার অনেক চা এর বিল বাকি পড়ে গেলো

রাত করে বাড়ি ফিরেছি, তোমার দেখা পাইনি,

বাবার কত বকুনি খেয়েছি…

যেদিন এলে,

তোমার হাত ভরা মেহেদী দেখেছিলাম।

হৃদয় চিরে নিলে রক্তের যে রং হয়

তেমন..

সরকারী ভার্সিটির একটি অতি সাধারণ

গরীব ছেলে একবুক ভালোবাসা

তোমার জন্য জমিয়ে রেখেছিল,

দিতে পারেনি।

আজও ভালোবাসা বোঝা হয়ে আছে

তুমি জানলেও না।

আমার এখন কালো গ্লাসের দামি গাড়ি আছে

খুব জানতে ইচ্ছে করে,

তুমি সুখে আছো তো?

রুবেল, সিডনী

ছোলা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

ছোলা উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ একটি খাবার। এটি কাঁচা, সিদ্ধ বা রান্না করেও খাওয়া যায়৷ কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে, খোসা ছাড়িয়ে, আদার সঙ্গে খেলে শরীরে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি হয়।

এছাড়া কাঁচা ছোলা খেলে আরও যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-

১. কাঁচা ছোলায় পরিমিত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি-১, বি-২, বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন, খনিজ লবণ, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফসফরাস রয়েছে৷ প্রতিদিন সকালে এটি খেলে শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি পাওয়া যায়।

২. ছোলায় প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন সমৃদ্ধ অ্যাসিড থাকে৷ গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি পরিমাণ ফলিক অ্যাসিড খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করলে নারীদের কোলন ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। এছাড়া ফলিক অ্যাসিড রক্তের অ্যালার্জির পরিমাণ কমিয়ে অ্যাজমার প্রকোপও কমিয়ে দেয়৷

৩. অস্ট্রেলিয়ান গবেষকরা বলছেন, খাবারে ছোলা যুক্ত করলে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়৷ ছোলাতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ধরনের খাদ্য আঁশ থাকায় এটি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়৷ এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যারা প্রতিদিন ৪ হাজার ৬৯ মিলিগ্রাম ছোলা খায়, হৃদরোগে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি শতকরা ৪৯ ভাগ কমে যায়৷

৪. ছোলায় শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম৷ এ কারণে এটি ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য উপকারী।

৫. ছোলায় প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন বি থাকায় এটি মেরুদণ্ডের ব্যথা, স্নায়ুর দুর্বলতা কমায়৷

৬. ছোলায় ভালো পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড আছে৷ এ কারণে নিয়মিত ছোলা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে৷